Home খবর ৬ বছর পর খুলছে শিপকি লা পাস: ভারত-চীন বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

৬ বছর পর খুলছে শিপকি লা পাস: ভারত-চীন বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

0 comments 9 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: হিমাচল প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ের বুক চিরে তিব্বত অভিমুখী সেই ঐতিহাসিক বাণিজ্য পথ আবার সচল হতে চলেছে। দীর্ঘ ৬ বছরের স্তব্ধতা ভেঙে আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে শিপকি লা পাস (Shipki La Pass)। ভারত ও চীন—দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই সিদ্ধান্তকে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর প্রকোপ শুরু হলে সুরক্ষার খাতিরে এই বাণিজ্য পথটি প্রথম বন্ধ করা হয়। তবে শুধুমাত্র ভাইরাস নয়, এর পরপরই ভারত-চীন সীমান্তে তৈরি হওয়া সামরিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের মেঘ এই পথটিকে দীর্ঘ মেয়াদে অবরুদ্ধ করে দেয়। ফলে কিন্নৌরের মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর অর্থনীতি, যা মূলত এই বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা গত কয়েক বছরে কার্যত শুকিয়ে যাওয়া নদীর মতো নিস্প্রাণ হয়ে পড়ে।

প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের মতে, শিপকি লা পাস খুলে দেওয়ার এই প্রশাসনিক ঘোষণা আসলে একটি ‘নীরব কূটনৈতিক ভাষা’। দিল্লি এবং বেইজিংয়ের মধ্যেকার সম্পর্ক কখনোই সরলরৈখিক নয়; এটি সবসময়ই দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতার এক জটিল মিশ্রণ। দীর্ঘদিনের সামরিক অচলাবস্থার মাঝেও এই বাণিজ্যিক জানালাটি খুলে দেওয়া প্রমাণ করে যে, দুই রাষ্ট্রই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিসর বাড়াতে আগ্রহী।

ঐতিহাসিকভাবেই শিপকি লা কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং তিব্বত ও ভারতের মধ্যে সংস্কৃতির সেতু।তিব্বত থেকে লবণ, পশম, এবং নানা পাহাড়ি দ্রব্য আসত; ভারতের দিক থেকে যেত শস্য, মসলা, এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। রাষ্ট্রের কড়া সীমানা ও কাঁটাতার বারবার এই বিনিময়কে বাধা দিলেও, পাহাড়ি মানুষের পারস্পরিক নির্ভরতার আত্মিক সম্পর্ককে মুছে দিতে পারেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই পথ খোলা মানে কেবল পণ্য পরিবহন নয়, বরং কর্মসংস্থান ও পর্যটনের এক নতুন জোয়ার।

তবে এই পুনরুজ্জীবনের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতার সুরও লুকিয়ে আছে। কারণ, বাস্তবতা হলো—ভারত-চীন সম্পর্ক এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয়। সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি, অবিশ্বাসের মেঘও পুরো কাটেনি। তাই শিপকি লা পাসের এই পুনরায় খোলা একদিকে যেমন সম্ভাবনার দরজা, অন্যদিকে তেমনই এক পরীক্ষার ক্ষেত্র—এই সহযোগিতা কতটা টেকসই হতে পারে, তা সময়ই বলবে।

শিপকি লা পাস কেবল একটি ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নয়; এটি ইতিহাস, অর্থনীতি এবং রাজনীতির এক মিলিত প্রতীক। ১ জুন থেকে যখন আবার পাহাড়ের বাঁকে ট্রাকের চাকা ঘুরবে বা কাফেলার শব্দ শোনা যাবে, তখন তা প্রমাণ করবে—সীমানা যতই দুর্ভেদ্য হোক, মানুষের বিনিময় ও বেঁচে থাকার তাগিদ শেষ পর্যন্ত নিজের পথ খুঁজে নেয়।

 

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles