খবর

সুভাষ চন্দ্র মামলা: ব্যক্তিগত জামিনদারের কাছে ২২ হাজার কোটির দাবি, ব্যাঙ্ক পাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৬ কোটি কেন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ঝি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্বের মামলায় জাতীয় কোম্পানি আইন বিচারপীঠ বা এনসিএলটি যে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, তা ঘিরে তীব্র…
  • নথি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ঋণদাতাদের মোট ২২,০০৬ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার দাবি গৃহীত হয়েছিল।
  • অথচ অনুমোদিত পরিকল্পনায় সুভাষ চন্দ্র দেবেন মাত্র ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ঝি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্বের মামলায় জাতীয় কোম্পানি আইন বিচারপীঠ বা এনসিএলটি যে ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, তা ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। নথি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ঋণদাতাদের মোট ২২,০০৬ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার দাবি গৃহীত হয়েছিল। অথচ অনুমোদিত পরিকল্পনায় সুভাষ চন্দ্র দেবেন মাত্র ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। আপাতদৃষ্টিতে ঋণদাতাদের ক্ষতির হার ৯৯.৯৭ শতাংশ।

তবে এই হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক রয়েছে। সুভাষ চন্দ্র নিজে ২২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেননি। এসেল বা ঝি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া ঋণের জন্য তিনি ব্যক্তিগত জামিনদার হয়েছিলেন। মূল ঋণগ্রহীতা সংস্থা টাকা ফেরত না দিলে ভারতীয় চুক্তি আইন অনুসারে ব্যাঙ্ক একই অর্থ সংস্থা এবং জামিনদার—দু’পক্ষের কাছেই দাবি করতে পারে।

এর ফলে একই ঋণের সম্পূর্ণ অঙ্ক সংশ্লিষ্ট সংস্থার দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জামিনদারের দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়াতেও দাবি হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে। কিন্তু ব্যাঙ্ক একই ঋণের টাকা দু’বার আদায় করতে পারে না। সুভাষ চন্দ্রের কাছ থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকা মেনে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে মূল ঋণগ্রহীতা সংস্থা কিংবা বন্ধক রাখা সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কের দাবি মুছে গেল। সেই পথগুলি এখনও খোলা থাকবে বলে সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা। তাই ২২ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই ব্যাঙ্কের নতুন ক্ষতি—এ কথা সম্পূর্ণ ঠিক নয়।

তা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জামিনের ক্ষেত্রে আদায় এত কম হওয়ার কারণ কী? ব্যক্তিগত জামিন ঋণ ফেরতের অতিরিক্ত আইনি নিশ্চয়তা দেয়, কিন্তু তার সঙ্গে জামিনদারের পর্যাপ্ত সম্পত্তি থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। এনসিএলটিতে পেশ করা পরিকল্পনায় দাবি করা হয়, সুভাষ চন্দ্রের বিক্রয়যোগ্য ব্যক্তিগত সম্পত্তি অত্যন্ত সীমিত। দেউলিয়া ঘোষণা করে সম্পত্তি বিক্রি করলেও প্রক্রিয়ার খরচ মিটিয়ে ঋণদাতাদের হাতে প্রায় কিছুই আসবে না। সেই যুক্তিতেই সাড়ে ছয় কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ঋণদাতাদের ৮০.৮১৪ শতাংশ ভোটে পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হয়। দেউলিয়াত্ব আইনে নির্ধারিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হলে বিচারপীঠ সাধারণত ঋণদাতাদের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে না। এই কারণেই কানাড়া ব্যাঙ্ক, ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক এবং অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আপত্তি সত্ত্বেও পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেয়েছে।

আপত্তিকারী ঋণদাতাদের প্রশ্ন, ২০১৮ সালে যাঁর ঘোষিত নিট সম্পদের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল, তাঁর বর্তমান সম্পদ এত কম হল কীভাবে? সম্পত্তি হস্তান্তর বা গোপন করা হয়েছিল কি না, তার আরও গভীর অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে। এই জায়গাতেই ব্যাঙ্কগুলির আসল ঝুঁকি: ব্যক্তিগত জামিন কার্যকর করার সময় জামিনদারের নামে যদি আদায়যোগ্য সম্পত্তি না থাকে, কাগজে বিপুল দাবি থাকলেও বাস্তবে উদ্ধার সামান্যই হয়। কয়েকটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এখন এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিলের কথা বিবেচনা করছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles