আসনরফার আগে সপা–কংগ্রেসের চাপের খেলা, শেষ কথা বলবে শীর্ষ নেতৃত্ব

যা জানা জরুরি
- উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে চাপ ও পাল্টা চাপের রাজনীতিতে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস।
- তবে দুই দলের নেতারা জানিয়েছেন, প্রকাশ্য বাক্যুদ্ধকে জোটের প্রকৃত আলোচনার সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না।
- কংগ্রেসের রাজ্য ভারপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম ১৫০ আসনের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে ২০০ আসনের কথা বলেছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন সমঝোতা নিয়ে চাপ ও পাল্টা চাপের রাজনীতিতে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস। তবে দুই দলের নেতারা জানিয়েছেন, প্রকাশ্য বাক্যুদ্ধকে জোটের প্রকৃত আলোচনার সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শীর্ষ নেতৃত্ব।
কংগ্রেসের রাজ্য ভারপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম ১৫০ আসনের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে ২০০ আসনের কথা বলেছেন। বিপরীতে সপা সাংসদ শিবপাল সিং পটেলের বক্তব্য, কংগ্রেসকে ৫০ আসন ছাড়লেও জোটের জেতার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অখিলেশ যাদব অবশ্য জয়ের সম্ভাবনাকেই আসন বণ্টনের মাপকাঠি করতে চাইছেন। কংগ্রেসের বিধায়ক মাত্র দু’জন হলেও লোকসভা ভোটের সাফল্য তাদের দাবি বাড়িয়েছে। দলটি পুরনো প্রভাব ফিরে পাওয়ার জায়গা চাইছে। সপার কাছে আবার বড় শরিকের অবস্থান বজায় রেখেই সহযোগীকে সঙ্গে রাখার চ্যালেঞ্জ।
এই টানাপড়েনের কেন্দ্রে রয়েছেন সাহারানপুরের কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ। তাঁকে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি করার সিদ্ধান্তে সপার একাংশ অস্বস্তিতে। মাসুদ দ্রুত জোট চূড়ান্ত করার দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, নেতৃত্ব দিতে চাইলে অখিলেশকে আসন ছাড়ার ক্ষেত্রেও উদার হতে হবে। সপা নেতাদের একাংশের আশঙ্কা, মুসলিমপ্রধান আসনগুলিতে কংগ্রেসের দাবি জোরালো করতেই মাসুদকে সামনে আনা হয়েছে।
সাহারানপুরে সংঘাতের সম্ভাবনা বিশেষভাবে স্পষ্ট। মাসুদ জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে জেলার যে পাঁচটি আসনে কংগ্রেস লড়েছিল, সেগুলিতে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় দল। অন্যদিকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের এক সপা নেতা সাহারানপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সমস্ত বিধানসভা আসনে নিজেদের দাবি জানিয়েছেন। সপা সূত্রের ব্যাখ্যা, কংগ্রেস দ্রুত সিদ্ধান্ত চায়, কারণ আলোচনা পিছোলে শেষ মুহূর্তে সপার দেওয়া আসন মেনে নেওয়ার চাপ বাড়তে পারে। যদিও সপা মুখপাত্র রাজেন্দ্র চৌধুরী বলেছেন, মাসুদের নিয়োগে আলোচনায় বিরূপ প্রভাব পড়বে না। মাসুদ আগে সপায় ছিলেন; পরে দল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরেছেন এবং সপার সমর্থনেই লোকসভা ভোটে জিতেছেন।
এর মধ্যেই রাজ্য সংগঠনও ঢেলে সাজিয়েছে কংগ্রেস। অজয় রাইয়ের জায়গায় সভাপতি হয়েছেন আরাধনা মিশ্র। প্রতাপগড়ের রামপুর খাসের এই বিধায়ক রাজ্যে কংগ্রেস পরিষদীয় দলেরও নেত্রী। প্রবীণ নেতা প্রমোদ তিওয়ারির কন্যা আরাধনা প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। পাশাপাশি দলিত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া এবং কুঁয়র সিং নিষাদকে প্রচার বিভাগের চেয়ারম্যান করার মধ্যে সামাজিক সমর্থন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলিত ও অতি অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে দল। এই সাংগঠনিক পরিবর্তনগুলি বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ, যেখানে নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে জোট রক্ষার বাস্তব পদক্ষেপও দেখা যাচ্ছে। প্রায় এক বছর প্রস্তুতি নিয়েও উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের ১১টি স্নাতক ও শিক্ষক আসনের নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। নতুন সভাপতি আরাধনা জানিয়েছেন, বিধানসভা ভোটকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত। দলীয় সূত্রের ব্যাখ্যা, পরিষদের ভোটে সপার সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়ালে ২০২৭ সালের জোট অটুট রাখা সহজ হবে। যদিও প্রস্তুতি নেওয়া কয়েকজন প্রার্থী নির্দল হিসেবে লড়ছেন। ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় প্রার্থীদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ফারাকও সামনে এসেছে। পরিষদের এই আসনগুলিতে ভোট হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর।
অন্যদিকে বিকল্প যোগাযোগও বজায় রাখছে দুই শিবির। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে স্বামীপ্রসাদ মৌর্য তাঁর দলের ইন্ডিয়া জোটে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সপা যোগাযোগ রাখছে আম আদমি পার্টির সঙ্গে। নিষাদ পার্টির নেতার প্রতিও সৌজন্যের বার্তা রয়েছে, যদিও এনডিএ ছাড়ার ঘোষণা হয়নি।
২০২৪ সালে উত্তরপ্রদেশে সপা জিতেছিল ৩৭টি লোকসভা আসন, কংগ্রেস ছয়টি। সেই শক্তির ভারসাম্যেই এবার দরকষাকষি। শেষ পর্যন্ত মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং রামগোপাল যাদবের স্তরেই সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। তবে এখনও কোনও আসনরফা চূড়ান্ত হয়নি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



