হাইলাইটস:
- বক্স অফিসে সাফল্যের পর ‘ম্যায়ন ফির আউঙ্গা’ নিয়ে মুখ খুললেন ইমতিয়াজ আলি।
- শর্বরী ও ভেদাং রায়নাকে নিয়ে তুলনামূলক বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন পরিচালক।
- ইমতিয়াজের দাবি, অভিনয় কোনও প্রতিযোগিতা নয়, বরং দলগত শিল্প।
- দুই অভিনেতার রসায়নকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা বলে বর্ণনা করলেন তিনি।
- ছবিটিকে ‘গদর’ ও ‘লগান’-এর উত্তরসূরি বা ‘সন্তান’ বলেও উল্লেখ করলেন পরিচালক।
ইমতিয়াজ আলির নতুন ছবি ম্যায়ন ফির আউঙ্গা মুক্তির শুরুতে খুব একটা ঝড় তুলতে না পারলেও ধীরে ধীরে দর্শকের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং মুখে-মুখে প্রচারের জোরে বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ছবিতে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করলেও বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তরুণ তারকা শর্বরী ও ভেদাং রায়না। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজকে প্রশ্ন করা হয়, ছবিতে অভিনয়ের জন্য শর্বরী ও ভেদাংয়ের মধ্যে কে বেশি প্রশংসার দাবিদার। সামাজিক মাধ্যমে এই দুই অভিনেতাকে নিয়ে নানা তুলনাও চলছে। তবে পরিচালক সেই বিতর্কে জল ঢেলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিনয়কে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা ভুল।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ বলেন, “অভিনয় বক্সিংয়ের মতো নয়। এখানে কেউ কারও বিরুদ্ধে লড়াই করে না। অভিনেতারা একসঙ্গে কাজ করেন, একে অপরকে সমর্থন করেন। কেউ ভেদাংকে বেশি পছন্দ করেছেন, কেউ শর্বরীকে। কিন্তু একজন পরিচালক হিসেবে আমি দেখেছি, যখন এই দু’জন একসঙ্গে পর্দায় ছিলেন, তখন দৃশ্যগুলো সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।” পরিচালকের মতে, শর্বরী ও ভেদাংয়ের মধ্যে এমন এক সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল যা আজকের প্রতিযোগিতামূলক চলচ্চিত্র জগতে খুব বেশি দেখা যায় না। তিনি বলেন, “আমার কেরিয়ারে এর চেয়ে ভালো সহ-অভিনেতার জুটি খুব কম দেখেছি। ওরা একে অপরের পাশে থেকেছে, একে অপরকে সাহায্য করেছে এবং একটি দল হিসেবে কাজ করেছে।”
ইমতিয়াজের এই মন্তব্য অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সাধারণত কোনও ছবি সফল হলে দর্শক ও সমালোচকরা প্রধান অভিনেতাদের মধ্যে তুলনা টানতে শুরু করেন। কে বেশি ভালো অভিনয় করলেন, কে বেশি পর্দা দখল করলেন—এই ধরনের আলোচনাই প্রাধান্য পায়। কিন্তু ইমতিয়াজ সেই প্রচলিত মানসিকতার বিরোধিতা করে দলগত অভিনয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পরিচালকের বক্তব্যে স্পষ্ট, ম্যায়ন ফির আউঙ্গা কেবল একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর কৃতিত্বে দাঁড়িয়ে নেই। বরং ছবির সাফল্যের অন্যতম কারণ হল চরিত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শিল্পীদের মধ্যে গড়ে ওঠা বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসই পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য আবেগ তৈরি করেছে।
ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইমতিয়াজ আরও একটি আকর্ষণীয় মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ম্যায়ন ফির আউঙ্গা যেন জনপ্রিয় দুই হিন্দি চলচ্চিত্র গদর এবং লগান-এর মিলিত উত্তরসূরি। অর্থাৎ ছবিতে যেমন রয়েছে আবেগ, প্রেম ও দেশকালভিত্তিক নাটকীয়তা, তেমনই রয়েছে বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষাপট। এই তুলনা নিছক প্রচারের ভাষা নয় বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ, গদর যেমন দর্শকের আবেগকে নাড়া দিয়েছিল, আর লগান যেমন ব্যক্তিগত সংগ্রামকে বৃহত্তর সামাজিক লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছিল, ম্যায়ন ফির আউঙ্গাও সেই দুই ধারার মিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা করেছে বলে দাবি পরিচালকের।
বর্তমানে ছবিটির সাফল্য ইমতিয়াজ আলির কেরিয়ারেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সম্পর্ক, আবেগ ও আত্মঅন্বেষণের গল্প বলার জন্য পরিচিত। ম্যায়ন ফির আউঙ্গা সেই ধারাকেই আরও বিস্তৃত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, শর্বরী ও ভেদাংকে ঘিরে কে সেরা—এই বিতর্কে না গিয়ে ইমতিয়াজ আলি যে সহযোগিতার গুরুত্বকেই সামনে আনলেন, তা চলচ্চিত্র জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তাঁর কথায়, একটি ভালো ছবি তখনই তৈরি হয়, যখন শিল্পীরা একে অপরকে হারানোর চেষ্টা না করে একসঙ্গে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আর ম্যায়ন ফির আউঙ্গা-র সাফল্য সেই দর্শনকেই যেন আরও একবার প্রমাণ করল।