হাইলাইটস
- নরম্যান্ডিতে ডি-ডে অবতরণের ৮২তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
- ইউরোপের সমুদ্রসৈকত এখন “ভিন্ন ও বিপজ্জনক মতাদর্শের” চ্যালেঞ্জের মুখে বলে মন্তব্য।
- অভিবাসন ইস্যুকে নিরাপত্তা প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করলেন তিনি।
- ইউরোপকে নিজের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার আহ্বান জানালেন।
- ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও অভিবাসন নীতির সমালোচক।
ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক ডি-ডে অবতরণের ৮২তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এমন এক বক্তব্য রাখলেন, যা ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
নরম্যান্ডির সেই সৈকতগুলিতেই, যেখানে ১৯৪৪ সালের ৬ জুন মিত্রবাহিনীর হাজার হাজার সৈন্য নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন, হেগসেথ বর্তমান ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের সেই যুদ্ধস্মৃতির তুলনা টানেন।
তিনি বলেন, আজ ইউরোপের সৈকতগুলি আবারও “ঝড়ের মুখে” পড়তে পারে। তবে এবার বিপদ আসছে ট্যাঙ্ক বা যুদ্ধজাহাজ থেকে নয়, বরং “নৌকা এবং মানুষ”-এর মাধ্যমে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল অবৈধ অভিবাসন এবং ইউরোপে প্রবেশকারী চরমপন্থী মতাদর্শের দিকে।
হেগসেথের মতে, ইউরোপ বর্তমানে এমন কিছু আদর্শিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেগুলিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্রগুলিকে নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
তবে তাঁর বক্তৃতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে মন্তব্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবির, অভিযোগ করে আসছে যে ইউরোপীয় দেশগুলি নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করে না এবং অতিরিক্তভাবে আমেরিকার সামরিক ছাতার ওপর নির্ভর করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, উত্তর আটলান্টিক জোট বা NATO-এর সদস্য দেশগুলির অনেকেই প্রতিরক্ষা খাতে নির্ধারিত ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে দীর্ঘদিন ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষার বড় অংশের বোঝা আমেরিকাকেই বহন করতে হয়েছে।
অভিবাসন প্রশ্নেও ওয়াশিংটন এবং ইউরোপের অনেক সরকারের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্পপন্থী রাজনীতিকরা মনে করেন, ইউরোপের তুলনামূলক শিথিল অভিবাসন নীতি সামাজিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপের বহু নেতা যুক্তি দেন, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনেই অভিবাসন নীতি পরিচালিত হয়।
ডি-ডে স্মরণ অনুষ্ঠান ঐতিহাসিকভাবে মিত্রশক্তির ঐক্য, ত্যাগ এবং গণতন্ত্র রক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এবারের অনুষ্ঠানে হেগসেথের বক্তব্য সেই স্মৃতিচারণাকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করে দিল।
বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মন্তব্য শুধু অভিবাসন বা প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে নয়; বরং ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। সেই নীতির মূল বার্তা হল—ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় আরও সক্রিয় হতে হবে এবং আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।
ফলে নরম্যান্ডির ঐতিহাসিক সৈকতে উচ্চারিত এই বক্তব্য আগামী দিনগুলিতে আমেরিকা-ইউরোপ সম্পর্ক, ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং অভিবাসন বিতর্ক—সব ক্ষেত্রেই নতুন আলোচনা উসকে দিতে পারে।