হাইলাইটস
- ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই।
- নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রায় ১২৫ দিন পিছিয়ে যায় তাঁর রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া।
- ধর্মীয় রীতি মেনে এমবামিং করা হয়নি বলে জানা গেছে।
- বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি।
- ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান।
প্রায় সাড়ে চার মাস আগে নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। তারপর কেটে গেছে ১২৫ দিন। ইসলামি রীতিতে যেখানে সাধারণত দ্রুত দাফনের প্রচলন, সেখানে এত দীর্ঘ বিলম্ব কেন? আর এতদিন কীভাবে সংরক্ষণ করা হল তাঁর মরদেহ?—এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি। খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা আক্রমণ এবং যুদ্ধের আবহে বিপুল জনসমাগমের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ধাপে ধাপে শোকানুষ্ঠানের সূচি ঘোষণা করা হয়।
অনেকের ধারণা ছিল, এতদিন মরদেহ সংরক্ষণ করতে এমবামিং করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, ইরানের ধর্মীয় রীতিনীতি মেনেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। কারণ শিয়া ইসলামে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মৃতদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের প্রথা সাধারণভাবে উৎসাহিত করা হয় না। তাহলে কীভাবে সংরক্ষিত ছিল মরদেহ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর আধুনিক শীতলীকরণ প্রযুক্তি। বিশেষ নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগারে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রায় মরদেহ রাখা হলে পচন প্রক্রিয়া অনেকটাই ধীর হয়ে যায়। পাশাপাশি আর্দ্রতা, বায়ুচাপ এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিশেষ পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতলীকরণ ও এমবামিং এক জিনিস নয়। এমবামিংয়ে রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রবেশ করিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ করা হয়, আর শীতলীকরণে দেহের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রেখে ক্ষয়প্রক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কারণও ছিল। নতুন নেতৃত্ব এমন সময় অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা নিরাপদে অংশ নিতে পারেন।
শুক্রবার শুরু হওয়া শোকানুষ্ঠান কয়েকটি শহর ঘুরে ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে। ইরানের দাবি, তেহরানেই কয়েক কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। সেই কারণে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খামেনেইর দীর্ঘ বিলম্বিত শেষযাত্রা তাই শুধু একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতারও এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।