সিটংয়ের হোমস্টেতে বারবিকিউয়ের আগুনে নববধূর ৬০ শতাংশ দগ্ধ, প্রশ্ন জরুরি ব্যবস্থায়

যা জানা জরুরি
- দার্জিলিংয়ের সিটংয়ে একটি হোমস্টেতে বারবিকিউ করার সময়ে আগুন ছড়িয়ে নববধূ নিকিতা দাসের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে তাঁর স্বামী জানিয়েছেন।
- ১৩ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনাটির ভিডিয়ো ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসার পরে পর্যটন আবাসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা-ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা সৌভিক দাস ও নিকিতার বিয়ে হয়েছিল প্রায় এক মাস আগে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দার্জিলিংয়ের সিটংয়ে একটি হোমস্টেতে বারবিকিউ করার সময়ে আগুন ছড়িয়ে নববধূ নিকিতা দাসের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে তাঁর স্বামী জানিয়েছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনাটির ভিডিয়ো ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসার পরে পর্যটন আবাসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা-ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা সৌভিক দাস ও নিকিতার বিয়ে হয়েছিল প্রায় এক মাস আগে। মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে তাঁরা হোমস্টে কর্মীদের কাছে বারবিকিউয়ের ব্যবস্থা চান। রাত প্রায় সাড়ে আটটার সময়ে এক কর্মী ভুট্টা সেঁকছিলেন। সৌভিকের অভিযোগ, আগুন বাড়াতে দাহ্য তরল ঢালার সময় সেই তরল নিকিতার গায়ে ছিটকে পড়ে এবং মুহূর্তে আগুন ধরে যায়।
প্রকাশিত ভিডিয়োয় দেখা যায়, সৌভিক স্ত্রীর দিকে ছুটে যাচ্ছেন এবং কর্মী নিজের জামা খুলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। ভিডিয়োটি ঘটনাপ্রবাহের একটি অংশ দেখায়; কোন তরল ব্যবহার হয়েছিল, পাত্রটি কীভাবে রাখা ছিল এবং প্রশিক্ষিত কর্মী উপস্থিত ছিলেন কি না—তা পুলিশি তদন্তে নিশ্চিত করতে হবে।
সৌভিকের হাতও পুড়েছে। তাঁর দাবি, হোমস্টেতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না এবং দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার গাড়িও পাওয়া যায়নি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে নিকিতাকে শিলিগুড়ির হাসপাতালে আনতে হয়। পাহাড়ি এলাকায় রাতের পরিবহণ ও কাছাকাছি পূর্ণাঙ্গ দগ্ধ-চিকিৎসাকেন্দ্রের অভাব আঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত চলার কথা জানিয়েছেন। হোমস্টে মালিকের বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই কর্মীর কাজ, মালিকের দায় বা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ—কোনওটিই এখনও প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়।
বারবিকিউয়ের জ্বলন্ত কয়লা বা আগুনে সরাসরি দাহ্য তরল ঢালা বিপজ্জনক। শিখা তরলের ধারা ধরে পাত্রের দিকে ফিরে যেতে পারে, বাষ্প আচমকা জ্বলে উঠতে পারে এবং ছিটকে থাকা তরল পোশাকে লেগে আগুন দ্রুত ছড়ায়। অতিথির খুব কাছে এই কাজ করা উচিত নয়। আগুন নেভানোর উপযুক্ত যন্ত্র, অগ্নিরোধী কম্বল এবং প্রশিক্ষিত কর্মী থাকা প্রয়োজন।
হোমস্টে পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট পরিবার-চালিত আবাস স্থানীয় আয় বাড়ায় এবং বড় হোটেলের বাইরে পর্যটককে গ্রামে থাকার সুযোগ দেয়। কিন্তু ‘বাড়ির মতো’ পরিবেশের অর্থ নিরাপত্তাবিধি শিথিল করা নয়। রান্নার জায়গা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, অগ্নিনির্বাপক, জরুরি নম্বর ও অতিথি পরিবহণের ন্যূনতম মান থাকা দরকার।
বিশ্লেষণ: ঘটনাটিকে শুধু একজন কর্মীর ভুল বলে শেষ করলে বৃহত্তর ঝুঁকি আড়াল হবে। পর্যটন দপ্তরকে দেখতে হবে নিবন্ধিত হোমস্টেগুলির কতটিতে অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষা হয়েছে, পাহাড়ি ব্লকভিত্তিক রাতের অ্যাম্বুল্যান্স কোথায় এবং গুরুতর দগ্ধ রোগী কোন হাসপাতালে যাবেন।
একই সঙ্গে ভিডিয়ো ছড়িয়ে ভুক্তভোগীর দুর্দশাকে দর্শনীয় বস্তু বানানো উচিত নয়। তদন্তের প্রয়োজনীয় অংশ ছাড়া পরিচয় ও দৃশ্যের পুনঃপ্রচার সীমিত রাখা দরকার। ন্যায়বিচারের অর্থ শুধু অপরাধী চিহ্নিত করা নয়; চিকিৎসার খরচ, দীর্ঘ পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে একই দুর্ঘটনা ঠেকানোর বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও তার অংশ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



