Home খবর পাহাড়ে প্রথম সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু: ‘পর্যটক হিসেবে নয়, উন্নয়নের রোডম্যাপ নিয়ে এসেছি’

পাহাড়ে প্রথম সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু: ‘পর্যটক হিসেবে নয়, উন্নয়নের রোডম্যাপ নিয়ে এসেছি’

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
10 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দার্জিলিং-পাহাড় সফরে শুভেন্দু অধিকারী।
  • উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখার কথা ঘোষণা।
  • পর্যটন, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে জোর।
  • পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সকে একসঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উন্নয়নের বার্তা।
  • রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সহযোগিতার আহ্বান।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে বড় বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। দার্জিলিং পাহাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি এখানে “পর্যটক হিসেবে” আসেননি; বরং এসেছেন উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি।

পাহাড়ে পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গকে আর রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চল হিসেবে দেখা হবে না। বরং আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “এখানে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে বলে নয়, বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলেই আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে—পর্যটন, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং শিল্প ও কর্মসংস্থান। তাঁর মতে, এই পাঁচটি ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে ঘাটতি ছিল, যার ফলে পাহাড়ের বহু তরুণকে কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে হয়েছে।

পর্যটনের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিক, ডুয়ার্স এবং পাহাড় সংলগ্ন এলাকাগুলিকে নিয়ে একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাহাড়ি অঞ্চলের রাস্তা সংস্কার, নতুন সেতু নির্মাণ, বিকল্প সড়কপথ তৈরি এবং ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। তাঁর মতে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া অর্থনৈতিক বিকাশ সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, উত্তরবঙ্গের জেলা হাসপাতাল ও মহকুমা হাসপাতালগুলিকে আরও আধুনিক করে তোলা হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জরুরি পরিষেবা বাড়ানোর জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যাতে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য কলকাতার ওপর নির্ভর করতে না হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দেন তিনি। পাহাড়ে উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানান। দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তুলে স্থানীয় যুবকদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

রাজনৈতিক দিক থেকেও এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ের রাজনীতি পৃথক পরিচয়, স্বায়ত্তশাসন এবং উন্নয়নের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল সমন্বয় ও সহযোগিতার। তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও আবেগকে সম্মান জানিয়েই উন্নয়নের পথে এগোতে চায় সরকার।

তিনি আরও জানান, প্রশাসনের শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের নিয়ে নিয়মিতভাবে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে উত্তরবঙ্গেই বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক আয়োজন করা হবে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ সরকার গঠনের পর উত্তরবঙ্গে এটি তাঁর প্রথম বড় সফর। তাই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের কাছে রাজনৈতিক আস্থার বার্তাও পৌঁছে দিতে চেয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে পাহাড়ে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা স্পষ্ট—উত্তরবঙ্গকে আর শুধু পর্যটনের মানচিত্রে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। অবকাঠামো, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মানেই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন।”

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles