হাইলাইটস:

  • বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • দাবি, যদি বিদ্রোহীরা দলে ফিরে আসেন, তবে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেবেন।
  • ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আগে তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এল।
  • অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট, দল ভাঙার রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে চাইছে তৃণমূলের মূল নেতৃত্ব।

বাংলাস্ফিয়ার: ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে ঘিরে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন শিবির নিজেদের শক্তিপ্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময় বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশে নজিরবিহীন বার্তা দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন বা বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন, তাঁরা যদি সত্যিই তৃণমূলে ফিরে আসতে চান, তবে তিনি নিজেই এক ঘণ্টার মধ্যে দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

অভিষেকের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ সংকট প্রকাশ্যে এসেছে। ২১ জুলাইয়ের আগে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

অভিষেক বলেন, তাঁর লক্ষ্য কোনও পদ আঁকড়ে থাকা নয়। দল এবং কর্মীদের স্বার্থই তাঁর কাছে সর্বাগ্রে। তিনি দাবি করেন, যদি বিদ্রোহীরা মনে করেন তাঁদের ফিরে আসার পথে তিনি বাধা, তাহলে সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের সুযোগ তিনি দিতে প্রস্তুত। তাই তাঁরা দলে ফিরলেই তিনি দলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট বার্তা ছিল, দল ছেড়ে যাওয়ার জন্য তাঁর নামকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, যারা বাইরে বসে দাবি করছেন যে অভিষেকের জন্যই তাঁরা তৃণমূলে থাকতে পারেননি, তাঁদের সামনে এখন সুযোগ রয়েছে। তাঁরা ফিরে আসুন, তিনি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। এরপরও যদি তাঁরা না ফেরেন, তাহলে মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে আসল কারণ অন্যত্র।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য কেবল বিদ্রোহীদের উদ্দেশে নয়, দলের অন্দরের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও একটি বার্তা। অভিষেক বোঝাতে চেয়েছেন যে ব্যক্তি নয়, সংগঠনই বড়। একই সঙ্গে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন।

গত কয়েক মাসে তৃণমূলের অভ্যন্তরে ভাঙন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একাংশ বিধায়ক, সাংসদ ও জেলা নেতৃত্ব প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব, সংগঠনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব। অন্যদিকে মূল তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই বিদ্রোহের নেপথ্যে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব রয়েছে।

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস বরাবরই তৃণমূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিও একই দিনে পৃথক সমাবেশের ডাক দিয়েছে। ফলে শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনৈতিক ঐক্যের বদলে বিভাজনের ছবিই সামনে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে অভিষেকের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি কার্যত বিদ্রোহীদের সামনে একটি রাজনৈতিক পরীক্ষার প্রস্তাব রেখেছেন। যদি তাঁদের আপত্তি সত্যিই ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়, তবে তাঁর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর তাঁদের আর দলে ফিরতে বাধা থাকার কথা নয়। আর যদি তাঁরা না ফেরেন, তাহলে সেই অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

বিরোধীরা অবশ্য এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট এতটাই গভীর যে শুধুমাত্র পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়ে তা মেটানো সম্ভব নয়। বিদ্রোহের কারণ সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক—ব্যক্তিগত নয়।

অন্যদিকে তৃণমূলের একাংশের মতে, অভিষেকের বক্তব্য তাঁর আত্মবিশ্বাসেরই পরিচয়। তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে ব্যক্তিগত পদ বা ক্ষমতার চেয়ে সংগঠনের ঐক্যকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে তিনি বিদ্রোহী শিবিরকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলেছেন।

২১ জুলাইয়ের সমাবেশে এই বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্রোহীরা অভিষেকের এই চ্যালেঞ্জের কী জবাব দেন এবং আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।