পুজো ও দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে নতুন প্রাকৃতিক বিপর্যয়। সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়াবিদদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের মূল অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে হলেও তার পরোক্ষ প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ রেহাই পাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গও। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট বাড়ার পাশাপাশি শীতের আগমনেও সাময়িক বাধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থানরত নিম্নচাপটি ক্রমাগত উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের অনুকূল তাপমাত্রা এবং উচ্চ বায়ুচাপের কারণে এটি দ্রুত ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে। প্রাথমিক গতিপথ পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, সিস্টেমটি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকেই আছড়ে পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অন্ধ্র ও সংলগ্ন ওড়িশা উপকূলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বাংলায় সরাসরি এই ঘূর্ণিঝড়ের আছড়ে পড়ার বা ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা না থাকলেও, এর দূরপাল্লার প্রভাবে রাজ্যের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন ঘটবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সাগরে ঘূর্ণাবর্ত শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলের দিক থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো উপকূল ও সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতে আকাশ মেঘলা থাকবে এবং হালকা থেকে মাঝারি, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতেও আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি দফায় দফায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা থাকায় উত্তর ও মধ্য বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর কড়া সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন ও দিঘা উপকূলবর্তী এলাকায় নদীবাঁধ এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।
অন্যদিকে, এই দুর্যোগের জেরে নভেম্বরের শুরুতে রাজ্যে যে শীতের আমেজ বা পারদ পতনের প্রাথমিক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, তাতেও সাময়িক ছেদ পড়তে চলেছে। সাগরের আর্দ্র বাতাস বঙ্গে প্রবেশ করায় রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে গিয়ে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। সিস্টেমটি সম্পূর্ণ স্থলভাগে প্রবেশ করে দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলেই পূর্বাভাস আবহাওয়াবিদদের।
পাঠকের মন্তব্য ০
শালীন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করুন। মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ হবে।
মন্তব্য করতে আপনার বাংলাস্ফিয়ার অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। সদস্যতা কেনার প্রয়োজন নেই।
এখনও কোনো অনুমোদিত মন্তব্য নেই।