দালতের একাধিক সমন সত্ত্বেও হাজির না হওয়ায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল কৃষ্ণনগর আদালত। বুধবার কৃষ্ণনগরের তৃতীয় বিচারবিভাগীয় বিচারক অবিলম্বে ওই পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে হবে। মহুয়া অবশ্য জানিয়েছেন, নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে তিনি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন।

মহুয়ার বিরুদ্ধে মহিলাদের অবমাননা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলাটি দায়ের হয়েছিল। অভিযোগকারীর দাবি, একটি ভিডিয়ো বার্তায় তৃণমূল সাংসদ এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা মহিলাদের পক্ষে অপমানজনক এবং ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৯, ১৯৬, ২৯৯, ৩৫১ এবং ৩৫৩(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে অভিযোগটি দায়ের হয়।

মামলায় অভিযোগ গ্রহণের আগের পর্যায়ে মহুয়াকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ আগস্ট তাঁর হাজিরার দিন ধার্য থাকলেও তিনি আসেননি। সমন গ্রহণ করার পরেও অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাঁকে আরও একটি সুযোগ দেয়। ১৮ আগস্ট মহুয়ার পক্ষ থেকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ২২৮ ধারায় ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়। বিচারক জানান, প্রথমে তাঁকে সশরীরে হাজির হতে হবে; তার পর অব্যাহতির আবেদন বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বুধবারও মহুয়া আদালতে উপস্থিত হননি।

মহুয়ার আইনজীবী আদালতে জানান, সাংসদ হাজির হলে আদালত চত্বরে তাঁকে হেনস্থা করা হতে পারে। সেই নিরাপত্তা-আশঙ্কার কারণেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে আসছেন না। কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, পরপর নির্দেশ অমান্য করা থেকে আদালতের প্রতি অভিযুক্তের ‘উদাসীন মনোভাব’ স্পষ্ট। আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, মহুয়ার আইনজীবীর বক্তব্য থেকে মনে হয়েছে যে তিনি কোনও অবস্থাতেই আদালতে হাজির হতে চান না। এই আচরণকে ‘আইনের আদালতের প্রতি সম্মানের অভাব’ বলেও উল্লেখ করেছেন বিচারক।

অভিযোগকারীর আইনজীবী চয়ন নন্দী জানান, মহুয়াকে বারবার সশরীরে হাজিরার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি এক দিনও আদালতে আসেননি। তাই বিচারকের সামনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না।

মহুয়ার বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর মন্তব্যকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং কাউকে হিংসায় প্ররোচিত করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা নিয়েই তিনি এবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।