জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, দিল্লিতে আটক ৭০০-র বেশি; খুলল মেট্রোর সব গেট

যা জানা জরুরি
- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে গান্ধী জয়ন্তীতে উত্তপ্ত হল রাজধানী।
- শুক্রবার, ২ অক্টোবর, দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতশোর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
- তাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের নেতা, ছাত্রসংগঠনের কর্মী এবং নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে গান্ধী জয়ন্তীতে উত্তপ্ত হল রাজধানী। শুক্রবার, ২ অক্টোবর, দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতশোর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের নেতা, ছাত্রসংগঠনের কর্মী এবং নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে দিনের বেলায় একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ থাকলেও পরে সমস্ত গেট খুলে দেওয়া হয়।
দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গোটা নেটওয়ার্কের সব স্টেশনে যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে ঢুকতে ও বেরোতে পারবেন। নয়াদিল্লি স্টেশনে ট্রেন বদলের সুবিধাও চালু রয়েছে। এর আগে রাজীব চক, জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, মণ্ডি হাউস-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মেট্রোর এই নিষেধাজ্ঞা সাধারণ যাত্রীদের যাত্রাপথেও প্রভাব ফেলে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী, আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিংহ, দলের দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এবং সঞ্জীব ঝা। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইসা সভাপতি নেহা বোরা এবং আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝাকেও আটক করা হয়। আইসা, এসএফআই, এনএসইউআই-সহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মীরা রাজধানীর নানা দিক থেকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন।
পুলিশ আগেই এই জমায়েতের অনুমতি দেয়নি। নয়াদিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় বিধিনিষেধ জারি করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং যান চলাচল বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। যন্তর মন্তরে যাওয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। অনুমতি ছাড়া জমায়েত করা যাবে না বলে বারবার ঘোষণা করতে থাকে পুলিশ। পুলিশ নাগরিকদের ওই এলাকায় বিক্ষোভে যোগ দিতে না আসতে এবং কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানিয়েছে।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ছোট ছোট দলে বিক্ষোভকারীরা আশপাশের রাস্তায় জড়ো হন। জনপথ রোডে ব্যারিকেডের সামনে স্লোগান ওঠে। ফেরোজ শাহ রোড ও অশোকা রোড দিয়েও অনেকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক ব্যক্তিদের বাসে তুলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে পৌঁছনোর আগেই বহু অংশগ্রহণকারীর যাত্রা থেমে যায়।
সৌরভ ভরদ্বাজ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ জানানো নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। প্রায় ছয় দিন আগে কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তা সত্ত্বেও অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ার অভিযোগ তোলেন। বিরোধী নেতাদের প্রশ্ন, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থানেই শান্তিপূর্ণ জমায়েত করতে দেওয়া হবে না কেন?
আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের অবস্থান, নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও। একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার আপত্তি তুলেছিলেন। কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের না জানিয়েই নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই তথ্য সামনে আসার পরে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা আরও তীব্র হয়।
এদিন মধ্য দিল্লিতে ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে, মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে একই দাবিতে বিক্ষোভ হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলন অন্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানান। দিল্লিতে মেট্রোর গেট খুলে যাওয়ায় যাতায়াতের বিধিনিষেধ শিথিল হলেও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



