বিশ্বব্যাপী আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির (Fossil Fuel) ওপর অতিরিক্ত এবং একপেশে নির্ভরতাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও টেকসই নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হলে বিশ্বকে দ্রুত এবং পরিকল্পিতভাবে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শক্তির (Clean & Renewable Energy) দিকে ধাবিত হতে হবে। ভবিষ্যৎ বিশ্বের শক্তি নিরাপত্তার আসল ভবিষ্যৎ লুকিয়ে রয়েছে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির বাস্তবায়নের মধ্যেই।
সোমবার আয়োজিত আন্তর্জাতিক শক্তি বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী তুলে ধরেন কীভাবে গত কয়েক দশকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম বিশ্ব অর্থনীতিকে বারবার ধাক্কা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথাগত খনিজ তেল ও কয়লাভিত্তিক শক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতার ফলে কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে না, বরং এর ফলে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোতেও অনিশ্চয়তার কালো ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে বিশ্বব্যাপী ক্লিন এনার্জি ট্রান্সজিশনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সৌরশক্তি, বাতাসভিত্তিক বায়ু শক্তি এবং গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে ভারতের অর্জিত অসামান্য সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, প্রতিটি রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষা— উভয় লক্ষ্যই অর্জিত হতে পারে যদি বিশ্ব আর্থিক শক্তিগুলি সবুজ ও টেকসই শক্তি ব্যবস্থার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি সুদৃঢ় করে।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।