হাইলাইটস:

  • ট্রাম্পকে “জনরোষের সাগরে ডুবিয়ে” দেওয়ার হুঁশিয়ারি আইআরজিসি প্রতিনিধির।
  • মন্তব্য করেছেন আবদোল্লাহ হাজি সাদেঘি, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি।
  • যুক্তরাষ্ট্রকে “অবিশ্বাসযোগ্য শত্রু” বলে আখ্যা।
  • ইরান-আমেরিকা আলোচনা চললেও কট্টরপন্থী শিবিরের অবস্থান অনড়।
  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠল।

বাংলাস্ফিয়ার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ফের তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানাল ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর শীর্ষ মহল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আইআরজিসি-সংক্রান্ত প্রতিনিধি আবদোল্লাহ হাজি সাদেঘি বলেছেন, “ইরানের জনগণ বিশ্রাম নেবে না, যতক্ষণ না ট্রাম্পকে তাদের ক্ষোভের সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।” তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন সুইৎজারল্যান্ডে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত-পরবর্তী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সাদেঘি ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ করে বলেন, “তুমি ফেরাউনের মতো আচরণ করছ। জেনে রাখো, এই জাতি তোমাকে তাদের ক্রোধের সাগরে ডুবিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত থামবে না।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিদেশি শক্তি কোনও দিনই ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না এবং সেই স্বপ্ন নিয়েই তাদের কবরস্থ হতে হবে।

শুধু হুমকিই নয়, ইরানের আলোচকদের প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকা এমন এক শত্রু যার সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যায় না এবং যার প্রতি কখনও আস্থা রাখা উচিত নয়। “আমরা শত্রুতা ভুলিনি,” বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই কড়া ভাষার পেছনে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে চলা ইরান-আমেরিকা সংঘাতের তিক্ত অভিজ্ঞতা। যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোলেও ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রের একাংশ এখনও আমেরিকার প্রতি গভীর অবিশ্বাস পোষণ করছে। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক আলোচনা একটি স্থায়ী চুক্তির জন্য “মজবুত ভিত্তি” তৈরি করেছে।

কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও সাদেঘির মন্তব্য প্রমাণ করছে যে ইরানের অভ্যন্তরে এখনও কঠোরপন্থী অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে আলোচনার টেবিলে অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক ও আদর্শগত সংঘাত যে সহজে মিটছে না, তা স্পষ্ট।