Home খবর ২০২৭-কে সামনে রেখে ব্রাহ্মণ তাস, সমাজবাদী পার্টির নতুন সমীকরণ

২০২৭-কে সামনে রেখে ব্রাহ্মণ তাস, সমাজবাদী পার্টির নতুন সমীকরণ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
26 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটের আগে ব্রাহ্মণ ভোটারদের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)।
  • অখিলেশ যাদবের লক্ষ্য, ‘পিডিএ’ (পিছড়া-দলিত-আল্পসংখ্যক) জোটের সঙ্গে উচ্চবর্ণের একাংশকেও যুক্ত করা।
  • বিজেপির বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণদের ‘অবমূল্যায়ন’ ও ‘অসম্মান’-এর অভিযোগকে রাজনৈতিক ইস্যু করতে চাইছে এসপি।
  • উত্তরপ্রদেশে ব্রাহ্মণ ভোটের হার প্রায় ১২-১৩ শতাংশ; বহু আসনে তারা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ব্রাহ্মণ ভোট বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। সংখ্যার বিচারে তারা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ হলেও, বহু আসনে তাদের প্রভাব নির্ণায়ক। সেই কারণেই ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) আবারও ব্রাহ্মণদের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরানোর লক্ষ্যেই অখিলেশ যাদব নতুন কৌশল নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির আসন কমে যাওয়ার পর থেকেই রাজ্যের সামাজিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। এসপি মনে করছে, যদি তারা নিজেদের ঐতিহ্যগত যাদব-মুসলিম ভিত্তির বাইরে গিয়ে ব্রাহ্মণদের একাংশকে আকৃষ্ট করতে পারে, তাহলে ২০২৭ সালে ক্ষমতার লড়াই আরও জমে উঠবে।

এই কারণেই সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অখিলেশ যাদব বারবার ব্রাহ্মণ স্বার্থের প্রশ্ন তুলছেন। প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার সময় কয়েকজন ব্রাহ্মণ পুরোহিতের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসার পর এসপি সেটিকে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টা করে। দলের বক্তব্য, বিজেপি সরকার ব্রাহ্মণদের যথাযথ সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগের মাধ্যমে এসপি বিজেপির উচ্চবর্ণ ভোটব্যাঙ্কে অনুপ্রবেশের সুযোগ খুঁজছে।

এসপির এই কৌশল অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগেও দলটি ‘প্রবুদ্ধ সম্মেলন’ বা ব্রাহ্মণ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। তখন অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে একাধিক সভা হয়, যেখানে পরশুরামকে ব্রাহ্মণ গৌরবের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। দল দাবি করেছিল, তাদের সরকার থাকাকালীন ব্রাহ্মণদের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সংস্কৃত শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নে কাজ করা হয়েছিল।

এবারের পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ শুধু এসপি নয়, বিজেপি এবং বিএসপিও ব্রাহ্মণ ভোটের জন্য সক্রিয়। বিজেপি তাদের অন্যতম প্রধান ব্রাহ্মণ মুখ উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠককে সামনে রেখে সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে মায়াবতীও ২০০৭ সালের সফল ‘দলিত-ব্রাহ্মণ’ সামাজিক সমীকরণ ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এসপি বুঝতে পারছে, শুধুমাত্র পিডিএ ফর্মুলার উপর নির্ভর করলে চলবে না। যাদব, অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত ও মুসলিম ভোট একত্র করলেও বহু কেন্দ্রে জয়ের জন্য অতিরিক্ত সমর্থনের প্রয়োজন। সেই জায়গায় ব্রাহ্মণ ভোটারদের একাংশকে পাশে টানতে পারলে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে সুবিধা মিলতে পারে।

অখিলেশ যাদবের রাজনৈতিক বার্তাও তাই বদলেছে। তিনি এখন শুধু সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলছেন না, পাশাপাশি ব্রাহ্মণ নেতাদের সম্মান, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং প্রশাসনের আচরণ সম্পর্কেও সরব হচ্ছেন। হরিশঙ্কর তিওয়ারির মতো প্রভাবশালী ব্রাহ্মণ নেতাদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অসন্তোষের আবহ তৈরির চেষ্টা করছেন।

তবে এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্রাহ্মণ ভোটের একটি বড় অংশ এখনও বিজেপির সঙ্গে রয়েছে, বিশেষত রামমন্দির, হিন্দুত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার কারণে। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি ব্রাহ্মণ সমাজের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে এবং এসপি সেই অসন্তোষকে সংগঠিত করতে পারে, তাহলে ২০২৭ সালের নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, উত্তরপ্রদেশের ২০২৭ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে ব্রাহ্মণ ভোটারদের কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি মনে করছে, পিডিএ জোটের সঙ্গে ব্রাহ্মণদের একটি অংশকে যুক্ত করতে পারলে বিজেপির দীর্ঘদিনের সামাজিক জোটে বড় ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই শুরু হয়েছে তাদের ব্রাহ্মণ-আউটরিচ অভিযান।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles