নব্বইতেও নতুন সুর

যা জানা জরুরি
- সেই জন্মদিনের আগে ২২ সেপ্টেম্বর দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবন, পুরনো সাফল্য এবং নতুন রচনা ‘ইন অল ইয়োর ওয়েজ’।
- ফলে এবারের উদ্যাপন শুধু অতীতের বিখ্যাত কাজ ফিরিয়ে আনার নয়; নতুন করে কী শোনা যায়, সেই প্রশ্নও সামনে রাখছে।
- তবে নতুন রচনাটির প্রথম পরিবেশনা এখনও ভবিষ্যতের ঘটনা নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: বয়স নব্বইয়ের দিকে। কিন্তু সুরের খাতা এখনও বন্ধ হয়নি। ৩ অক্টোবর ৯০ বছরে পা দেবেন স্টিভ রাইখ। সেই জন্মদিনের আগে ২২ সেপ্টেম্বর দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবন, পুরনো সাফল্য এবং নতুন রচনা ‘ইন অল ইয়োর ওয়েজ’। ফলে এবারের উদ্যাপন শুধু অতীতের বিখ্যাত কাজ ফিরিয়ে আনার নয়; নতুন করে কী শোনা যায়, সেই প্রশ্নও সামনে রাখছে।
তবে নতুন রচনাটির প্রথম পরিবেশনা এখনও ভবিষ্যতের ঘটনা নয়। বুজি অ্যান্ড হকসের প্রকাশনা-তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট ২০২৬ এডিনবরার আশার হলে কলিন কারি গ্রুপ প্রথমবার বাজিয়েছে প্রায় ১৮ মিনিটের এই রচনা। বড় যন্ত্রসংগীত দলের জন্য লেখা কাজটি রাইখের ২০২৬–২৭ মরসুমের জন্মদিন-উদ্যাপন ও বিভিন্ন শহরের পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত। তাই সেপ্টেম্বরের আলোচনা তাকে বিশ্ব-অভিষেক হিসেবে বর্ণনা করে না।
রচনাটির যন্ত্রবিন্যাসও বেশ নির্দিষ্ট: দুটি বাঁশি, দুটি ক্ল্যারিনেট, দুটি মারিম্বা, দুটি ভাইব্রাফোন, দুটি পিয়ানো এবং চার সদস্যের তারযন্ত্রের দল। কোনও গায়ক নেই। অথচ শিরোনামের উৎস বাইবেলের প্রবাদবাক্য। রাইখের নিজের ব্যাখ্যায়, ওই কথাগুলির চার ধাপের ছন্দ যন্ত্রসংগীতের মধ্যে ফিরে আসে। অর্থাৎ শব্দ উচ্চারিত হচ্ছে না, কিন্তু শব্দের কাঠামো সংগীতের ভিত গড়ে দিচ্ছে।
এর আগে ‘ট্রাভেলার্স প্রেয়ার’ ও ‘জেকবস ল্যাডার’-এর মতো রচনায় ধর্মীয় পাঠের সঙ্গে কণ্ঠ ও যন্ত্র ব্যবহার করেছেন রাইখ। এবার কণ্ঠ বাদ। চার ধরনের ছন্দমূল্য এবং চার ধরনের স্বরবিন্যাসকে সামনে রেখে সংগীত এগোয়; তাদের মিলনও প্রতিবার একইভাবে ঘটে না। প্রকাশকের নথিতে দেওয়া এই কাঠামো রচনাটির নির্মাণ বোঝায়, শ্রোতার জন্য কোনও একমাত্রিক ব্যাখ্যা নির্ধারণ করে না।
নতুন কাজটি তৈরি করতে গিয়ে রাইখ নিজেও শেষ মুহূর্তে গঠন বদলেছেন। আগস্টে প্রকাশককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রচনার অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল দ্রুত গতির মধ্যে যথেষ্ট বিরতি নেই। তাই যোগ করেন তিনটি ধীর অংশ। কিন্তু সেগুলি আলাদা করে বসিয়ে দিলেই কাজ শেষ হয়নি। নতুন অংশগুলি যাতে বিচ্ছিন্ন না শোনায়, তার আগে ও পরের সংগীতও বদলাতে হয়েছে।
এই পরিবর্তনে শুধু গতি নয়, ধ্বনির স্থায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই মৌলিক স্পন্দনের মধ্যে ছোট ধ্বনি থেকে দীর্ঘ ধ্বনিতে গেলে শ্রবণের অনুভূতি বদলায়—রাইখের নিজের ব্যাখ্যায় নতুন কাজের গঠনে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, আগের কিছু কাজের তুলনায় এবার ব্যতিক্রম এবং অপ্রত্যাশিত মোড়ের জন্যও বেশি জায়গা রাখা হয়েছে। সেটি অবশ্য সুরকারের নিজের মূল্যায়ন, স্বাধীন সমালোচনার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নয়।
রাইখের ছয় দশকের যাত্রার বিস্তার বোঝা যায় ননসাচ রেকর্ডসের সংকলনেও। ১৪ মার্চ ২০২৫ প্রকাশিত ২৭টি ডিস্কের সেই সংগ্রহে রয়েছে ১৯৬৫ সালের ‘ইটস গনা রেন’ থেকে সাম্প্রতিক রচনার প্রথম রেকর্ডিং পর্যন্ত কাজ। তবে সেটি গত বছরের প্রকাশনা; বর্তমান জন্মদিন উপলক্ষে নতুন করে প্রকাশিত সংকলন হিসেবে দেখার কারণ নেই।
ননসাচের সঙ্গে রাইখের রেকর্ড তৈরির সম্পর্ক শুরু ১৯৮৫ সালে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতিতে ‘ড্রামিং’, ‘মিউজিক ফর এইটিন মিউজিশিয়ানস’, ‘তেহিলিম’ এবং ‘ডিফারেন্ট ট্রেনস’-এর মতো কাজের উল্লেখ রয়েছে। পুনরাবৃত্ত ছন্দ, ধ্বনির স্তর এবং সেই স্তরের ভিতর ধীরে ধীরে পরিবর্তন—রাইখের সংগীতের সঙ্গে পরিচিত শ্রোতার কাছে এগুলি অচেনা নয়। কিন্তু নতুন রচনার নির্মাণপ্রক্রিয়া দেখাচ্ছে, পরিচিত পদ্ধতিও তাঁর কাছে স্থির ছাঁচ হয়ে থাকেনি।
বিশ্লেষণ: নব্বইয়ের জন্মদিনে রাইখকে ঘিরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় কোনও ‘বয়সকে হার মানানো’ গল্প নয়। বরং এত দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরেও একটি প্রায় সম্পূর্ণ রচনার দিকে ফিরে তাকিয়ে বলা—এখানে থামার জায়গা কম, আবার বদলাতে হবে। তারপর সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের সংগীতও পাল্টে দেওয়া। সৃষ্টিশীলতার এই ছোট, নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তই হয়তো উদ্যাপনের চেয়ে বেশি অর্থবহ।
কারণ পুরনো সাফল্যের ছক বারবার ব্যবহার করা আর সেই ছকের ভিতর নতুন সমস্যা তৈরি করা এক ব্যাপার নয়। ‘ইন অল ইয়োর ওয়েজ’-এর নির্মাণকাহিনিতে দ্বিতীয়টিরই একটি উদাহরণ দেখা যায়।
তবে প্রবীণ শিল্পীর নতুন কাজকে তাঁর বয়সের কারণেই অসাধারণ বলে ধরে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। রচনাটির ছন্দ, ভারসাম্য, গতি এবং আবেগ শেষ পর্যন্ত শুনবেন শ্রোতারাই; মতও আলাদা হতে পারে। জন্মদিন তাই বিচার বন্ধ করার উপলক্ষ নয়—বরং পুরনো কান দিয়ে নতুন সংগীত শোনার আরেকটি সুযোগ। সামনে নব্বইয়ের সংখ্যা, আর তার পরেও রাইখের সংগীতে প্রশ্নটা একই: পরের সুরটি কেমন হবে?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



