Home স্বাস্থ্য কসমেটিকোরেক্সিয়া: ত্বকের যত্ন নাকি নতুন আসক্তি? স্কিনকেয়ারের খরগোশের গর্তে হারিয়ে যাচ্ছে কিশোরীরা

কসমেটিকোরেক্সিয়া: ত্বকের যত্ন নাকি নতুন আসক্তি? স্কিনকেয়ারের খরগোশের গর্তে হারিয়ে যাচ্ছে কিশোরীরা

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 4 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ‘কসমেটিকোরেক্সিয়া’ বলতে বোঝায় সৌন্দর্যচর্চা ও স্কিনকেয়ার নিয়ে অস্বাস্থ্যকর মাত্রার আসক্তি।
  • সামাজিক মাধ্যম, বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার এবং প্রসাধনী শিল্পের আগ্রাসী বিপণন এই প্রবণতাকে বাড়িয়ে তুলছে।
  • অনেক কিশোরী এমন সব রাসায়নিক উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করছে, যা আসলে তাদের বয়সের জন্য প্রয়োজনীয় নয়।
  • অতিরিক্ত স্কিনকেয়ার ত্বকের উপকারের বদলে ক্ষতিও করতে পারে।
  • চিকিৎসকদের মতে, এটি শুধু ত্বকের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন।

এক সময় কিশোরীদের সৌন্দর্যচর্চা বলতে বোঝাত মুখ ধোয়া, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা কিংবা মাঝে মাঝে সানস্ক্রিন লাগানো। কিন্তু আজকের ডিজিটাল যুগে সেই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এখন ১১, ১২ বা ১৩ বছরের মেয়েদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে দশ-বারো ধাপের স্কিনকেয়ার রুটিন। সকাল-বিকেল সিরাম, টোনার, এক্সফোলিয়েটর, রেটিনল, অ্যাসিড-ভিত্তিক ক্রিম—এসব শব্দ এখন অনেক কিশোরীর মুখে মুখে।

এই নতুন প্রবণতারই নাম দেওয়া হয়েছে “Cosmeticorexia” বা কসমেটিকোরেক্সিয়া।

শব্দটি এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের রোগনির্ণয় নয়, কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিজ্ঞানীরা ক্রমশ এই শব্দটি ব্যবহার করছেন এমন এক আচরণকে বোঝাতে, যেখানে একজন ব্যক্তি সৌন্দর্যচর্চা ও প্রসাধনী ব্যবহারের প্রতি এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন যে তা স্বাভাবিক জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

স্কিনকেয়ার কখন আসক্তিতে পরিণত হয়?

নিজের ত্বকের যত্ন নেওয়া অবশ্যই ভালো অভ্যাস। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন ত্বকের যত্ন নেওয়া একটি প্রয়োজন থেকে বাধ্যতামূলক আচরণে পরিণত হয়।

অনেক কিশোরী এখন দিনে বহুবার আয়নায় নিজের মুখ পরীক্ষা করে। সামান্য ব্রণ, ছোট একটি দাগ বা ত্বকের সামান্য রঙের তারতম্যও তাদের কাছে বড় সমস্যা বলে মনে হয়। নতুন কোনও পণ্য বাজারে এলেই সেটি কিনতে হবে, নতুন কোনও ইনফ্লুয়েন্সার কোনও সিরামের প্রশংসা করলেই তা ব্যবহার করতে হবে—এই মানসিকতা ধীরে ধীরে এক ধরনের আবেশে পরিণত হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রবণতার মধ্যে খাদ্যাভ্যাস-সংক্রান্ত রোগ অ্যানোরেক্সিয়ার সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে। যেমন অ্যানোরেক্সিয়ায় একজন ব্যক্তি নিজের শরীর সম্পর্কে বিকৃত ধারণা তৈরি করেন, তেমনি কসমেটিকোরেক্সিয়ায় একজন ব্যক্তি নিজের ত্বককে বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করতে শুরু করেন।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles