সুড়ঙ্গের ভিতরে ‘বৃষ্টির’ মতো ঝরছে জল, চার দিন ধরে আটকে বহু মানুষ

যা জানা জরুরি
- নেপালের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার চার দিন পরেও রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন বহু শ্রমিক।
- তাঁদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী ও বিশেষজ্ঞ দল অভিযান চালালেও সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল, কাদা এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে প্রতিটি মুহূর্তে বাড়ছে বিপদ।
- রাসুয়ার একটি সুড়ঙ্গের ভিতরের সাম্প্রতিক দৃশ্য প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নেপালের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার চার দিন পরেও রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন বহু শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী ও বিশেষজ্ঞ দল অভিযান চালালেও সুড়ঙ্গের ভিতরে জমে থাকা জল, কাদা এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে প্রতিটি মুহূর্তে বাড়ছে বিপদ।
রাসুয়ার একটি সুড়ঙ্গের ভিতরের সাম্প্রতিক দৃশ্য প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস। প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ ওই সুড়ঙ্গে অন্তত ছ’জন আটকে রয়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের প্রায় ১৩০ মিটার ভিতরে পৌঁছতে পেরেছিলেন।
দৃশ্যগুলিতে দেখা যাচ্ছে, ঘন অন্ধকারের মধ্যে হাতে আলো নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের দেওয়াল ও ছাদ চুঁইয়ে অনবরত জল পড়ছে। দেখে মনে হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভিতরেই যেন বৃষ্টি হচ্ছে। মেঝেতে জমে রয়েছে জল ও কাদা। কোথাও কোথাও ধ্বংসাবশেষ পথ আটকে রেখেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকারীদের হাতের আলোই একমাত্র ভরসা।
রাসুয়া ও নুয়াকোটে মোট ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। তার মধ্যে পাঁচটির নির্মাণকাজ এখনও চলছে। একটি প্রকল্পে আবার একাধিক সুড়ঙ্গ থাকতে পারে। ফলে সরকারি হিসাবে যত জনের আটকে থাকার কথা বলা হচ্ছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলিতে নেপালের পাশাপাশি ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির নাগরিকেরাও কাজ করছিলেন।
বন্যাবিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাগুলিতে আগের রাত পর্যন্ত ৯৩৪ জন নিখোঁজ বলে নথিভুক্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩৬১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে। তবে বহু সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ কাদা ও পাথরে চাপা পড়ে যাওয়ায় ভিতরে ঠিক কত জন রয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নেপালি সেনাবাহিনী এর আগে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে কয়েকশো শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু অন্য সুড়ঙ্গগুলির পরিস্থিতি আরও জটিল। রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ায় ভারী উদ্ধারযন্ত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারছে না। পাহাড়ি আবহাওয়া এবং ফের হড়পা বান নামার আশঙ্কাও অভিযান ব্যাহত করছে।
ভারত সুড়ঙ্গ উদ্ধারে অভিজ্ঞ একটি বিশেষজ্ঞ দল নেপালে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। চিন থেকেও ছয় সদস্যের একটি কারিগরি দল রাসুয়ায় পৌঁছেছে। নেপালি সেনার সঙ্গে যৌথভাবে তারা সুড়ঙ্গের কাঠামো ও ভিতরের পরিস্থিতি পরীক্ষা করছে। উদ্ধারকারীদের প্রধান আশঙ্কা—জল ও কাদার চাপ সামান্য বাড়লেই সুড়ঙ্গের কোনও অংশ ধসে পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও চার দিন ধরে অন্ধকারে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা এখনও ছাড়ছেন না তাঁরা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



