সাধারণত বায়ু দূষণ বললেই আমাদের মনে ফুসফুসের রোগ, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু এর বাইরেও যে দূষণের কারণে মানবদেহে আরও এক নীরব ঘাতক বাসা বাঁধছে, তা নিয়ে এবার চরম সতর্কবার্তা দিলেন দেশের বিশিষ্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট তথা ম্যাক্স হেলথকেয়ারের গ্রুপ চেয়ারম্যান ও হেড (এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজি) ডা. অম্বরীশ মিথল (Dr Ambrish Mithal)। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বায়ু দূষণ টাইপ ২ ডায়াবেটিসের একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবেশগত কারণ।
বিশেষ করে রাজধানী দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যখন বায়ুর গুণমান মারাত্মক বা 'হ্যাজার্ডাস' পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক সেই সময়েই এই তথ্য নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে বিশেষজ্ঞদের। ডা. মিথলের মতে, ভারতীয় বিভিন্ন গবেষণায় ইতিমধ্যেই পিএম ২.৫ (PM 2.5)-এর সঙ্গে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি মাত্র এক মাস দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
দূষণ কীভাবে শরীরের ভেতরে ঢুকে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি করে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান:
• রক্তপ্রবাহে ক্ষুদ্র কণার প্রবেশ: বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কণাগুলির (যাতে নাইট্রেট, সালফেট, ভারী ধাতু এবং কার্বন থাকে) আকার এতই ছোট যে সেগুলি ফুসফুসের মাধ্যমে সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যায়।
• ধমনীর ক্ষতি ও রক্তচাপ: এই বিষাক্ত কণাগুলি ধমনীর দেওয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং নানা ধরনের ভাসকুলার ডিজিজ বা রক্তনালীর রোগ দেখা দেয়।
• অগ্নিশায়ের ওপর প্রভাব ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: এই কণাগুলি রক্ত ঘুরে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসে পৌঁছে ইনসুলিন ক্ষরণ ব্যাহত করে এবং প্যানক্রিয়াসের ভেতর প্রদাহ (inflammation) তৈরি করে। এর জেরে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায় এবং ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ বা ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
ভারতকে বিশ্বের ‘ডায়াবেটিস রাজধানী’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান বায়ু দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাই শ্বাসযন্ত্রের সুরক্ষার পাশাপাশি সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য (metabolic health) রক্ষার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
এই প্রতিবেদনে নতুন মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।