হাইলাইটস:
- ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটেরও বেশি তাপমাত্রায় প্রাণীদের জন্য বিশেষ তাপপ্রতিরোধী ব্যবস্থা নিয়েছে চিড়িয়াখানা।
- বাঘ-সিংহ পাচ্ছে রক্ত দিয়ে তৈরি বরফের খাবার, হাতি-পান্ডাদের জন্য ফলের বরফ।
- শাবক হাতির জন্য নিয়মিত স্নান, সাঁতার শেখানো ও বুদবুদের স্নানের ব্যবস্থা।
- বিভিন্ন প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ বজায় রেখে গরম সামলানোর জন্য নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাওয়ায় প্রাণীদের সুস্থ রাখতে একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল চিড়িয়াখানা। মানুষের মতো প্রাণীরাও যাতে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ না হয়ে পড়ে, সে জন্য তাদের খাদ্য, বিশ্রাম এবং দৈনন্দিন পরিচর্যায় আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। চিড়িয়াখানার পাঁচ মাস বয়সী এশীয় হাতিশাবক লিন মাই এখন দিনের বড় অংশই কাটায় জলে। কখনও পুকুরে সাঁতার কাটছে, কখনও বালুর ধারে বিশ্রাম নিচ্ছে। পরিচর্যাকারীরা তাকে ধীরে ধীরে গভীর জলে সাঁতার শেখাচ্ছেন। ছয় ফুট গভীর পুকুরে প্রাপ্তবয়স্ক হাতিদের ছাড়া তাকে নামিয়ে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হচ্ছে, যাতে সে নিরাপদে নিজের মতো সাঁতার শেখে। প্রতিদিন তার জন্য বুদবুদের স্নানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাঘ ও সিংহদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ রক্তের বরফ। জমাট বাঁধা রক্তের সঙ্গে কখনও হাড়, কখনও বা মাংসের টুকরো মিশিয়ে বানানো এই ঠান্ডা খাবার গরমে তাদের স্বস্তি দেয়। অন্যদিকে হাতি, গরিলা ও পান্ডারা পাচ্ছে ফল দিয়ে তৈরি বরফের লজেন্স। সিল ও সি লায়নদের জন্য বরফের বড় খণ্ডের মধ্যে জমিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাছ। জলাশয় থাকা প্রাণীরা গরমে সেগুলি আরও বেশি ব্যবহার করছে। জলাভূমির বানররা নিয়মিত জলে নেমে শরীর ঠান্ডা রাখছে। ওটারদের মানসিক সক্রিয়তা বজায় রাখতে বরফভর্তি বালতির মধ্যে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে খাবার, যাতে তারা খুঁজে বের করার খেলায় অংশ নিতে পারে এবং একই সঙ্গে শরীরও ঠান্ডা থাকে।
লেমুরদের জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ খাবার সরবরাহের নল। তার মধ্যে পাতলা ফলের রস ভরে রাখা হয়। লম্বা জিভ ও সরু মুখ ব্যবহার করে তারা সেই রস চেটে খায়। বনে যেমন ফুলের মধু সংগ্রহ করে, এই পদ্ধতিও অনেকটা তেমনই। ফ্লেমিঙ্গো ও আইবিসের মতো পাখিদের শরীর ঠান্ডা রাখার নিজস্ব উপায় রয়েছে। তাদের লম্বা পালকহীন পায়ের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বাইরে বেরিয়ে যায়। পা জলে ডুবিয়ে রাখলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত কাজ করে।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, কালোমাথা নাইট হেরন নামে এক ধরনের বক নিজের পায়ের ওপরই মলত্যাগ করে। পরে সেই আর্দ্রতা বাষ্পীভূত হয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ইউরোহাইড্রোসিস বলে থাকেন। যেসব প্রাণী গরমে বেশি সক্রিয় থাকতে চায় না—যেমন বন্য বিড়াল, লিংক্স বা ক্লাউডেড চিতাবাঘ—তাদের জন্য ঘেরের মধ্যে পর্যাপ্ত ছায়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তারা দিনের গরম সময় বিশ্রাম নিতে পারে।
পরিচর্যাকারীরা সারাক্ষণ নজর রাখছেন কোনও প্রাণীর শরীরে অতিরিক্ত গরমের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কি না। অতিরিক্ত হাঁপানো, নিস্তেজ হয়ে পড়া বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রাণীদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের ভেতরেও রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে সদ্যোজাত বা অল্পবয়সি প্রাণীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা হলেও চিড়িয়াখানার দুটি অলস ভালুকশাবককে ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বাইরে বের করা হচ্ছে না। অল্প বয়সের কারণে তাদের সম্পূর্ণ ঘরের মধ্যেই রাখা হচ্ছে।
চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতিটি প্রাণীর স্বাভাবিক স্বভাব ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখেই গরম মোকাবিলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও বরফের বিশেষ খাবার, কোথাও জলকেলি, কোথাও ছায়াঘেরা বিশ্রামস্থল—সব মিলিয়ে প্রচণ্ড গরমেও প্রাণীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।