খবর

দলবদলে ১০ বিধায়ককে নোটিস, ৭ দিনের উত্তরেই চূড়ান্ত রায় নয়

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সচিবালয় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত দশ বিধায়ককে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে নোটিস পাঠিয়েছে।
  • তাঁদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত উত্তর দিতে বলা হয়েছে।
  • নোটিস পাওয়া বিধায়কেরা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান ও রথীন…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সচিবালয় তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত দশ বিধায়ককে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে নোটিস পাঠিয়েছে। তাঁদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত উত্তর দিতে বলা হয়েছে। নোটিস পাওয়া বিধায়কেরা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান ও রথীন ঘোষ।

তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৭ জুলাই তাঁদের সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ, বিধায়কেরা দলীয় অবস্থান ত্যাগ করে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের বক্তব্য না-শুনে সেই অভিযোগ প্রমাণিত ধরে নেওয়া যাবে না। বর্তমান নোটিস বিচারপ্রক্রিয়ার সূচনা; এটি বহিষ্কার, সদস্যপদ বাতিল বা অপরাধের রায় নয়।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরে দলের ভিতরে নেতৃত্ব ও পরিষদীয় কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিদ্রোহী শিবির নিজেদের সঙ্গে ৬৫ জন, কখনও ৮০ জন পর্যন্ত বিধায়কের সমর্থনের দাবি করেছে। সংখ্যাগুলি সংশ্লিষ্ট শিবিরের রাজনৈতিক দাবি; বিধানসভার আনুষ্ঠানিক নথি বা প্রত্যেক বিধায়কের প্রকাশ্য স্বাক্ষরিত সমর্থন দিয়ে পুরোটা এখনও প্রতিষ্ঠিত নয়।

বিরোধটি বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি নিয়েও বিস্তৃত হয়েছে। কোন গোষ্ঠী মূল দল, পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব কার হাতে এবং নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার কে পাবে—এই প্রশ্নগুলি সম্পর্কিত হলেও আইনগতভাবে এক নয়। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বিধায়কের সদস্যপদ নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে না।

সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনও নির্বাচিত সদস্য স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ছেড়ে দিলে অথবা নির্দিষ্ট দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ভোট দিলে অযোগ্য হতে পারেন। লিখিত পদত্যাগ না-করলেও আচরণ থেকে সদস্যপদ ত্যাগের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কখনও সম্ভব। তবে কেবল নেতৃত্বের সমালোচনা, সভায় অনুপস্থিতি বা ভিন্ন মত প্রকাশ প্রতিটি ক্ষেত্রে অযোগ্যতার জন্য যথেষ্ট কি না—তা নির্ভর করে প্রমাণ ও ঘটনার উপর।

আগে আইনে এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের পৃথক গোষ্ঠী গড়ার ছাড় ছিল; সেই ‘স্প্লিট’ ব্যতিক্রম বহু আগেই তুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের বৈধ সংযুক্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু কতজন বাস্তবে কোথায় গিয়েছেন, অন্য কোনও স্বীকৃত দলের সঙ্গে সংযুক্তি হয়েছে কি না এবং পদক্ষেপটি ব্যক্তিগত দলত্যাগ নাকি আইনি সংযুক্তি—এসব নথি ছাড়া শুধু সংখ্যার দাবি সিদ্ধান্ত দেয় না।

স্পিকার বা তাঁর পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে প্রত্যেক বিধায়কের উত্তর, প্রকাশ্য বক্তব্য, সভায় অংশগ্রহণ, হুইপ এবং দলীয় নথি আলাদাভাবে দেখতে হবে। একই ভাষার সমষ্টিগত আদেশ দিলেও ব্যক্তিগত ভূমিকার প্রমাণ প্রয়োজন। সিদ্ধান্তে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে নির্বাচনী এলাকার মানুষ অনিশ্চয়তায় থাকেন; আবার তাড়াহুড়ো করলে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত সাধারণত প্রক্রিয়ার আইনসঙ্গততা ও সিদ্ধান্তে বিলম্ব পরীক্ষা করতে পারে; পরিষদীয় সংখ্যার রাজনৈতিক নিষ্পত্তির প্রথম মঞ্চ বিধানসভাই। আদালতে মামলা রয়েছে বলে সচিবালয়ের নোটিস অর্থহীন নয়, আবার নোটিস হয়েছে বলে বিচারিক পর্যালোচনাও বন্ধ হয় না।

এই বিরোধের তাৎপর্য দশটি আসনের চেয়ে বড়। নির্বাচিত প্রতিনিধি দল বদলালে ভোটারের ম্যান্ডেট রক্ষা প্রয়োজন; একই সঙ্গে দলত্যাগ-বিরোধী আইন যেন নেতৃত্বের সমালোচনা বন্ধ করার অস্ত্র না হয়। নোটিস, উত্তর, শুনানির তারিখ ও যুক্তিসহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করলে রাজনৈতিক দাবির বদলে যাচাইযোগ্য নথি পাওয়া যাবে। সাত দিনের উত্তর একটি ধাপ—কে বিধায়ক থাকবেন, তার শেষ সিদ্ধান্ত নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles