হাইলাইটস:

  • মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে আশঙ্কা, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারে ইজরায়েল।
  • হিজবুল্লাকে বড় নিরাপত্তা-হুমকি হিসেবে দেখছে তেল আভিভ।
  • মার্কিন-ইরান চুক্তিতে লেবাননেও যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও ইজরায়েল সেই চুক্তির আনুষ্ঠানিক পক্ষ নয়।
  • চুক্তি নিয়ে ইজরায়েলে ব্যাপক অসন্তোষ, বিশেষত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও লেবানন-সংক্রান্ত শর্ত নিয়ে।
  • জেডি ভ্যান্স প্রকাশ্যে নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করেছেন।

বাংলাস্ফিয়ার: আমেরিকার একটি সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইজরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইজরায়েলের মতে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লা এখনও উত্তর ইজরায়েলের জন্য গুরুতর হুমকি। সংগঠনটির ধারাবাহিক হামলার জবাব না দিলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করছে তেল আভিভ। সেই কারণেই যুদ্ধবিরতির পরেও ইজরায়েল সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পারে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ধারণা।

এই মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, এমন পদক্ষেপ আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। দুই দেশ বর্তমানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত আমেরিকা-ইরান সমঝোতা স্মারকে লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু চুক্তিটি ইজরায়েলের মধ্যে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। দেশটির রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ মনে করছে, এই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের শর্ত এবং লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও তাদের উদ্বেগের কারণ।

ইজরায়েল এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরকারী নয়। তবুও আমেরিকায় নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার শুক্রবার ঘোষণা করেন যে তাঁর দেশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং “সব আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান বন্ধ করেছে।” তবে তিনি একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন যে দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি বাহিনী অবস্থান বজায় রাখবে এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করবে না।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই ঘোষণার স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, ইজরায়েলের নিরাপত্তা-উদ্বেগ এতটাই গভীর যে বাস্তবে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

শুক্রবারই পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। দক্ষিণ লেবাননের ইজরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হিজবুল্লার একটি ড্রোন হামলায় চার ইজরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইজরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে থেকেও দুই পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল।

এই সংঘর্ষের জেরেই সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত আমেরিকা-ইরান বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। শুক্রবার থেকে ওই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শীর্ষ কর্মকর্তারা আমেরিকা-ইরান সমঝোতা নিয়ে স্বস্তিতে নেই। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর সম্পর্কও টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। যদিও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, আগামী শরতে ইজরায়েলে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু আশা করছেন ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আবারও উষ্ণ হবে। অতীতেও দুই নেতার সম্পর্কের উত্থান-পতন দেখা গেছে। তবে ইরান-চুক্তির প্রশ্নে বর্তমানে সেই সম্পর্ক সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রকাশের আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করেন। ইরানের সঙ্গে চুক্তির পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ইজরায়েল সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী আমেরিকা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আক্রমণ করে ভুল করছেন।

ভ্যান্সের কথায়, “এই মুহূর্তে বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রনেতা যিনি ইজরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের নেতা। আমি যদি ইজরায়েলি মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তাহলে আমার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে আক্রমণ করতাম না।”

ওয়াশিংটনে ইজরায়েলি দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি। তবে ইজরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, লেবাননে তাদের সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক এবং হিজবুল্লার হামলার প্রতিক্রিয়া।