একশো ঘণ্টার দরকষাকষিতে ইরান–আমিরশাহীকে একই বাক্যে আনল ভারত

যা জানা জরুরি
- ব্রিকসের দিল্লি ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সম্মতি পাওয়া ছিল সম্মেলনের সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক কাজ।
- ভারতীয় কূটনীতিকদের প্রায় একশো ঘণ্টার আলোচনা, সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরে বারবার যোগাযোগ এবং চিন, রাশিয়া, মিশর ও ব্রাজিলের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য তৈরি হয়।
- ইরান নিজের উপর আক্রমণ, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের ভূমিকার উল্লেখ চাইছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ব্রিকসের দিল্লি ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সম্মতি পাওয়া ছিল সম্মেলনের সবচেয়ে কঠিন কূটনৈতিক কাজ। ভারতীয় কূটনীতিকদের প্রায় একশো ঘণ্টার আলোচনা, সর্বোচ্চ রাজনৈতিক স্তরে বারবার যোগাযোগ এবং চিন, রাশিয়া, মিশর ও ব্রাজিলের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য তৈরি হয়।
সমস্যাটি শুধু ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে ছিল না। ইরান নিজের উপর আক্রমণ, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের ভূমিকার উল্লেখ চাইছিল। উপসাগরীয় দেশগুলি তাদের ভূখণ্ড, জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ইরানি পদক্ষেপের স্পষ্ট নিন্দা চেয়েছিল। এক পক্ষের ভাষা পুরো গ্রহণ করলে অন্য পক্ষ ঘোষণা থেকে সরে যেতে পারত।
সম্মেলনের আগে তৈরি হওয়া সীমিত যুদ্ধবিরতির সুযোগ আলোচনায় সাহায্য করে। দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আবু ধাবির যুবরাজের বৈঠকও উত্তেজনা কমায়। এই সাক্ষাৎ স্থায়ী সমঝোতা নয়, কিন্তু একই সম্মেলনে মুখোমুখি আলোচনার রাজনৈতিক মূল্য ছিল।
ভারতের সুবিধা ছিল দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক। ইরানের সঙ্গে চাবাহার বন্দর, মধ্য এশিয়ায় যোগাযোগ এবং ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্য দিকে আমিরশাহী ও সৌদি আরব ভারতের প্রধান জ্বালানি, বিনিয়োগ ও প্রবাসী-কর্মসংস্থানের অংশীদার। দিল্লি কোনও এক পক্ষের শিবিরে পুরোপুরি গেলে মধ্যস্থতাকারীর জায়গা হারাত।
যৌথ ঘোষণার ভাষা আপসের ফল। তাই কোনও পক্ষের সর্বোচ্চ দাবি সেখানে নেই। কূটনৈতিক নথিতে এই অস্পষ্টতা অনেক সময় দুর্বলতা নয়; আলোচনা চালু রাখার জায়গা। তবে অতিরিক্ত অস্পষ্টতা হলে দায় নির্ধারণ বা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের পথও পাওয়া যায় না।
ভারতের অভ্যন্তরীণ স্বার্থও সরাসরি যুক্ত। হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ে, রুপির উপর চাপ পড়ে এবং আমদানির খরচ সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছয়। উপসাগরে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কাজ করেন। আঞ্চলিক সংঘাত বাড়লে তাঁদের নিরাপত্তা ও দেশে ফেরানোর প্রশ্নও আসে।
এই ঐকমত্যকে শান্তিচুক্তি বলা যাবে না। ব্রিকসের কোনও প্রয়োগক্ষম সামরিক বা আইনি ব্যবস্থা নেই। সদস্যরা ঘোষণা মানতে বাধ্যও নয়। কিন্তু যুদ্ধরত বা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা দেশগুলিকে একটি সাধারণ ভাষায় আনা ভবিষ্যৎ আলোচনার ন্যূনতম ভিত্তি তৈরি করে।
ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য এখন অনুসরণমূলক পদক্ষেপের উপর নির্ভর করবে। বন্দি বা আটকে পড়া নাবিক, জাহাজের নিরাপত্তা, মানবিক সাহায্য এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলাদা যোগাযোগ শুরু হলে দিল্লির একশো ঘণ্টা বাস্তব মূল্য পাবে। না-হলে কঠিন ঐকমত্য কেবল শব্দের কৌশল হয়েই থাকবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



