ধর্মান্তর আইনের বৈধতা নিয়ে মামলা, ছত্রিশগড়ের জবাব চাইল হাই কোর্ট

যা জানা জরুরি
- ছত্রিশগড়ের নতুন ধর্মান্তরবিরোধী আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় রাজ্য সরকারের জবাব চাইল হাই কোর্ট।
- মূল আবেদন এবং অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আর্জির বিষয়ে আপত্তি ও পাল্টা হলফনামা জমা দিতে সরকারকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
- নির্ধারিত সময় পেরোনোর পরেই মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ছত্রিশগড়ের নতুন ধর্মান্তরবিরোধী আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় রাজ্য সরকারের জবাব চাইল হাই কোর্ট। মূল আবেদন এবং অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আর্জির বিষয়ে আপত্তি ও পাল্টা হলফনামা জমা দিতে সরকারকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরোনোর পরেই মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ভি এন প্রসাদ রাওয়ের আবেদনের শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি কৃষ্ণ রাম মহাপাত্র এবং বিচারপতি সন্তোষ শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যের আইনজীবী রাহুল তামস্কর জানান, একই আইনের বিভিন্ন বিধান নিয়ে একাধিক মামলা ইতিমধ্যেই বিচারাধীন। সরকারের বক্তব্য প্রস্তুত করতে তিনি তিন সপ্তাহ সময় চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে। আবেদনকারীর আইনজীবীরাও রাজ্যকে সংক্ষিপ্ত সময় দেওয়ার পরে অন্তর্বর্তী আবেদনের পৃথক বিবেচনা চান। বেঞ্চ জানিয়েছে, মূল মামলার পাল্টা হলফনামার সঙ্গেই ওই আবেদনের বিরুদ্ধে সরকারের আপত্তি, যদি থাকে, জমা দিতে হবে।
মামলায় চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে ‘ছত্তীসগঢ় ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালাকে। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এস মুরলীধর ও মনোজ পরাঞ্জপে যুক্তি দেন, একজন মানুষ কোন ধর্মে বিশ্বাস করবেন, তা সরকারি অনুমোদন কিংবা আগাম প্রকাশ্য ঘোষণার উপর নির্ভর করতে পারে না। তাঁদের অভিযোগ, স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরের ক্ষেত্রেও একাধিক ছাড়পত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা বিবেকের স্বাধীনতা, ধর্মাচরণের অধিকার, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। ধর্মান্তরের প্রস্তাব প্রকাশ করে অন্যদের আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়ার বিধান স্থগিত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। আর্থিক ও ডিজিটাল অনুসন্ধান, ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই, বাধ্যতামূলক হাজিরা এবং তফসিলি এলাকায় গ্রামসভার মাধ্যমে ধর্মীয় সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখার ব্যবস্থাতেও আপত্তি তোলা হয়েছে।
ধর্মান্তরে সহায়তাকারী পুরোহিত বা যাজকদের সরকারি নিবন্ধনের শর্তও বিতর্কের বিষয়। আবেদনকারীর অভিযোগ, আইন প্রয়োগের নামে নির্বিচারে উপাসনাস্থল বন্ধ করা হচ্ছে। শুধু বেআইনি ধর্মান্তরের অভিযোগ বা আশঙ্কায় প্রার্থনা বন্ধ কিংবা ধর্মীয় কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট অপরাধের প্রাথমিক উপাদান ছাড়া এফআইআর এবং আইনসম্মত তদন্ত ছাড়া সাধারণ নজরদারি বন্ধের আবেদনও রয়েছে।
আইনটির ঘোষিত উদ্দেশ্য বেআইনি ধর্মান্তর প্রতিরোধ। আকাশবাণীর প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, বেআইনি ধর্মান্তরের অপরাধে সাত থেকে দশ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নাবালক, নারী, তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শাস্তি আরও কঠোর: দশ থেকে কুড়ি বছরের কারাদণ্ড এবং দশ লক্ষ টাকা জরিমানা।
গণধর্মান্তরের ক্ষেত্রে সাজা দশ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত হতে পারে; জরিমানার অঙ্ক সর্বোচ্চ পঁচিশ লক্ষ টাকা। ধর্মান্তরে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে হয়। বিধানসভায় পাস হওয়ার পরে এপ্রিল মাসে রাজ্যপালের সম্মতি পায় বিলটি। ফলে ধর্মান্তরের প্রক্রিয়া এবং তা ঘিরে সম্ভাব্য অপরাধের শাস্তি, দুটিই নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় এসেছে।
তবে এই পর্যায়ে আদালত আবেদনকারীর অভিযোগগুলিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য বলে ঘোষণা করেনি। আইনটির বৈধতা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী শুনানিতে অন্তর্বর্তী সুরক্ষার আবেদনে উভয় পক্ষকে বক্তব্য পেশের সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, জবাব চাওয়ার নির্দেশকে আইন বাতিল বা সংশ্লিষ্ট বিধানে স্থগিতাদেশ জারি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তির ধর্মীয় সিদ্ধান্তের সীমারেখা। অপরাধ প্রতিরোধের ব্যবস্থা কতটা প্রয়োজনীয়, আর সেই ব্যবস্থা স্বাধীন ধর্মবিশ্বাসের উপর কতটা বোঝা চাপাচ্ছে, সেই প্রশ্নই মামলায় উঠেছে। রাজ্যের জবাবের পরে আদালতের সামনে আইনের পক্ষে যুক্তি এবং তার প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি আরও স্পষ্ট হবে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ তাই নির্ভর করবে দুই পক্ষের বক্তব্যের বিচারিক মূল্যায়নের উপর। আপাতত নজর থাকবে রাজ্য সরকার বিতর্কিত বিধানগুলির প্রয়োজনীয়তা কীভাবে ব্যাখ্যা করে, সেদিকেই।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



