হাইলাইটস
- নরওয়ে–ফ্রান্স ম্যাচকে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে তারকাসমৃদ্ধ লড়াই বলা হচ্ছে।
- বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই স্ট্রাইকার Erling Haaland ও Kylian Mbappé আবারও মুখোমুখি।
- প্রথম দুই ম্যাচে দু’জনেই চার গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষ সারিতে।
- খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা হলেও ইউরোপীয় লিগে দু’জনের পরিসংখ্যান প্রায় অভিন্ন।
- আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পের ম্যাচ বেশি হলেও হালান্ডের গোলসংখ্যা প্রায় সমান।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি তারকাসমৃদ্ধ ম্যাচ হিসেবে ধরা হচ্ছে নরওয়ে বনাম ফ্রান্সের লড়াইকে। ফুটবলারদের আনুমানিক বাজারমূল্যের বিচারে এই ম্যাচেই অংশ নিচ্ছে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে মূল্যবান দুই দল। তবে বোস্টনের মাঠে সব আলো থাকবে মাত্র দুই সুপারস্টারের ওপর—নরওয়ের Erling Haaland এবং ফ্রান্সের Kylian Mbappé।
দু’জনেই প্রথম দুই ম্যাচে চারটি করে গোল করে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
দুই তারকার খেলার ধরন একেবারেই আলাদা। হালান্ড মূলত বক্সের ভেতরের শিকারি। প্রতিপক্ষের রক্ষণে সামান্য ফাঁক পেলেই তিনি গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। অন্যদিকে এমবাপ্পে অনেক বেশি গতিনির্ভর ও ড্রিবলিং-কুশলী। প্রান্ত থেকে বল নিয়ে ছুটে এসে রক্ষণ ভেঙে গোলের সুযোগ তৈরি করাই তাঁর বিশেষত্ব। মাত্র দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচেই তিনি যতবার সফল ড্রিবল করেছেন, পুরো একটি লিগ মৌসুমে হালান্ডের সংখ্যাও প্রায় ততটাই।
তবে খেলার ধরন ভিন্ন হলেও পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে দু’জনের অবদান বিস্ময়করভাবে কাছাকাছি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে হালান্ডের Borussia Dortmund অভিষেকের পর থেকে এমবাপ্পে মাত্র একটি বেশি লিগ ম্যাচ খেলেছেন। মাঠে থেকেছেন মাত্র ১১ মিনিট বেশি।
এই সময়ে গোলসংখ্যায় হালান্ড এগিয়ে মাত্র দুটি গোলে। অন্যদিকে অ্যাসিস্টে এমবাপ্পে এগিয়ে পাঁচটি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট অবদানের হিসাবে দু’জনের ওপরে রয়েছেন শুধু Harry Kane। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, কেইন এই সময়ে দু’জনের তুলনায় প্রায় ১,৭০০ মিনিট বেশি খেলেছেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরিসংখ্যানে অবশ্য কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। এমবাপ্পে কম বয়স থেকেই ইউরোপের শিরোপাপ্রত্যাশী ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেছেন বলে তাঁর ম্যাচসংখ্যা বেশি। তবু সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, হালান্ডের ঝুলিতে ইতিমধ্যেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পদক রয়েছে, যা এমবাপ্পের নেই।
পরিসংখ্যান আরও বলছে, প্রতি ৯০ মিনিটে গোল ও অ্যাসিস্টের গড়ে দু’জন প্রায় সমান হলেও নকআউট পর্বে এমবাপ্পের কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে কম।
শুক্রবারের ম্যাচের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড। জাতীয় দলের হয়ে এমবাপ্পে ও হালান্ডের গোলসংখ্যার পার্থক্য মাত্র একটি। তবে এমবাপ্পে প্রায় দ্বিগুণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ফ্রান্সের হয়ে গোলের খাতা খুলেছেন হালান্ডের প্রায় তিন বছর আগে।
বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী সতীর্থদের কারণে বোস্টনের এই ম্যাচে এমবাপ্পের সাফল্যের সম্ভাবনা কিছুটা বেশি। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ফুটবলে হালান্ডই শেষ পর্যন্ত বেশি গোল করবেন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়; আধুনিক ফুটবলের দুই সেরা গোলমেশিনের ব্যক্তিগত দ্বৈরথও বটে। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কে এগিয়ে যাবেন, তারও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে এই ম্যাচে।