খবর

মুম্বই বিমানবন্দর নিয়ে টানাপড়েন, আদানিদের কাছে আলোচনার নথি চাইল বিমান সংস্থাগুলি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মুম্বই বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ পুনর্নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক উড়ানের একাংশ নবি মুম্বইয়ে সরানোর নির্দেশ ঘিরে বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর বিরোধ প্রকাশ্যে এল।
  • রবিবার বিমান সংস্থাগুলির প্রতিনিধিত্বকারী এয়ারলাইন অপারেটর্স কমিটি বা এওসি দাবি করেছে, ২০২০ সাল থেকে এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, তার সমস্ত নথি…
  • বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা যে দাবি করেছে, তার ভিত্তিই জানতে চেয়েছে কমিটি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মুম্বই বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ পুনর্নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক উড়ানের একাংশ নবি মুম্বইয়ে সরানোর নির্দেশ ঘিরে বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর বিরোধ প্রকাশ্যে এল। রবিবার বিমান সংস্থাগুলির প্রতিনিধিত্বকারী এয়ারলাইন অপারেটর্স কমিটি বা এওসি দাবি করেছে, ২০২০ সাল থেকে এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, তার সমস্ত নথি প্রকাশ করতে হবে। বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা যে দাবি করেছে, তার ভিত্তিই জানতে চেয়েছে কমিটি।

আদানি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন মুম্বই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেড বা মিয়ালকে পাঠানো বার্তায় এওসি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিষেবার নির্দিষ্ট ৩৩ শতাংশ সদ্য চালু হওয়া নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে কেন? এই অনুপাত নির্ধারণের ভিত্তি কী, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে বিমান সংস্থাগুলির সংগঠন। সংশ্লিষ্ট বার্তাটি পর্যালোচনা করেছে ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’।

মুম্বই এবং নবি মুম্বই—দুই বিমানবন্দরই আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড বা এএএইচএলের নিয়ন্ত্রণে। ফলে একটি বিমানবন্দর থেকে অন্যটিতে পরিষেবা সরানোর নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, উভয় ক্ষেত্রেই পরিচালনার দায়িত্ব একই গোষ্ঠীর হাতে। নতুন বিমানবন্দরে পরিষেবা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত এবং পুরনো বিমানবন্দরের টার্মিনাল পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা, এই দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন ব্যাখ্যা দাবি করছে বিমান সংস্থাগুলি।

শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এএএইচএল জানিয়েছিল, মুম্বই বিমানবন্দরের প্রায় ৬০ বছরের পুরনো টার্মিনাল ১ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেই কারণেই বিমান সংস্থাগুলিকে নবি মুম্বইয়ে পরিষেবা সরানোর কথা বলা হয়েছে বলে সংস্থার বক্তব্য। অর্থাৎ, স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পুরনো ভবনের নিরাপত্তাকেই সামনে এনেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে সেই যুক্তির সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিষেবার ৩৩ শতাংশ স্থানান্তরের নির্দিষ্ট নির্দেশের সম্পর্ক কী, এওসির প্রশ্নে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এএএইচএলের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অরুণ বনসল ওই বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, টার্মিনাল ১-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে ২০২০ সাল থেকেই বিস্তারিত আলোচনা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বিমানবন্দরের পরিষেবা মাশুল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এয়ারপোর্টস ইকনমিক রেগুলেটরি অথরিটি বা এইআরএর সামনেও পেশ করা হয়েছিল। পরে অনুমোদিত মাশুল কাঠামোয় সেই পরিকল্পনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পরদিনই আলোচনার সম্পূর্ণ নথি চেয়ে পাঠাল এওসি। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে পরামর্শ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি। বিমান সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা হওয়ার দাবি এবং সেই দাবির সমর্থনে নথি হাজির করার দাবি এখন মুখোমুখি। ২০২০ সাল থেকে আলোচনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কতটা নথিসমর্থিত, তা স্পষ্ট করতেই সংগঠনের এই পদক্ষেপ।

এখানে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া এবং উড়ান স্থানান্তরের সিদ্ধান্তকে পৃথকভাবে বোঝার প্রয়োজন রয়েছে। বনসলের বক্তব্যে এইআরএর কাছে প্রকল্প পেশ এবং অনুমোদিত মাশুল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির উল্লেখ আছে। কিন্তু এওসি যে ব্যাখ্যা চেয়েছে, তার বিষয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ আন্তর্জাতিক পরিষেবা সরানোর ভিত্তি। একটি পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রকের সামনে উপস্থাপিত হওয়ার তথ্য থেকেই এই দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয় না।

বিমান সংস্থাগুলির চিঠির তাৎপর্য তাই দু’দিকে। প্রথমত, তারা আলোচনার ইতিহাসের লিখিত প্রমাণ চাইছে। দ্বিতীয়ত, পরিষেবা স্থানান্তরের নির্দেশের পিছনে ব্যবহৃত হিসাব বা যুক্তি জানতে চাইছে। পুরনো টার্মিনালের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির অংশগ্রহণের প্রশ্নও সামনে এসেছে। বিমানবন্দর বদলের সিদ্ধান্তে উড়ানসূচি, পরিষেবা পরিকল্পনা এবং যাত্রীদের যাতায়াতের ব্যবস্থাও বিবেচনায় আসতে পারে স্বাভাবিকভাবেই।

আপাতত দুই পক্ষের প্রকাশিত অবস্থানে এই ব্যবধানই স্পষ্ট: বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, দীর্ঘদিনের আলোচনা এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার কথা বলছে; বিমান সংস্থাগুলি চাইছে সেই আলোচনার নথি ও স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা। ২৫ অক্টোবরের সময়সীমা সামনে রেখে মিয়াল এই প্রশ্নগুলির কী জবাব দেয়, তার উপরই বিতর্কের পরবর্তী পর্ব নির্ভর করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles