হাইলাইটস

  • অন্নপূর্ণা যোজনায় ₹৩৬,০০০ কোটি বরাদ্দ
  • যোগ্য মহিলাদের মাসে ₹৩,০০০ আর্থিক সহায়তা
  • সরকারি চাকরিতে ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ
  • মহিলা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর
  • মহিলা পুলিশ নিয়োগ বাড়ানোর নীতিগত প্রতিশ্রুতি
  • আর্থিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার

বাংলাস্ফিয়ার: রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে মহিলাদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুই ছিল নারীকল্যাণ, নারী-স্বনির্ভরতা এবং কর্মসংস্থান। একদিকে যেমন অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তেমনই সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণাও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্নপূর্ণা যোজনা: বাজেটের সবচেয়ে বড় সামাজিক কর্মসূচি

বাজেটে মহিলাদের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক ঘোষণা হল অন্নপূর্ণা যোজনা। এই প্রকল্পের জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মহিলা আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবেন এবং সংসারের ব্যয়ভার বহনে সাহায্য পাবেন।

নতুন সরকার ইতিমধ্যেই দাবি করেছে যে মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন তাদের প্রশাসনিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি। সেই কারণেই বাজেটে নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ

বাজেটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ। নির্বাচনের আগে বিজেপির সংকল্পপত্রে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এবার বাজেটে সেই প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর করার দিকেই সরকার এগোচ্ছে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, প্রশাসনিক পরিষেবা এবং পুলিশ বাহিনীতে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা নিয়োগের পথ খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নের যোগ

বাজেটে এক লক্ষ নতুন সরকারি চাকরির ঘোষণাও করা হয়েছে। এই বিপুল নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশে মহিলা প্রার্থীরা সংরক্ষণের সুবিধা পেতে পারেন। ফলে নারীকল্যাণকে শুধু ভাতা বা আর্থিক সাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থানের সঙ্গেও যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে কোনও রাজ্যে মহিলাদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন ঘটে তখনই, যখন তারা সরাসরি শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। চাকরিতে সংরক্ষণ সেই সুযোগ বাড়াতে পারে।

মহিলা পুলিশ নিয়োগেও জোর

নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি নেতৃত্ব বারবার বলেছিল যে রাজ্যে মহিলা পুলিশ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। বাজেটেও সেই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। যদিও বিস্তারিত নিয়োগ নীতি পরে ঘোষণা করা হবে, তবু প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি বাড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মহিলা ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরেই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে আসছেন। গত এক দশকে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মধ্যে শক্তিশালী সমর্থনভিত্তি গড়ে তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। নতুন বিজেপি সরকার সেই ক্ষেত্রেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে নগদ সহায়তা এবং সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ—এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটিয়ে নারী ভোটারদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি বার্তা দিতে চেয়েছে সরকার।

উপসংহার

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বাজেটে মহিলাদের জন্য দুটি বড় স্তম্ভ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে—আর্থিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা যেমন মহিলাদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেবে, তেমনই সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ ভবিষ্যতে প্রশাসন ও সরকারি পরিষেবায় নারীদের উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ফলে এই বাজেটকে নারী-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির এক নতুন অধ্যায় বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।