হাইলাইটস
- স্কুলজীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানালেন অভিনেত্রী কায়াডু লোহার।
- অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক যুবক তাঁকে উত্যক্ত করত।
- আত্মরক্ষায় পাথর ছুড়ে আঘাত করেন, যুবকের মাথা ফেটে যায় বলে দাবি অভিনেত্রীর।
- ঘটনাটি নিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিনেত্রী কায়াডু লোহার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্কুলজীবনের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক যুবক তাঁকে নিয়মিত উত্যক্ত করত। বহুদিন ধরে এই পরিস্থিতি সহ্য করার পর একদিন আত্মরক্ষার তাগিদে তিনি পাথর তুলে ওই যুবকের দিকে ছুড়ে মারেন। তাঁর দাবি, সেই আঘাতে যুবকের মাথা ফেটে যায়।
কায়াডু বলেন, তিনি তখন কিশোরী। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এক ব্যক্তি প্রায়ই তাঁর পথ আটকাত, অশোভন আচরণ করত এবং বিরক্ত করত। প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ অসহনীয় হয়ে ওঠে। তিনি বুঝতে পারেন, চুপ করে থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। অভিনেত্রীর কথায়, একদিন ওই ব্যক্তি আবারও তাঁকে উত্যক্ত করতে শুরু করলে তিনি প্রচণ্ড রেগে যান। আশপাশে পড়ে থাকা একটি পাথর তুলে তিনি যুবকের দিকে ছুড়ে মারেন। পাথরটি সোজা গিয়ে তার মাথায় লাগে। আঘাতে রক্ত বেরোতে শুরু করে এবং সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
কায়াডু জানান, ঘটনার পর তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর মনে হয়েছিল, নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি যা করেছেন, তা প্রয়োজনীয় ছিল। এরপর আর ওই ব্যক্তি তাঁকে বিরক্ত করার সাহস দেখায়নি বলেও তিনি জানান। সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, নারীদের সব সময় দুর্বল ভাবা উচিত নয়। কেউ যদি বারবার সীমা লঙ্ঘন করে বা নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে, তাহলে নিজের সুরক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো জরুরি। যদিও তিনি কাউকে হিংসার পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন না, তবু আত্মরক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
কায়াডুর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, উত্যক্ত বা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা জরুরি। আবার কেউ কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে আইনগত সহায়তা ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সাম্প্রতিক সময়ে কায়াডু লোহার অভিনয়জীবনও দ্রুত এগোচ্ছে। বিভিন্ন ভাষার ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের পরিচিতি বাড়িয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত জীবনের এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি দেখালেন, পর্দার বাইরেও তাঁর জীবনে কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অভিনেত্রীর বক্তব্য নতুন করে নারীদের নিরাপত্তা, উত্যক্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে একটি বার্তা বহন করছে—হয়রানিকে কখনও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া উচিত নয়; প্রয়োজনে নিজের নিরাপত্তার জন্য দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।