হাইলাইটস:
- ২-০ গোলে কুরাসাওকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল আইভরি কোস্ট।
- দুই গোলই করেন নিকোলাস পেপে।
- ৪৮ দলের বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত কাঠামোর সুফল পেল আফ্রিকার দেশগুলি।
- অভিষেক বিশ্বকাপেই লড়াকু ফুটবল খেলেও বিদায় নিল কুরাসাও।
- নকআউটে ওঠার পর আরও অনেক দূর যাওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা কোচ এমার্স ফায়ের।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কখনও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি আইভরি কোস্ট। আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই পরিসংখ্যান অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কিন্তু সেই অপূর্ণতার অবসান ঘটল এবার। ফিলাডেলফিয়ায় কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিল ‘লে এলেফাঁ’। ম্যাচের দুই গোলই করেন নিকোলাস পেপে।
ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর আইভরি কোস্টের প্রধান কোচ এমার্স ফায়ে দেশবাসীকে উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই যোগ্যতা অর্জন অবশ্যই উদযাপনের দাবি রাখে। তবে উদযাপন শেষ হলেই আমাদের লক্ষ্য আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া। আমাদের দলটি তরুণ। অধিকাংশ ফুটবলারের এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। তারা দারুণ খেলছে এবং দলের মধ্যে অসাধারণ ঐক্য রয়েছে।”
ফিলাডেলফিয়ার ম্যাচটি খুব বেশি দর্শনীয় না হলেও আইভরি কোস্ট নিজেদের কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা কুরাসাও হারলেও লড়াই করে সম্মান আদায় করে নিয়েছে। সম্প্রসারিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে কুরাসাওয়ের মতো নতুন দেশগুলির অংশগ্রহণকে দেখছেন অনেকেই।
গ্রুপ পর্বে জার্মানির বিরুদ্ধে একসময় সমতা ফিরিয়ে আনা, পরে ৭-১ ব্যবধানে হার এবং ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র—সব মিলিয়ে কুরাসাও নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে গোলরক্ষক এলোয় রুম ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে নজর কেড়েছিলেন, যা অতিরিক্ত সময় ছাড়া বিশ্বকাপে দীর্ঘদিনের অন্যতম সেরা গোলকিপিং পারফরম্যান্স।
অন্যদিকে, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে বড় সুবিধা পেয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরাও। আগে যেখানে আফ্রিকার জন্য মাত্র পাঁচটি জায়গা ছিল, এবার তা বেড়ে হয়েছে দশটি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে সফল হলেও বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দেশগুলির সামনে নতুন দরজা খুলেছে। আইভরি কোস্ট বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে অপরাজিত থেকে, আটটি জয় তুলে নিয়ে এবং একটি গোলও না খেয়ে মূলপর্বে এসেছে।
তবে গ্রুপ পর্বে তাদের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে আমাদ দিয়ালোর ৯০ মিনিটের জয়সূচক গোল তাদের তিন পয়েন্ট এনে দেয়। এরপর জার্মানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে গোল খেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট হারাতে হয়। ফলে শেষ ম্যাচে জয়ই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই সেই লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। কুরাসাওয়ের দুই ডিফেন্ডার জুরিয়েন গারি ও জশুয়া ব্রেনেটের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নেন ইয়ান দিয়োমান্দে। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তিনি পাস বাড়ান নিকোলাস পেপের উদ্দেশে। সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করে জালে বল জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন পেপে।
প্রথমার্ধে বলের দখল অনেকটাই আইভরি কোস্টের থাকলেও আক্রমণে তারা খুব বেশি ধারালো ছিল না। বরং তাহিথ চং ও লিয়ান্দ্রো বাকুনার নেতৃত্বে কুরাসাও কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে বিপদের ইঙ্গিত দেয়। তবে গোলের সামনে কার্যকর ফিনিশারের অভাবে সেই সুযোগগুলি কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে কুরাসাও আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আক্রমণভাগে মানসম্পন্ন স্ট্রাইকারের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষে কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাট বলেন, “আমাদের এমন আরও ফুটবলার খুঁজে বের করতে হবে, যারা কুরাসাওয়ের হয়ে খেলতে পারে। কয়েকটি পজিশনে মানোন্নয়ন জরুরি।”
৬৪ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে আইভরি কোস্ট। ইব্রাহিম সাঙ্গারের নিখুঁত পাসে রক্ষণভাগ ভেঙে বেরিয়ে যান পেপে। সাবেক আর্সেনাল তারকা ঠান্ডা মাথায় বাঁকানো শটে এলোয় রুমকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন।
২-০ ব্যবধানের এই জয়ে গ্রুপ ‘ই’-এর রানার্স-আপ হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠে গেল আইভরি কোস্ট। আফ্রিকার এই শক্তিশালী ফুটবল দেশটির কাছে এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং বহু বছরের অপেক্ষার অবসান। এবার তাদের লক্ষ্য, ইতিহাস গড়ার এই যাত্রাকে আরও দীর্ঘ করা।