দেশ

ক্লাস চলাকালীন ছাদের পলেস্তারা খসে তিন শিশুর মাথায় চোট, বন্ধ রাজস্থানের সরকারি স্কুল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • রাজস্থানের উদয়পুর জেলার ভিন্ডারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তিন শিশুর মাথায় আঘাত লেগেছে।
  • মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, সকাল প্রায় ১১টায় ভানিয়াতালাই গ্রাম পঞ্চায়েতের নারদা গ্রামের স্কুলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
  • ঘটনার পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলভবনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

রাজস্থানের উদয়পুর জেলার ভিন্ডারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে তিন শিশুর মাথায় আঘাত লেগেছে। আরও দুই পড়ুয়া সামান্য আহত হয়েছে। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, সকাল প্রায় ১১টায় ভানিয়াতালাই গ্রাম পঞ্চায়েতের নারদা গ্রামের স্কুলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময়ে শ্রেণিকক্ষে ৩২ জন পড়ুয়া ছিল। ঘটনার পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলভবনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানশিক্ষক লাল সিং শক্তাওয়াত জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির কৃষ্ণা কুমারী ও কার্তিক এবং পঞ্চম শ্রেণির গণেশলাল রয়েছে। তাদের ভিন্ডারের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পরে তিনজনকেই বাড়ি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক কয়েকটি প্রতিবেদনে গুরুতর আঘাতের কথা বলা হলেও প্রধানশিক্ষক পরে জানিয়েছেন, কারও আঘাত গুরুতর নয়।

দুর্ঘটনার সময়ে শিশুরা শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করছিল। আচমকা ছাদের পলেস্তারার একটি অংশ তাদের উপরে ভেঙে পড়ে। বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় এবং মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৩৭। পড়ুয়ার সংখ্যা কম হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির শিশুদের একই ঘরে বসিয়ে পড়ানো হয় বলে জানা গেছে । মঙ্গলবারও একই ঘরে একাধিক শ্রেণির পড়ুয়ারা ছিল।

ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে। প্রধানশিক্ষকের বক্তব্য, স্কুলভবনটি তৈরি হয়েছিল ২০০১ সালে। শেষবার মেরামত করা হয়েছিল ২০২০ সালে। ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার কথা শিক্ষা দপ্তরকে আগেই জানানো হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেছেন। এই বক্তব্যের ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিপদের কথা জানার পরেও কেন ওই ঘরে ক্লাস চালু ছিল এবং মেরামতের প্রয়োজন যাচাই করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষা দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। কাছেই মাতাজির মন্দিরের পাশে অস্থায়ী জায়গায় ক্লাস সরানোর কথা জানানো হয়েছে। এতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। সেটি মেরামত করে ব্যবহারযোগ্য করা হবে, না অন্য স্থায়ী ব্যবস্থা হবে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট নয়।

শিক্ষা আধিকারিক রাজেন্দ্র চোবিসা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি; বিস্তারিত তথ্য পরে জানাবেন। ঘটনার পরে প্রশাসনের এই আলোচনার ফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।

রাজস্থানে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটল। ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ের দুরবস্থা সামনে এনেছে। অগস্টে তাদের সদস্যেরা একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেছিলেন। জয়পুরের বাগরু এলাকার রামপুরা-কানওয়ারপুরার একটি অনিরাপদ স্কুলভবনের বিষয়টিও এই অভিযানে উঠে আসে। পরে সেটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা অনুমোদন করা হয়।

ঘটনাটি ফিরিয়ে এনেছে গত বছরের ঝালাওয়াড়ের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্মৃতিও। ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই সেখানে সরকারি স্কুলভবন ধসে সাত শিশুর মৃত্যু হয় এবং ২৮ জন আহত হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি গ্রহণ করে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও জেলার পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল। সেখানেও অভিযোগ ছিল, ভবনের বিপজ্জনক অবস্থার কথা প্রশাসনকে জানানো সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভিন্ডারে আহত শিশুদের চিকিৎসার পরে বাড়ি ফেরানো গিয়েছে। কিন্তু এই স্বস্তির পাশাপাশি স্কুলের নিরাপত্তা নিয়ে মৌলিক উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। আগে জানানো অভিযোগের নথি, ভবন পরিদর্শনের রিপোর্ট এবং মেরামত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করলে বোঝা সম্ভব হবে, কোথায় ঘাটতি ছিল। শুধু দুর্ঘটনার পরে ভবন বন্ধ করলেই সেই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া যায় না।

এখন প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা পরীক্ষা, সময় বেঁধে প্রয়োজনীয় কাজ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ স্থানে নিয়মিত ক্লাসের ব্যবস্থা। অস্থায়ী জায়গায় পড়াশোনা চালানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের স্পষ্ট পরিকল্পনাও জরুরি। অভিভাবকদের আস্থা ফেরাতে প্রশাসনকে জানাতে হবে, তাঁদের সন্তানদের আবার কোনও অনিরাপদ ছাদের নীচে বসতে হবে কি না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles