Home SportsFIFA 2026 বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, টিকিট ছাড়াই ঢুকে পড়ার অভিযোগ ডালাসে

বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, টিকিট ছাড়াই ঢুকে পড়ার অভিযোগ ডালাসে

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
21 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে টিকিটবিহীন দর্শক প্রবেশের অভিযোগ।
  • নিরাপত্তায় ছিল স্নাইপার, বিশেষ পুলিশ মোতায়েন এবং কড়া নজরদারি।
  • সমর্থকদের দাবি, টিকিট চেকিংয়ে ছিল বড় ফাঁকফোকর।
  • ফিফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অবৈধ প্রবেশের কোনও প্রমাণ তাদের হাতে নেই।
  • পতাকা টাঙানো নিয়েও স্টেডিয়ামে সমর্থকদের সঙ্গে স্টুয়ার্ডদের বিবাদ।

২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ ছিল ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়ার লড়াই। কিন্তু মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের পর একাধিক ইংল্যান্ড সমর্থক অভিযোগ করেছেন যে বহু মানুষ বৈধ টিকিট ছাড়াই মাঠে ঢুকে পড়তে সক্ষম হয়েছিলেন।

এই অভিযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ম্যাচটিকে ঘিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন। কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভিতরে স্নাইপার মোতায়েন ছিল, স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন এবং সম্ভাব্য যেকোনও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত সম্পদও ব্যবহার করা হয়েছিল।

কিন্তু সমর্থকদের বর্ণনা একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে।

একজন দর্শক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ব্যাপারটা ছিল হাস্যকর। টিকিট স্ক্যান করার গেটের পাশেই বড় বড় ফাঁক ছিল। মানুষ হেঁটে ঢুকে যাচ্ছিল। স্বেচ্ছাসেবকেরা কার্যত কিছুই করছিলেন না। আমার টিকিট ছিল বলে স্ক্যান করেছি, কিন্তু কেউ পতাকা বা অন্য কিছু পরীক্ষা করেনি। অনেকে স্রেফ হেঁটে ঢুকেছে, কেউ আবার টপকে ঢুকে পড়েছে।”

আরেক সমর্থকের বক্তব্য আরও উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, নিরাপত্তাকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই শুধু টিকিট দেখানোর ভান করছিলেন। বাস্তবে তা যাচাই করা হচ্ছিল না। তাঁর কথায়, “টার্নস্টাইল টপকে যাওয়াও খুব সহজ ছিল। অনেকেই সেটা করেছে।”

বিশ্বকাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক আসরে এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২১ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে লন্ডনের ওয়েম্বলিতেও হাজার হাজার টিকিটবিহীন সমর্থক নিরাপত্তা ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। ফলে ডালাসের ঘটনায় সেই স্মৃতি আবার সামনে চলে এসেছে।

তবে ফিফা বিষয়টিকে আপাতত গুরুত্ব দিয়ে স্বীকার করতে রাজি নয়। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমাদের কাছে এমন কোনও তথ্য নেই যা প্রমাণ করে যে সংশ্লিষ্ট ম্যাচে বৈধ টিকিট ছাড়া কেউ স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছে।”

ফিফার এই অবস্থান অবশ্য অনেক সমর্থকের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। কারণ বহু দর্শক হাজার হাজার পাউন্ড খরচ করে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের মতে, যদি সত্যিই অনেকে বিনা টিকিটে ঢুকে থাকে, তবে তা শুধু নিরাপত্তার ব্যর্থতাই নয়, বৈধ টিকিটধারীদের প্রতিও অবিচার।

স্টেডিয়ামের ভেতরেও সমর্থকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আরেক দফা বিবাদ বাধে। কয়েকটি নির্দিষ্ট অংশে ইংল্যান্ড সমর্থকদের পতাকা টাঙাতে বাধা দেন স্টুয়ার্ডরা। অভিযোগ, পতাকা না সরালে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার হুমকিও দেওয়া হয়।

লন্ডনের এক সমর্থক, ড্যান, যিনি ইংল্যান্ড ও Arsenal F.C.-এর পতাকা নিয়ে এসেছিলেন, বলেন, “এত টাকা খরচ করার পরও এই ব্যবহার মেনে নেওয়া কঠিন। মনে হয় যেন ফুটবল সমর্থকদের মানুষ হিসেবে নয়, গবাদি পশুর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।”

বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই নিরাপত্তা নিয়ে এই বিতর্ক আয়োজকদের জন্য অস্বস্তিকর। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র, Canada এবং Mexico যৌথভাবে আয়োজিত এই আসরকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

যদি অভিযোগগুলির সত্যতা পরে প্রমাণিত হয়, তবে শুধু ডালাস নয়, অন্যান্য ভেন্যুর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে খতিয়ে দেখতে হতে পারে। কারণ বিশ্বকাপের মতো বিশাল আসরে নিরাপত্তার একটি ছোট ফাঁকও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে ফিফা অভিযোগ অস্বীকার করলেও, সমর্থকদের অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিবরণ এই বিতর্ককে সহজে থামতে দিচ্ছে না।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles