হাইলাইটস

  • বোরখা ও পর্দা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা Imtiaz Ali।
  • তিনি বলেন, কোনও প্রথা দীর্ঘদিন ধরে মেনে চললে মানুষ সেটিকে স্বাভাবিক বা আরামদায়ক বলে মনে করতে পারে।
  • নারীরা বোরখায় ‘স্বচ্ছন্দ’ বলে দাবি করলেও সেই স্বচ্ছন্দতার সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
  • তাঁর মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
  • নারী স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং ধর্মীয় অনুশাসনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক Imtiaz Ali সম্প্রতি বোরখা ও পর্দা প্রথা নিয়ে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অনেক নারী দাবি করেন যে তাঁরা বোরখা বা পর্দার মধ্যে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু কোনও প্রথা দীর্ঘদিন ধরে সমাজে চালু থাকলে এবং ছোটবেলা থেকে তা মেনে চলার শিক্ষা পেলে সেটিকে স্বাভাবিক বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই শুধুমাত্র ‘আমি এতে আরাম পাই’—এই যুক্তি দিয়ে কোনও সামাজিক প্রথার যৌক্তিকতা বিচার করা যায় না।

ইমতিয়াজ আলির মতে, মানুষের অভ্যাস এবং সামাজিক শর্তায়ন বা কন্ডিশনিং অনেক সময় স্বাধীন পছন্দের ধারণাকে প্রভাবিত করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন নারী সত্যিই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, নাকি সামাজিক ও পারিবারিক চাপের মধ্যে থেকে সেই সিদ্ধান্তকে নিজের পছন্দ বলে গ্রহণ করছেন—সেই বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।

পরিচালকের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসকে সরাসরি আক্রমণ করতে চাননি। বরং তিনি নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে আনতে চেয়েছেন। তাঁর মতে, কোনও প্রথা যদি এমন হয় যেখানে এক পক্ষের উপর বাড়তি নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেই প্রথার সামাজিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশের মতে, ইমতিয়াজ আলি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, সমাজে বহু রীতি-নীতি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় যে মানুষ সেগুলিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেয়, যদিও সেগুলির মধ্যে বৈষম্যের উপাদান থাকতে পারে।

অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, একজন নারী যদি নিজের ইচ্ছায় বোরখা পরেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। তাঁদের মতে, কোনও নারী কী পোশাক পরবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ। ফলে বোরখা পরার সিদ্ধান্তকেও সমানভাবে ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রকাশ হিসেবে দেখা উচিত।

এই বিতর্ক নতুন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু বছর ধরেই বোরখা, হিজাব ও পর্দা নিয়ে আলোচনা চলছে। একদিকে কেউ এটিকে ধর্মীয় পরিচয় ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে কেউ এটিকে পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোর অংশ বলে মনে করেন। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র পোশাকের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি নারী অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সামাজিক সমতার বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গে জড়িয়ে যায়।

ইমতিয়াজ আলির সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্যে সমর্থন ও বিরোধিতা—দুই-ই দেখা গেলেও একটি বিষয় স্পষ্ট, নারীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত আসলে কতটা স্বাধীন এবং সমাজের প্রভাব থেকে মুক্ত—সেই প্রশ্ন এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর মন্তব্যের পর সেই আলোচনাই নতুন করে জনপরিসরে জায়গা করে নিয়েছে।