Home খবর ইরানের হুঁশিয়ারি: বন্ধ হবে হরমুজ প্রণালী!

ইরানের হুঁশিয়ারি: বন্ধ হবে হরমুজ প্রণালী!

0 comments 4 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে আবারও এক বিপজ্জনক মোড়। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো ধরনের আঘাত আসলে তারা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেবে। তেহরানের এই ঘোষণা কেবল একটি সামরিক প্রতিরোধ নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এক সুস্পষ্ট কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কেন রণকৌশলে ‘ট্রাম্প কার্ড’ এই হরমুজ প্রণালী?

হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ‘চোকপয়েন্ট’। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সরু জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • তেল সরবরাহ: বিশ্বের মোট উত্তোলিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

  • সরবরাহ শৃঙ্খল: এই পথ বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়া।

  • অর্থনৈতিক অস্ত্র: ইরান এই পথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বশক্তিগুলোকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে।

পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু যখন ইজরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটি

IRGC-এর বিবৃতির ভাষা ছিল অত্যন্ত কড়া ও সুনির্দিষ্ট। তারা কেবল আত্মরক্ষার কথা বলেনি, বরং পাল্টা আক্রমণের ছকও স্পষ্ট করেছে:

  1. ইসরায়েলের জ্বালানি খাত: হামলার জবাবে ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

  2. আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি: যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইরান।

এর ফলে স্পষ্ট যে, সংঘাত শুরু হলে তা আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দ্রুত এক বহুমাত্রিক আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

‘ডিটারেন্স’ নাকি বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই অবস্থান মূলত ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধনীতির এক চরম রূপ। তেহরান বোঝাতে চাইছে, তাদের ওপর হামলার মূল্য প্রতিপক্ষকে এতটাই চড়া দামে দিতে হবে যে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা যেন দশবার ভাবে।

তবে এই কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একে বলা হচ্ছে ‘এস্কেলেশন স্পাইরাল’ বা উত্তেজনার ক্রমাগত বৃদ্ধি। একবার যদি হরমুজ প্রণালী আংশিকও বন্ধ হয়, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে, ব্যাহত হবে বিশ্ব বাণিজ্য এবং চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে।

ভারতের জন্য কেন এই পরিস্থিতি উদ্বেগের?

ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এই হুমকি বিশেষ চিন্তার কারণ:

  • জ্বালানি আমদানী: ভারতের আমদানিকৃত তেলের সিংহভাগ আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

  • অর্থনৈতিক প্রভাব: সরবরাহ বিঘ্নিত হলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা সরাসরি মুদ্রাস্ফীতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ সৃষ্টি করবে।

  • প্রবাসী শ্রমিক: ওই অঞ্চলে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়েও তৈরি হতে পারে বড় ঝুঁকি।

 

IRGC-এর এই ঘোষণা কেবল একটি সামরিক হুমকি নয়, এটি একটি শক্তিশালী জিও-ইকোনমিক স্টেটমেন্ট। ইরান বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে তাদের হাতে এমন এক ‘লিভারেজ’ বা প্রভাব রয়েছে যা দিয়ে তারা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নাড়িয়ে দিতে পারে। এখন বড় প্রশ্ন হলো—এটি কি কেবল কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি যুদ্ধের মেঘ বাস্তবে মহাপ্রলয় হয়ে নামবে? উত্তর যাই হোক, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

 

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles