এল-সায়েদের মন্তব্যে ঊষার হাসি

যা জানা জরুরি
- আবদুল এল-সায়েদের সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ ঊষা ভ্যান্স।
- তাঁর ভারতীয় বংশপরিচয় নিয়ে স্বামী জেডি ভ্যান্সের পরিবার তাঁকে আদৌ গ্রহণ করত কি না—এল-সায়েদের মন্তব্য ঘিরে এমন প্রশ্ন উঠলেও ঊষার বক্তব্য, ওহায়োয় স্বামীর আত্মীয়েরা…
- বিতর্কের সূত্রপাত জেডি ভ্যান্সের একটি বক্তব্যকে ঘিরে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আবদুল এল-সায়েদের সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ ঊষা ভ্যান্স। তাঁর ভারতীয় বংশপরিচয় নিয়ে স্বামী জেডি ভ্যান্সের পরিবার তাঁকে আদৌ গ্রহণ করত কি না—এল-সায়েদের মন্তব্য ঘিরে এমন প্রশ্ন উঠলেও ঊষার বক্তব্য, ওহায়োয় স্বামীর আত্মীয়েরা তাঁকে বরাবরই আপনজনের মতোই দেখেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত জেডি ভ্যান্সের একটি বক্তব্যকে ঘিরে। প্রয়াত দাদুকে তিনি ‘পাপও’ বলে ডাকতেন। ভ্যান্স বলেছিলেন, অতীতে ফিরে গিয়ে দাদুকে জানাতে ইচ্ছে করে যে, শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করা এক রাজনীতিক শরিয়তি আইন সমর্থন করছেন এবং তাঁর সমালোচনাকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের প্রকাশ বলে দেখছেন।
ভ্যান্সের কথায়, “এটা আমার দাদুর সময়কার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নয়।”
এর জবাবেই ২২ অগস্ট সামাজিক মাধ্যমে এল-সায়েদ লেখেন, “তা হলে আমাদের কী মনে হয়, জেডি যখন অতীতে পাপওর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন, ঊষাকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন, নাকি না…”
ওই পোস্টে ঊষার জাতি বা বংশপরিচয়ের সরাসরি উল্লেখ ছিল না। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, ভ্যান্সের শ্বেতাঙ্গ দাদু-ঠাকুমা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঊষাকে মেনে নিতেন কি না, সে দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন এল-সায়েদ। সেখান থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ ওঠে।
মন্তব্যটির প্রকৃত অর্থ জানতে ফক্স নিউজ ডিজিটাল যোগাযোগ করলেও এল-সায়েদের প্রচারশিবির কোনও জবাব দেয়নি।
পরে এমএস নাউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন এল-সায়েদ। তাঁর দাবি, কারও পরিবারের পূর্বপুরুষেরা বহু আগে আমেরিকায় এসেছিলেন বলেই সেই পরিবারের সদস্যেরা অন্যদের চেয়ে বেশি ‘আমেরিকান’—এই ধারণাকেই তিনি প্রশ্ন করেছিলেন।
এল-সায়েদের কথায়, “বিভ্রান্তিকর বিষয়টি হল, তিনি মনে করেন কিছু মানুষ অন্যদের চেয়ে বেশি আমেরিকান, কারণ তাঁরা দেখাতে পারেন যে তাঁদের পাপও আরও আগে থেকে এখানে ছিলেন।”
‘ওঁদের সঙ্গে দেখা হলে ভাল লাগত’
ঊষা অবশ্য মন্তব্যটির সম্ভাব্য বর্ণগত ইঙ্গিত নিয়ে সরাসরি তর্কে যাননি। বরং জেডি ভ্যান্সের দাদু-ঠাকুমা এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাই সামনে এনেছেন।
মন্তব্যটি শুনে তাঁর প্রতিক্রিয়া, “আমার একটু হাসিই পেয়েছিল।”
ঊষা বলেন, “হ্যাঁ, জেডির মাম এবং পাপওর সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি।”
তবে ভ্যান্সের মা, মাসি ও মামাকে তিনি চেনেন এবং ভালবাসেন। তাঁদের অত্যন্ত স্নেহশীল মানুষ বলেও বর্ণনা করেন তিনি।
ঊষার কথায়, “ওঁর মাসি আমার কাছে দ্বিতীয় মায়ের মতো। আমার মনে হয়, যাঁরা এমন সন্তানদের বড় করেছেন, তাঁরাও নিশ্চয়ই খুব স্নেহশীল ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে পারলে আমার সত্যিই খুব, খুব ভাল লাগত।”
‘ওঁরাই আমার পরিবার’
জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগে ঊষা কখনও ওহায়োয় যাননি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর রাজ্যটি সম্পর্কে তাঁর আগের ধারণা বদলে যায়।
তিনি বলেন, “জায়গাটা সাংস্কৃতিক ভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ। মানুষ আমাকে এত আন্তরিক ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। সবাই এত ভালবেসেছেন। ওঁরাই আমার পরিবার। ওঁরা আমাকে পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখেন।”
ভ্যান্স আগেও জানিয়েছেন, তাঁর শৈশবে দাদু জেমস ভ্যান্স ছিলেন স্থিরতা ও ভরসার অন্যতম আশ্রয়। পেশায় ঝালাইয়ের কাজ করা জেমস প্রায় ৪০ বছর সেই পেশায় ছিলেন।
২০১৬ সালে প্রকাশিত ভ্যান্সের স্মৃতিকথা হিলবিলি এলিজি-তেও উঠে এসেছিল দাদু-ঠাকুমাকে ঘিরে তাঁর আবেগ। সেখানে ভ্যান্স লিখেছিলেন, তাঁর জীবনের অন্যতম বড় আক্ষেপ—দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে ঊষার কখনও দেখা হয়নি।
সমালোচনার মুখে এল-সায়েদ
এল-সায়েদের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ব্র্যান্ডন গিল। তাঁর প্রশ্ন, “আবদুলরহমান মহম্মদ এল-সায়েদ কেন ধরেই নিচ্ছেন যে আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের সব শ্বেতাঙ্গ দাদু-ঠাকুমা বর্ণবিদ্বেষী?”
সাংবাদিক এমিলি শ্রেডারও এল-সায়েদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
তবে একই সপ্তাহান্তে অন্য একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কে জড়ান এল-সায়েদ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগী ন্যাটালি হার্পকে নিয়ে তাঁর একটি পোস্ট সমালোচনার মুখে পড়ে।
বামপন্থী অনলাইন সম্প্রচারক হাসান পাইকারের সঙ্গে প্রচারে অংশ নেওয়ায় ট্রাম্প হার্পের সমালোচনা করেছিলেন। তার জবাবে হার্পকে উদ্দেশ করে এল-সায়েদ লেখেন, “ন্যাটালি, মনে হচ্ছে এ সপ্তাহে ওঁর আইপ্যাড একটু বেশিই ব্যবহার করা হয়ে গিয়েছে। ওঁর বিশ্রাম দরকার।”
এল-সায়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে সমর্থনকারী ডেমোক্র্যাটদের পরিচালিত একটি এক্স অ্যাকাউন্ট এই মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী বলে আক্রমণ করে। তাদের বক্তব্য, “প্রাথমিক নির্বাচনের সময় বিজ্ঞাপনগুলিতে আবদুলের যৌনবৈষম্যমূলক ও নারীবিদ্বেষী মনোভাব ঠিকই তুলে ধরা হয়েছিল।”
অর্থাৎ, ঊষা ভ্যান্সকে ঘিরে এল-সায়েদের মন্তব্যের বিতর্কে একদিকে যেমন বর্ণপরিচয় ও ‘কে কতটা আমেরিকান’—সেই পুরনো প্রশ্ন ফিরে এসেছে, তেমনই তাঁর অন্যান্য মন্তব্য ঘিরে সমালোচনাও নতুন করে সামনে এসেছে। আর সেই বিতর্কের মাঝেই ঊষার অবস্থান বেশ স্পষ্ট—স্বামীর পরিবারের কাছে তাঁকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে তাঁর বংশপরিচয়ের কোনও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়নি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



