হাইলাইটস:
- ফ্রান্স দলের কালো আর্মব্যান্ড পরার আবেদন নাকচ করল ফিফা।
- প্রয়াত কোচ দিদিয়ের দেশঁর মা জিনেত দেশঁর স্মরণে এই আবেদন করা হয়েছিল।
- মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন না দেশঁ।
- ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন হলেও তা ছিল ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে।
- দেশঁর অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ গি স্তেফাঁ দলের দায়িত্ব সামলান।
- ফ্রান্স ৪-১ গোলে নরওয়েকে হারিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করে।
ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশঁর মা জিনেত দেশঁ এই সপ্তাহে প্রয়াত হওয়ার পর তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে খেলোয়াড়দের কালো আর্মব্যান্ড পরার অনুমতি চেয়েছিল ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেয় ফিফা। এমনই দাবি করেছে দ্য অ্যাথলেটিক, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সূত্র উদ্ধৃত করে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের শেষ গ্রুপ ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফিফা সেই অনুমতি দেয়নি।
আরও একটি বিভ্রান্তির ঘটনাও সামনে এসেছে। ম্যাচ শুরুর আগে যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, প্রথমে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন মনে করেছিল সেটি শুধুমাত্র জিনেত দেশঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে। পরে তারা জানতে পারে, ওই নীরবতা আসলে ভেনেজুয়েলার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে মায়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর দেশঁ তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দিতে দলের সঙ্গে নরওয়ে সফরে যাননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ গি স্তেফাঁ অস্থায়ীভাবে দলের দায়িত্ব নেন। ম্যাচের আগে তাঁকে একটি ফুলের তোড়া নিয়ে মাঠে আসতে দেখা যায়, যা ছিল দেশঁর মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।স্তেফাঁ জানিয়েছেন, শনিবার দলের পরবর্তী অনুশীলন শিবিরে দেশঁ আবার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।৫৭ বছর বয়সি দেশঁ আগেই ঘোষণা করেছেন, চলতি বিশ্বকাপ শেষ হলেই তিনি ফ্রান্স দলের কোচের পদ ছেড়ে দেবেন। টানা ১৪ বছর দায়িত্ব সামলে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘতম মেয়াদের কোচদের অন্যতম।দেশঁর নেতৃত্বেই ফ্রান্স ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও তাঁর দল ফাইনালে পৌঁছেছিল, যদিও টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়।
নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে গ্যালারিতে উপস্থিত ফরাসি সমর্থকেরা “AVEC TOI DIDIER” (আমরা তোমার পাশে আছি, দিদিয়ের) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করে কোচের প্রতি সমর্থন ও সমবেদনা জানান।মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য ফ্রান্স ছিল সম্পূর্ণ প্রভাবশালী। তারা ৪-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায়। অন্যদিকে নরওয়ে আগের ম্যাচের প্রথম একাদশ থেকে ১০ জনকে বিশ্রাম দেয়। তারকা ফুটবলার এরলিং হলান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ড শুধু বেঞ্চেই ছিলেন না, তাঁদের মাঠেও নামানো হয়নি।