হাইলাইটস
- ফ্রান্সের নিস শহরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron যৌথভাবে উদ্বোধন করলেন ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ সম্মেলন।
- তিন দিনের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে ১২০টিরও বেশি ভারতীয় ডিপ-টেক স্টার্টআপ এবং ১৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি ও জলবায়ু সমাধান নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- ভারত ও ফ্রান্সের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য।
- আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উদ্ভাবকদের সামনে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরার বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সম্মেলনকে।
ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসে রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ সম্মেলন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই অনুষ্ঠানকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হল ভারতীয় উদ্ভাবক, স্টার্টআপ সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একটি অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে আসা। আয়োজকদের দাবি, এটি শুধু একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-অর্থনীতির রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রও হয়ে উঠতে পারে।
সম্মেলনে ভারতের ১২০টিরও বেশি ডিপ-টেক স্টার্টআপ অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে ১৫টি শীর্ষ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, মহাকাশ প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হবে উদ্ভাবন। তাঁর মতে, ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়। তিনি আরও বলেন, ভারত শুধু প্রযুক্তির বাজার নয়, প্রযুক্তি সৃষ্টিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক এখন শুধু কূটনীতি বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্মাণে আগ্রহী। তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা।
এই সম্মেলনকে ‘ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে গভীর হয়েছে। এবার সেই সম্পর্কের নতুন স্তম্ভ হিসেবে উঠে আসছে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন।
সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদী আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্ভাবন-নির্ভর ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের স্টার্টআপগুলির জন্য বৈশ্বিক অর্থায়ন এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই ছিল এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিপ উৎপাদন, মহাকাশ গবেষণা এবং সবুজ প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্র আগামী কয়েক দশকের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তির ভিত্তি নির্ধারণ করবে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।
নিসের এই সম্মেলন ভারতের জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় স্টার্টআপগুলির আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ, গবেষণা সহযোগিতা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এমন আয়োজন বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প মহলের প্রতিনিধিরা।
‘ভারত ইনোভেটস ২০২৬’ তাই শুধু একটি প্রদর্শনী বা ব্যবসায়িক মঞ্চ নয়; এটি ভারতকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রচেষ্টা। মোদী ও ম্যাক্রোঁর যৌথ উপস্থিতি সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করেছে—প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারত ও ফ্রান্স আগামী দিনের অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।