Home DRAFT ভালোবাসার খোঁজে দিল্লি চিড়িয়াখানার ‘একাকী’ প্রাণীরা, সঙ্গী খুঁজতে দেশজুড়ে উদ্যোগ

ভালোবাসার খোঁজে দিল্লি চিড়িয়াখানার ‘একাকী’ প্রাণীরা, সঙ্গী খুঁজতে দেশজুড়ে উদ্যোগ

হাইলাইটস দিল্লি চিড়িয়াখানায় অন্তত ২০টি বন্যপ্রাণী দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীহীন। জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখতে অন্য চিড়িয়াখানা থেকে উপযুক্ত সঙ্গী আনার উদ্যোগ। তালিকায় রয়েছে বাঘ, চিতা, নেকড়ে, ভালুক, জলহস্তীসহ একাধিক প্রজাতি। প্রাণীদের সুস্থ প্রজনন ও সংরক্ষণ কর্মসূচির জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।

Authored By অনন্যা মজুমদার
32 views 2 minutes read
A+A-
Reset

দিল্লির জাতীয় প্রাণী উদ্যান বা চিড়িয়াখানায় এখন এক অদ্ভুত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মিশন শুরু হয়েছে—‘ভালোবাসার খোঁজ’। বিষয়টি অবশ্য মানুষের নয়, বন্যপ্রাণীদের। বহু বছর ধরে একাকী জীবন কাটানো অন্তত ২০টি প্রাণীর জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজতে উদ্যোগ নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রাণীদের অনেকেই বিপন্ন বা সংরক্ষণ-নির্ভর প্রজাতির অন্তর্গত। ফলে তাদের জন্য সঙ্গী খুঁজে দেওয়া শুধু প্রজননের প্রশ্ন নয়, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কৌশলেরও অংশ। দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও প্রাণী উদ্যানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে, যাতে জিনগতভাবে উপযুক্ত জুটি তৈরি করা যায়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘদিন একা থাকা প্রাণীদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেক সময় তারা কম সক্রিয় হয়ে পড়ে, আবার কিছু ক্ষেত্রে মানসিক চাপের লক্ষণও দেখা যায়। সঙ্গী পাওয়ার ফলে তাদের স্বাভাবিক সামাজিক আচরণ ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রজননের সম্ভাবনাও বাড়বে।

যেসব প্রাণীর জন্য সঙ্গী খোঁজা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছে বাঘ, চিতাবাঘ, নেকড়ে, জলহস্তী, ভালুক এবং কয়েকটি বিরল পাখির প্রজাতি। কিছু প্রাণী বয়সে প্রজননের জন্য এখনও উপযুক্ত, কিন্তু তাদের জন্য সঠিক সঙ্গী না থাকায় এতদিন কোনও প্রজনন কর্মসূচি চালানো সম্ভব হয়নি।

ভারতের কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ (Central Zoo Authority) দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন চিড়িয়াখানার মধ্যে প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে জিনগত বৈচিত্র্য বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। একই রক্তধারার প্রাণীদের মধ্যে প্রজনন হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রাণীর বয়স, স্বাস্থ্য, জিনগত ইতিহাস এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক চিড়িয়াখানার ভূমিকা এখন আর শুধুমাত্র দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ, প্রজনন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাই এখন তাদের অন্যতম প্রধান কাজ। সেই লক্ষ্যেই এই ‘ম্যাচমেকিং’ বা জুটি গঠনের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লি চিড়িয়াখানার এই প্রচেষ্টা সফল হলে শুধু নতুন প্রাণশিশুর জন্মই নয়, দেশের সংরক্ষণ কর্মসূচিও আরও শক্তিশালী হবে। মানুষের মতো প্রাণীদেরও সামাজিক ও প্রজনন জীবনের প্রয়োজন রয়েছে—এই উদ্যোগ যেন সেই সত্যকেই নতুন করে সামনে এনে দিল।

এক অর্থে বলা যায়, দিল্লি চিড়িয়াখানার এই ২০ ‘ওয়াইল্ড সিঙ্গল’-এর জন্য এখন শুরু হয়েছে নতুন অপেক্ষা—উপযুক্ত সঙ্গীর সন্ধানে, নতুন জীবনের আশায়।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles