বাংলাস্ফিয়ার: চলমান নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই কেন্দ্র সরকার শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আমলাতন্ত্রে বড়সড় রদবদল করেছে। উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে রাজস্থান ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস কর্মকর্তা নরেশ পাল গঙ্গোয়ারকে। একই সঙ্গে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব পদেও নিয়োগ করা হয়েছে কর্নাটক ক্যাডারের ১৯৯৫ ব্যাচের আইএএস টি. কে. অনিল কুমারকে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মন্ত্রিসভার নিয়োগ কমিটি (এসিসি) এই নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করে। শিক্ষা মন্ত্রকে দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে দুই বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বে এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এতদিন উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিনীত জোশী। স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব সঞ্জয় কুমারের অবসরের পর তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। ফলে শিক্ষা মন্ত্রকের দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত তাঁর হাতেই ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই ব্যবস্থা ভেঙে আবার পৃথক সচিব নিয়োগ করা হল।

নরেশ পাল গঙ্গোয়ার এতদিন পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন বিভাগের সচিব ছিলেন। প্রশাসনিক মহলে দক্ষ আমলা হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। অন্যদিকে টি. কে. অনিল কুমার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।

সরকারি নির্দেশে এই বদলির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের কারণে শিক্ষা মন্ত্রক প্রবল চাপের মুখে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত বিচার, কঠোর আইন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে আমলাতান্ত্রিক এই রদবদলকে অনেকেই শিক্ষা প্রশাসনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখছেন।

এর আগেই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রকের সর্বোচ্চ স্তরে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিরোধী দলগুলি দাবি করছে, শুধু আমলাদের বদলি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার ধারাবাহিক ব্যর্থতার রাজনৈতিক দায় এড়ানো যায় না। যদিও কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রীকে অপসারণের প্রশ্ন বিবেচনায় নেই; বরং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতেই প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের পথে এগোনো হচ্ছে।

শুধু শিক্ষা মন্ত্রক নয়, বৃহস্পতিবারের এই প্রশাসনিক রদবদলে মোট ১৩টি মন্ত্রক ও বিভাগের সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে নতুন সচিব নিয়োগের পাশাপাশি কয়েকটি দফতরের দায়িত্বও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও গতিশীল করাই এই রদবদলের উদ্দেশ্য।

শিক্ষা মন্ত্রকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর ছাত্র-অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। নতুন দুই সচিবের নেতৃত্বে উচ্চশিক্ষা ও স্কুল শিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামো কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে এবং প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর সংস্কারের রূপরেখা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।