Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: রাজ্যসভায় বুধবার প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। বিরোধী দল ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন বিলটি লোকসভায় যাবে। সেখানে অনুমোদন পেলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এটি আইনে পরিণত হবে।
বর্তমান আইনে জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা রক্ষার বিধান থাকলেও জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর জন্য পৃথক কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছিল না। নতুন সংশোধনী সেই শূন্যতা পূরণ করবে বলে সরকারের দাবি।
কী রয়েছে বিলে?
সংশোধিত বিল অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা বাজানোয় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা, অনুষ্ঠান ব্যাহত করা বা জাতীয় গানকে অপমান করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
বিলটি গত ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় উপস্থাপন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। সংসদে বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকার জানায়, স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং জাতীয় আবেগের প্রতীক হিসেবে এর মর্যাদা রক্ষার জন্য এই আইন প্রয়োজন।
ছয়টি স্তবক গাওয়ার বিধান
বিলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকই গাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে যেখানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হবে, সেখানে জাতীয় গানও গাওয়া বা বাজানো হবে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হবে। উভয় ক্ষেত্রেই উপস্থিত সবাইকে সতর্ক অবস্থায় দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
কেন এই আইন?
সরকারের বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান ছিল না, বরং তা ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা। তাই জাতীয় গান হিসেবে এর মর্যাদা রক্ষায় আইনগত সুরক্ষা দেওয়া সময়ের দাবি।
২০২৫ সালের শীতকালীন অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংসদে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি
বিল নিয়ে বিরোধী দলগুলির আপত্তিও রয়েছে। তাদের অভিযোগ, জাতীয় গানকে সম্মান জানানো অবশ্যই জরুরি, কিন্তু ফৌজদারি শাস্তির বিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তুলতে পারে। এই আপত্তির জেরেই রাজ্যসভায় ভোটাভুটির আগে বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
তবে সরকার দাবি করেছে, এই আইন সাধারণ নাগরিককে লক্ষ্য করে নয়; বরং ইচ্ছাকৃত অপমান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা জাতীয় গানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার ঘটনাকে প্রতিরোধ করাই এর উদ্দেশ্য।
এবার লোকসভার পালা
রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর বিলটি এখন লোকসভায় বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর এটি আইনে পরিণত হবে। আইন কার্যকর হলে জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ও প্রথমবারের মতো সরাসরি আইনি সুরক্ষা পাবে।
এই বিল কার্যকর হলে জাতীয় গানকে কেন্দ্র করে সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক আয়োজনে আচরণবিধি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা রক্ষায় বিদ্যমান আইনের পরিধিও উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হবে।