Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: অনিদ্রা, উদ্বেগ, হট ফ্ল্যাশ, মুড সুইং—মেনোপজের নানা সমস্যায় ভুগছেন? একজন অভিজ্ঞ যোগশিক্ষকের মতে, একটি সহজ যোগাসনই ঘুমের মান উন্নত করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে গভীরভাবে শিথিল করতে অসাধারণ সাহায্য করতে পারে।
কেন ৫০-এর পর যোগব্যায়াম এত গুরুত্বপূর্ণ?
পঞ্চাশ পেরোলেই অনেক নারীর শরীরে শুরু হয় বড় ধরনের পরিবর্তন। বিশেষত মেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামার ফলে দেখা দিতে পারে—
- অনিদ্রা
- উদ্বেগ
- মেজাজের ওঠানামা
- হট ফ্ল্যাশ
- ক্লান্তি
- মনোসংযোগের সমস্যা
- সন্ধি ও পেশির ব্যথা
এই সময়ে নিয়মিত যোগব্যায়াম শুধু শরীরচর্চা নয়, মানসিক ভারসাম্য রক্ষারও একটি কার্যকর উপায়।
যোগশিক্ষিকা মেলি পার্ডনের মতে, যোগব্যায়াম নারীদের—
- হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে
- জয়েন্ট বা সন্ধির স্বাস্থ্য রক্ষা করে
- ভারসাম্য ও নমনীয়তা বাড়ায়
- স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে
- উদ্বেগ ও অনিদ্রা কমায়
- মানসিক স্থিতি ফিরিয়ে আনে
বিশেষজ্ঞের মতে সেরা আসন: ‘লেগস আপ দ্য ওয়াল’ (Viparita Karani)
যদি পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের জন্য মাত্র একটি যোগাসন বেছে নিতে হয়, তাহলে মেলি পার্ডনের প্রথম পছন্দ বিপরীত করণী বা Legs Up the Wall Pose।
এই আসনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এতে প্রায় কোনও শারীরিক পরিশ্রম লাগে না। শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রামের অবস্থায় চলে যায়।
কীভাবে করবেন?
১. একটি বালিশ বা লম্বা কুশন দেয়ালের কাছে রাখুন।
২. শরীরের এক পাশ দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে বসুন।
৩. হাতের সাহায্যে ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ুন।
৪. একই সঙ্গে পা দুটো দেয়ালের ওপর তুলে দিন।
৫. কোমর ও পিঠ কুশনের ওপর আরাম করে রাখুন।
৬. হাত দুটো শরীরের পাশে শিথিল অবস্থায় রাখুন।
৭. চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন।
কতক্ষণ থাকবেন?
৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত আরামে থাকা যায়। নতুনরা ৩-৫ মিনিট দিয়ে শুরু করতে পারেন।
আসনের উপকারিতা
১. অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে – দিনের শেষে এই আসন স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। ফলে ঘুম দ্রুত আসে এবং ঘুমের মানও উন্নত হয়।
২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়- শরীর যখন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকে, তখন মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করে। ফলে স্ট্রেস ও টেনশন কমে।
৩. রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে উপকারী- অনেকের রাতে পায়ে অস্বস্তি বা ছটফটানি হয়। এই আসন সেই সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. রক্তসঞ্চালন উন্নত করে- পা উপরে থাকার ফলে পায়ের রক্ত সহজে হৃদপিণ্ডের দিকে ফিরে আসে। এতে পা ফুলে যাওয়া বা ভারী লাগার প্রবণতা কমতে পারে।
৫. শরীরকে গভীরভাবে শিথিল করে- দিনভর কাজের পরে শরীর ও মনকে দ্রুত শান্ত করার অন্যতম সহজ উপায় এটি।
দ্বিতীয় সেরা পছন্দ: ‘চাইল্ডস পোজ’ (Adho Mukha Virasana)
যোগশিক্ষিকা পার্ডনের মতে, আরেকটি অত্যন্ত উপকারী আসন হলো চাইল্ডস পোজ।
কীভাবে করবেন?
১. হাঁটুর ওপর বসুন।
২. হাঁটু সামান্য ফাঁক করুন।
৩. শরীর সামনে ঝুঁকিয়ে উরুর মাঝখানে নামিয়ে আনুন।
৪. কপাল বালিশ বা মাদুরে রাখুন।
৫. হাত সামনে বা শরীরের পাশে রাখতে পারেন।
চাইল্ডস পোজের উপকারিতা
১. মানসিক অতিরিক্ত উত্তেজনা কমায়- যখন মাথা যেন থামতেই চায় না, তখন এই আসন মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
২.মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের উপশমে সহায়ক- অনেকের ক্ষেত্রে এটি মাথার চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৩.পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে- ফাঁপাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হালকা হজমের সমস্যায়ও কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।
৪.নিরাপদ ও সহজ- বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কঠিন যোগাসন করার প্রয়োজন নেই। এই আসনটি প্রায় সব বয়সের মানুষের জন্যই সহজ ও নিরাপদ।
শুধু আসন নয়, যোগের আসল শক্তি কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগের উপকারিতা শুধু শরীর বাঁকানো বা টান দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
নিয়মিত যোগচর্চার মাধ্যমে—
- একটি দৈনন্দিন রুটিন তৈরি হয়,
- সামাজিক যোগাযোগ বাড়ে,
- একাকীত্ব কমে,
- মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে,
- নিজের শরীরের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিশেষ করে মেনোপজের মতো জীবনের বড় পরিবর্তনের সময় এই সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেষকথা
পঞ্চাশের পরে শরীরকে জোর করে আগের মতো বানিয়ে তোলার চেষ্টা নয়, বরং শরীরের পরিবর্তনকে বুঝে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাই হলো সুস্থ থাকার চাবিকাঠি। সেই পথে ‘লেগস আপ দ্য ওয়াল’ একটি অসাধারণ সহজ অথচ কার্যকর যোগাসন। প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট এই ভঙ্গিতে থাকলেই ঘুমের মান উন্নত হতে পারে, মানসিক চাপ কমতে পারে এবং শরীর-মন দুটোই পেতে পারে গভীর আরাম।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিরুদ্ধে নয়, শরীরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করাই যোগব্যায়ামের আসল শিক্ষা।