Home SportsFIFA 2026 শেষ মুহূর্তের ধাক্কা, তবু গ্রুপসেরা যুক্তরাষ্ট্র: তুরস্কের কাছে ৩-২ হারে নকআউটের আগে সতর্কবার্তা

শেষ মুহূর্তের ধাক্কা, তবু গ্রুপসেরা যুক্তরাষ্ট্র: তুরস্কের কাছে ৩-২ হারে নকআউটের আগে সতর্কবার্তা

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
26 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে ৩-২ গোলে হারল যুক্তরাষ্ট্র।
  • অতিরিক্ত সময়ের শেষ আক্রমণে কাান আইহানের গোলে জয় নিশ্চিত করে তুরস্ক।
  • প্রথমে এগিয়ে গিয়েও রক্ষণে ভুলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
  • দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরালেও জয়ের গোল আর পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
  • গ্রুপের শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত হওয়ায় নকআউটে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে মার্কিন দল।

বিশ্বকাপে এবারের গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই একাধিক নজির গড়েছে। এক ম্যাচে সর্বাধিক গোল, আধুনিক যুগে প্রথমবার টানা দুই জয় এবং একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত—সব মিলিয়ে আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। কিন্তু গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিরুদ্ধে সেই আত্মবিশ্বাস বড় ধাক্কা খেল। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে শেষ মুহূর্তের গোলে ৩-২ ব্যবধানে হারতে হল স্বাগতিকদের।

এই হার তাদের গ্রুপের শীর্ষস্থান কেড়ে নিতে পারেনি। তবে নকআউট পর্বের আগে দলটির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠল। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। আগের দুই ম্যাচের মতো এ দিনও দ্রুত গোল পেয়ে যায় তারা। নবম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল পেয়ে কঠিন কোণ থেকেও গোল করেন ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। গোলের পর কোচ মরিসিও পোচেত্তিনোকে জড়িয়ে ধরে উদ্‌যাপন করেন তিনি।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ বারবার ছন্দ হারাতে থাকে। দশম মিনিটেই সমতা ফেরান তুরস্কের তারকা আর্দা গুলের। মাঝমাঠ ও রক্ষণের ফাঁক গলে এগিয়ে এসে সহজেই বল জালে জড়ান তিনি। এরপর ৩১ মিনিটে অরকুন ককচুর গোলে এগিয়ে যায় তুরস্ক। মাঝমাঠে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে হার, দ্রুত পাসের আদানপ্রদান এবং সঠিক সময়ে কাটা পাস—সব মিলিয়ে দারুণ আক্রমণ গড়ে তোলে তুরস্ক।

দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ বদলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের খেলা। তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং রক্ষণেও দৃঢ়তা ফিরে আসে। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত অর্ধভলিতে সমতা ফেরান সেবাস্টিয়ান বারহাল্টার। গোল করার পর দ্রুত বল তুলে নিয়ে আবার খেলা শুরু করতে ছুটে যান তিনি, যাতে জয়ের গোলের জন্য আরও সময় পাওয়া যায়।

এরপর একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। চোট কাটিয়ে বদলি হিসেবে নামা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ বেশ প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেন। ৬৩ মিনিটে তাঁর একটি শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে ওয়েস্টন ম্যাককেনির শটও রুখে দেয় তুরস্কের রক্ষণ।

শেষ পর্যন্ত যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্র হতে চলেছে, তখনই আসে নিষ্ঠুর সমাপ্তি। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ আক্রমণে আর্দা গুলের ডান দিক থেকে দুর্দান্ত ক্রস বাড়ান। দূরের পোস্টে সম্পূর্ণ ফাঁকা অবস্থায় থাকা কান আইহান সহজেই বল জালে পাঠিয়ে তুরস্ককে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

এই ম্যাচে কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো প্রায় পুরো প্রথম একাদশ বদলে দিয়েছিলেন। আগের দুই ম্যাচ থেকে কেবল ওয়েস্টন ম্যাককেনিই দলে ছিলেন। আবার চোটের কারণে মিডফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ান রোলডানও খেলতে পারেননি। ফলে মাঝমাঠে নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট ছিল।

পরিসংখ্যানে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে ছিল। ৫৩ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের, কর্নার পেয়েছে ৯টি, লক্ষ্যে শট নিয়েছে ৭টি। তুরস্কের ছিল মাত্র ৩টি লক্ষ্যে শট। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়।

এই হার গ্রুপপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। তবে নকআউট পর্বের আগে এটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে রইল। বিশ্বকাপের মতো আসরে ছোট ছোট ভুলেরই বড় মূল্য দিতে হয়—তুরস্কের বিরুদ্ধে সেই শিক্ষাই পেল স্বাগতিকরা। এখন দেখার, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তারা এই পরাজয়ের শিক্ষা কতটা কাজে লাগাতে পারে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles