তাইওয়ানের কাছে চিনা গবেষণা জাহাজ, তাড়াতে বৃহত্তম উপকূলরক্ষী জাহাজ ও বিমান পাঠাল ফিলিপিন্স

যা জানা জরুরি
- তাইওয়ানের কাছে চিনা গবেষণা জাহাজের গতিবিধি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা।
- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, বাতানেস দ্বীপপুঞ্জের কাছে নিজেদের বৃহত্তম উপকূলরক্ষী জাহাজ ও একটি বিমান পাঠিয়ে চিনা জাহাজটিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার দাবি করল ফিলিপিন্স।
- ম্যানিলার অভিযোগ, ‘জিয়া হাই কে ৭’ নামে ওই জাহাজটি তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে (EEZ) অনুমতি ছাড়াই সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাচ্ছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তাইওয়ানের কাছে চিনা গবেষণা জাহাজের গতিবিধি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, বাতানেস দ্বীপপুঞ্জের কাছে নিজেদের বৃহত্তম উপকূলরক্ষী জাহাজ ও একটি বিমান পাঠিয়ে চিনা জাহাজটিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার দাবি করল ফিলিপিন্স। ম্যানিলার অভিযোগ, ‘জিয়া হাই কে ৭’ নামে ওই জাহাজটি তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে (EEZ) অনুমতি ছাড়াই সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাচ্ছিল।
ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন গবেষণা জাহাজটির পাশে এসে দাঁড়ায় চিনের উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ ‘সিসিজি-২৫০৩’। ফলে একটি গবেষণা জাহাজের তৎপরতা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ সরাসরি দুই দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছয়।
বড় জাহাজ, ছোট নৌকা
অভিযানে পাঠানো হয় ৯৭ মিটার দীর্ঘ ‘বিআরপি তেরেসা মাগবানুয়া’ এবং ‘আইল্যান্ডার ২৫১’ বিমান। ফিলিপিন্সের উপকূলরক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র জে তারিয়েলার দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ‘জিয়া হাই কে ৭’ ইতবায়াত দ্বীপের প্রায় ৩৭ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে তেরেসা মাগবানুয়া চিনা জাহাজটির ১০০ গজেরও কম দূরত্বে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে একটি ছোট রাবারের টহল নৌকা বা RHIB নামানো হয়। সেটি গবেষণা জাহাজটির চারপাশে চক্কর দিতে থাকে, আর ফিলিপিন্সের জাহাজ থেকে বারবার বেতারে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
তারিয়েলার বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিপিন্সের নৌযানগুলিকে এড়িয়ে যেতে জিয়া হাই কে ৭ বারবার অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করে।
এ বার চিনও হাজির
এই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চিনের উপকূলরক্ষী জাহাজ সিসিজি-২৫০৩। সেটি তেরেসা মাগবানুয়াকে একাধিক বার বেতারে সতর্ক করে বলে ফিলিপিন্সের দাবি। পাল্টা ভাবে ফিলিপিন্সের জাহাজটি চিনা উপকূলরক্ষী জাহাজটিকে প্রায় ১,০০০ গজ দূরত্ব থেকে অনুসরণ করতে থাকে, একই সঙ্গে গবেষণা জাহাজটির কাছাকাছি অবস্থান বজায় রাখে।
জিয়া হাই কে ৭ বেসরকারি মালিকানাধীন গবেষণা জাহাজ বলে দাবি করে ফিলিপিন্স। সেই জাহাজকে ঘিরে চিনা সরকারি বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারিয়েলা। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে জাহাজটির কাজ এবং চিনা সরকারের সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এগুলি ফিলিপিন্সের কর্মকর্তার অভিযোগ; জাহাজটির সঙ্গে চিনা সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
অনুমতি কোথায়?
ফিলিপিন্সের আপত্তির মূল জায়গা সামুদ্রিক গবেষণার অনুমতি। দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনীর বক্তব্য, ১৯৮২ সালের রাষ্ট্রপুঞ্জের সমুদ্র আইনসংক্রান্ত সনদ (UNCLOS) এবং ফিলিপিন্সের Maritime Zones Act অনুযায়ী, তাদের EEZ-এ বিদেশি জাহাজকে সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাতে সরকারের স্পষ্ট সম্মতি নিতে হয়। ফিলিপিন্সের বিদেশ দফতর জানিয়েছে, জিয়া হাই কে ৭-কে এমন কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এর ভিত্তিতেই ম্যানিলা অভিযানের পক্ষে সওয়াল করছে। উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, গবেষণা জাহাজটি এলাকা না ছাড়া পর্যন্ত নজরদারি ও বাধাদানের কাজ চালানো হবে।
তারেও নজর
উদ্বেগের আর একটি জায়গা সমুদ্রের নীচে থাকা যোগাযোগের তার। বাতানেস ও লুজন প্রণালী দিয়ে যাওয়া একাধিক সাবমেরিন কেবল ফিলিপিন্সকে উত্তর-পূর্ব এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করে। তারিয়েলা প্রশ্ন তুলেছেন, ওই এলাকায় জিয়া হাই কে ৭ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিশেষ করে সমুদ্রতলের তথ্য ভবিষ্যতে কী ভাবে ব্যবহার করা হতে পারে, তা নিয়ে ফিলিপিন্সের উদ্বেগ রয়েছে।
তবে গবেষণা জাহাজটি ঠিক কী তথ্য সংগ্রহ করেছে বা সেই তথ্য সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল কি না, তার কোনও স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
চিনের পাল্টা দাবি
ফিলিপিন্সের অভিযোগ অবশ্য মেনে নেয়নি বেজিং। চিনের বক্তব্য, জিয়া হাই কে ৭ চিনের এখতিয়ারাধীন জলসীমায় স্বাভাবিক গবেষণামূলক কাজ করছিল। ম্যানিলার পদক্ষেপকে ‘হয়রানি’ বলে অভিযোগ করে চিন গবেষণায় বাধা দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। ফলে ওই জলসীমায় কার অধিকার কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী।
শেষে সরে গেল
ফিলিপিন্সের উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিট নাগাদ জিয়া হাই কে ৭ আগের অবস্থান ছেড়ে উত্তর দিকে চলতে শুরু করে। তেরেসা মাগবানুয়া তখনও সেটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। পরে ফিলিপিন্স জানায়, জাহাজটি তাদের EEZ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে।
একটি গবেষণা জাহাজকে ঘিরে শুরু হওয়া এই মুখোমুখি অবস্থান তাই শুধু সামুদ্রিক গবেষণার অনুমতি নিয়ে বিতর্কে আটকে নেই। বাতানেস ও লুজন প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব, সমুদ্রতলের যোগাযোগব্যবস্থা এবং ফিলিপিন্স-চিনের দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক বিরোধ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ওই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আর একটি নজির হয়ে উঠেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



