আইনি আরশোলার মিছিল

যা জানা জরুরি
- নয়াদিল্লি: ‘আইনি আরশোলা’—নামটি শুরু হয়েছিল অপমানের পাল্টা জবাব হিসেবে।
- নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার পদক্ষেপের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ইয়ং অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন।
- দাবি একটাই—বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রের পদত্যাগ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নয়াদিল্লি: ‘আইনি আরশোলা’—নামটি শুরু হয়েছিল অপমানের পাল্টা জবাব হিসেবে। এ বার সেই নামেই পথে নামছেন তরুণ আইনজীবীরা। নালসার আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার পদক্ষেপের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ইয়ং অ্যাডভোকেটস অ্যাসোসিয়েশন। দাবি একটাই—বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রের পদত্যাগ। আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি।
সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বুধবার সমাজমাধ্যমে লেখেন, “মনে হচ্ছে, আইনি আরশোলারা একজোট হয়েছেন।” তাঁর বক্তব্য, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল আচরণের মান বজায় রাখার দাবিতে যে কোনও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে তিনি সমর্থন করেন।
বিতর্কের শুরু নালসারের ২০২৬ সালের স্নাতকদের আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্তি সাময়িক ভাবে স্থগিত করার নির্দেশকে ঘিরে। নালসারের সমাবর্তনে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি করার প্রতিবাদে অন্তত ৭০ জন বিদায়ী পড়ুয়া আপত্তি জানিয়েছিলেন। দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের উপর পুলিশের বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির কথিত মন্তব্যই তাঁদের আপত্তির অন্যতম কারণ ছিল।
এর পর মনন মিশ্রের স্বাক্ষরিত চিঠিতে রাজ্য বার কাউন্সিলগুলিকে নালসারের ২০২৬ সালের কোনও স্নাতককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত না করার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি, প্রতিবাদে কারা যুক্ত ছিলেন, কারা অংশ নিয়েছিলেন এবং কোনও শিক্ষক, প্রাক্তনী বা বাইরের সংগঠনের ভূমিকা ছিল কি না, সে সম্পর্কেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তথ্য চাওয়া হয়।
এই পদক্ষেপকে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ বলে তীব্র আপত্তি জানায় সিজেপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ প্রশ্ন তোলেন, “সব আইনি আরশোলা যদি একজোট হয়, তা হলে কী হবে?” সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নথিভুক্তি স্থগিত রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার করে বার কাউন্সিল। তবে পড়ুয়াদের ভূমিকা নিয়ে তথ্য চাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি বলেই অভিযোগ সিজেপির।
বিষয়টি নিয়ে বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল না।
স্বাধীনতা দিবসে নালসারের পড়ুয়াদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন মনন মিশ্র। তাঁর কোনও কথা বা চিঠিতে পড়ুয়াদের অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত বলে জানান। কিন্তু তাতেও ক্ষোভ মেটেনি। বম্বে বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, এটি যথেষ্ট অনুশোচনা নয়—চেয়ারম্যানের পদত্যাগই হওয়া উচিত ছিল।
আর সেই দাবিকেই সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নামছেন তরুণ আইনজীবীরা। যে ‘আইনি আরশোলা’ নামটি এক সময় অপমানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটিই এখন প্রতিবাদের ব্যানার হয়ে উঠেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



