International

১০ লাখে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ গোল্ডি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পলাতক গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারকে ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকায় তুলল আমেরিকার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।
  • তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দিতে পারলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কার।
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, লস অ্যাঞ্জেলেসে এই ঘোষণা করেন এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী অধিকর্তা প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পলাতক গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রারকে ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকায় তুলল আমেরিকার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য দিতে পারলে মিলতে পারে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কার। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, লস অ্যাঞ্জেলেসে এই ঘোষণা করেন এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী অধিকর্তা প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি। গোল্ডির আসল নাম সতিন্দরজিৎ সিং।

এর আগে গোল্ডির সন্ধানে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এফবিআই। নতুন ঘোষণায় অঙ্কটা এক লাফে ২০ গুণ বেড়ে গেল। তবে শুধু তথ্য দিলেই হবে না—সেই তথ্যের জেরে গোল্ডিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতে হবে, তবেই মিলবে পুরস্কার।

এফবিআইয়ের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু আমেরিকার মাটিতে নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও গোল্ডির পরিচয় ও ছবি আরও ছড়িয়ে দেওয়া। তদন্তকারীদের অভিযোগ, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধচক্রের উত্তর আমেরিকার কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে গোল্ডির। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া-সহ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল এবং কানাডায় এই চক্রের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যা, অপহরণ, তোলাবাজি, হামলা, মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

কানাডার সংবাদ সংস্থা ‘দ্য কানাডিয়ান প্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকায় থাকার পাশাপাশি পশ্চিম কানাডাতেও গোল্ডির যাতায়াতের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে অর্থ আদায়ও এই চক্রের অন্যতম কৌশল বলে অভিযোগ।

গোল্ডির বিরুদ্ধে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে সংগঠিত অপরাধচক্র পরিচালনার ষড়যন্ত্র, তোলাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি এবং মাদক সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সংশ্লিষ্ট ফেডারেল আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তবে এই অভিযোগগুলি এখনও বিচারাধীন। ফলে এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় নাম ওঠা কোনও দোষসিদ্ধির রায় নয়।

নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সূত্র

গোল্ডিকে ঘিরে মার্কিন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কানাডায় হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড। ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারেতে একটি গুরুদ্বারের বাইরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মার্কিন অভিযোগ অনুযায়ী, লরেন্স বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ওই হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। জুলাইয়ে প্রকাশিত অভিযোগপত্রেও তাঁদের কথিত ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে।

নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ভারত ও কানাডার সম্পর্কে তীব্র কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। একই ঘটনায় কানাডাতেও পৃথক বিচারপ্রক্রিয়া চলছে।

গোল্ডিকে খোঁজার এই অভিযান অবশ্য কোনও বিচ্ছিন্ন তদন্ত নয়। ‘অপারেশন হার্ডবল’-এর বৃহত্তর তদন্তেরই অংশ এটি। গত জুলাইয়ে ভারতভিত্তিক তিনটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের ফল প্রকাশ করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তিনটি অভিযোগপত্রে মোট ৩৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন তখন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন অথবা আগে থেকেই হেফাজতে ছিলেন। আমেরিকা, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাও এই অভিযানে সহযোগিতা করেছে।

কানাডার ফেডারেল পুলিশের ডেপুটি কমিশনার লিসা মোরল্যান্ড জানিয়েছেন, গোল্ডিকে বিচারের মুখোমুখি করতে এফবিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে কানাডা। তাঁর অভিযোগ, এই অপরাধচক্রের কর্মকাণ্ডে বহু মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।

মুসেওয়ালা হত্যার ছায়াও

ভারতেও একাধিক হত্যাকাণ্ডের সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে গোল্ডিকে খোঁজা হচ্ছে। পঞ্জাবের ফরিদকোটের বাসিন্দা গোল্ডি ২০১৭ সালে ছাত্রভিসায় কানাডায় গিয়েছিলেন। পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের ২৯ মে পঞ্জাবের মানসায় মুসেওয়ালাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হত্যার দায় গোল্ডি নিজেই স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে ইউএপিএ-র অধীনে সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

১৯৫০ সালে চালু হওয়া এফবিআইয়ের ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় গোল্ডি হলেন ৫৪৩তম সংযোজন। গ্র্যান্ডির বক্তব্য, এই তালিকায় নাম ওঠার ফলে গোল্ডির ছবি ও পরিচয় বিশ্বজুড়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

এফবিআই তাঁকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছে। সাধারণ মানুষকে সরাসরি তাঁর মোকাবিলা না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কারও কাছে তাঁর সম্পর্কে তথ্য থাকলে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে—পরিচয় গোপন রেখেও তথ্য দেওয়া যাবে।

এখন এফবিআইয়ের লক্ষ্য একটাই—আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যের সাহায্যে দীর্ঘদিনের এই পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের সামনে হাজির করা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles