হাইলাইটস
- বলিউডের গানের জগতে লিঙ্গবৈষম্যের অভিযোগ তুললেন গায়িকা Sona Mohapatra।
- তাঁর দাবি, হৃদয়ভাঙা ও বিচ্ছেদের অধিকাংশ জনপ্রিয় গান পুরুষ চরিত্রকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়।
- নারীদের আবেগ, ক্ষোভ ও আত্মমর্যাদার গল্প গানে খুব কমই জায়গা পায় বলে মন্তব্য।
- সঙ্গীত শিল্পে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও নারীকেন্দ্রিক গল্প বলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বলিউডের সঙ্গীত জগতে নারী-পুরুষের উপস্থাপনা নিয়ে ফের সরব হলেন গায়িকা সোনা মহাপাত্র। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, বলিউডে হৃদয়ভাঙা, বিচ্ছেদ বা প্রেমে ব্যর্থতার অধিকাংশ গান যেন শুধু পুরুষদের জন্যই “সংরক্ষিত”। তাঁর মতে, জনপ্রিয় সঙ্গীতের বড় অংশে পুরুষের বেদনা, হতাশা ও প্রেমভঙ্গের অভিজ্ঞতাকেই কেন্দ্র করে গল্প বলা হয়, অথচ নারীদের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম গুরুত্ব পায়।
সোনা বলেন, ভারতীয় মূলধারার সিনেমা ও গানের জগতে দীর্ঘদিন ধরেই পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গিই প্রাধান্য পেয়েছে। ফলে প্রেমে আঘাত পাওয়া পুরুষের কান্না, একাকীত্ব বা আত্মসমর্পণের গল্প নিয়ে অসংখ্য গান তৈরি হলেও, একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া নারীর কণ্ঠস্বর খুব কম শোনা যায়। তাঁর মতে, এই প্রবণতা শুধু সঙ্গীতের ক্ষেত্রেই নয়, গোটা বিনোদন শিল্পের বৃহত্তর বাস্তবতারই প্রতিফলন।
গায়িকার বক্তব্য, বাস্তব জীবনে যেমন নারী ও পুরুষ উভয়েই প্রেমে ব্যর্থ হন, তেমনই তাঁদের আবেগের প্রকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বলিউডের গানে সেই ভারসাম্য দেখা যায় না। নারীকেন্দ্রিক গান থাকলেও সেগুলির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং সেগুলি অনেক সময় মূলধারার জনপ্রিয়তার কেন্দ্রে পৌঁছতে পারে না।
সোনা মহাপাত্র বরাবরই স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত। শিল্পের বিভিন্ন অসঙ্গতি, নারীশিল্পীদের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তিনি অতীতেও একাধিকবার মুখ খুলেছেন। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের গীতিকার, সুরকার ও নির্মাতাদের উচিত নারীদের অভিজ্ঞতা ও আবেগকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া।
সঙ্গীতপ্রেমীদের একাংশ সোনার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, বলিউডে সত্যিই বহু জনপ্রিয় বিচ্ছেদের গান পুরুষ চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। আবার অন্যদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে নারীকেন্দ্রিক গানের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
তবে বিতর্ক যাই হোক, সোনা মহাপাত্রর মন্তব্য আবারও বলিউডে নারী প্রতিনিধিত্ব ও সৃজনশীল বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট— হৃদয়ভাঙার গল্প শুধু পুরুষদের নয়, নারীদেরও; আর সেই গল্পগুলিও সমান গুরুত্ব নিয়ে সঙ্গীতে উঠে আসা উচিত।