Home খবর হরমুজে ট্রাম্পের কড়াকড়ি, তেলে ৫% লাফ

হরমুজে ট্রাম্পের কড়াকড়ি, তেলে ৫% লাফ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
36 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ চলাচলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, অন্যান্য জাহাজের জন্য ২০% টোল ঘোষণা।
  • একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫% বেড়েছে।
  • বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধাক্কা, প্রযুক্তি ও বিমান পরিবহণ খাতের শেয়ারে বড় পতন।

নিজস্ব প্রতিবেদন: হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য দেশের নির্দিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজের কাছ থেকে ২০ শতাংশ নিরাপত্তা টোল আদায়ের ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জেরেই সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে অস্থিরতা।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপিছু ৭৯.৩৭ ডলারে পৌঁছায়। সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। তবে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের কোনও জাহাজ আর হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না। সেই ঘোষণার পরই বাজারে দাম আরও দ্রুত চড়ে।

একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য দেশের নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকেও ২০ শতাংশ টোল নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার খরচ মেটাতেই এই ব্যবস্থা। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “এখন থেকে আমেরিকাই হবে হরমুজ প্রণালির রক্ষক। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর।”

এই ঘোষণায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে স্বাভাবিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি দ্রুত স্বাভাবিক হবে—এমন আশা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপিছু ৭২.৪৮ ডলার। এপ্রিলে তা ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

তেলের বাজারের এই ধাক্কা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে। নিউ ইয়র্কে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক প্রাথমিক লেনদেনে ১ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৪ শতাংশ নেমে যায়।

এশিয়ার বাজারেও বড় ধস দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং চিনের সাংহাই কম্পোজিট সূচকও প্রায় ২ শতাংশ করে হারায়।

সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সেমিকন্ডাক্টর খাতে। দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ১৫ শতাংশ এবং স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের শেয়ার ১০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়।

রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর পর তেহরানও পাল্টা জবাব দেয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সেই সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল হামলার উদ্দেশ্য, যার মাধ্যমে তারা বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ট্রাম্পের নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি মার্কিন সেনার।

বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি—বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন-ইরান অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি রফতানি এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত। সংঘাত বাড়লে স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার মাত্র ছ’টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর মধ্যে ‘হিউম্যানিটি’ নামের একটি অতি-বৃহৎ ট্যাঙ্কারে ছিল প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল। ‘ক্যাপেটান আন্দ্রেয়াস’ নামে আরেকটি জাহাজে ছিল প্রায় পাঁচ লক্ষ ব্যারেল কুয়েতি তেলজাত পণ্য। একই সময়ে তিনটি খালি ট্যাঙ্কার নতুন তেল তোলার জন্য উপসাগরে প্রবেশ করে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সমুদ্রপথ এখনও খোলা। তবে ইরানের বক্তব্য, অনুমোদন ছাড়া একটি জাহাজ প্রবেশ করায় সাময়িকভাবে প্রণালিটি বন্ধ করা হয়েছিল। আইআরজিসি জানিয়েছে, রবিবার তারা দুটি জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে সেগুলিকে থামিয়ে দেয়, যদিও জাহাজগুলির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার দামও সোমবার ১.৪ শতাংশ কমে আউন্সপিছু ৪,০৮৩ ডলারে নেমে আসে। বাজারের ধারণা, তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে।

দিনের শেষে অবশ্য তেলের দাম কিছুটা নরম হয়। কারণ, ওপেক ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস টানা তৃতীয়বার কমিয়েছে। দৈনিক ৯ লক্ষ ৭০ হাজার ব্যারেলের পূর্বাভাস নামিয়ে করা হয়েছে ৭ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল। যদিও ওপেকের মতে, বৈশ্বিক চাহিদায় যে প্রভাব পড়বে, তা এখনও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার আশঙ্কার তুলনায় কম। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) মনে করছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে দৈনিক তেলের চাহিদা প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল কমে যেতে পারে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles