দেশ

সিজেপির বিক্ষোভে শব্দদূষণ, রাজনৈতিক জলসায়ও কি একই আপত্তি? জাভেদের কটাক্ষ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে শব্দদূষণের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
  • তাঁদের উদ্দেশে শুক্রবার, ২ অক্টোবর, শ্লেষ ছুড়লেন গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার।
  • তাঁর প্রশ্ন, মহারাষ্ট্রের কোনও রাজনৈতিক দল ওই মাঠে সভা করলে কি একই তীব্রতায় প্রতিবাদ জানাবেন তাঁরা?

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে শব্দদূষণের অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের উদ্দেশে শুক্রবার, ২ অক্টোবর, শ্লেষ ছুড়লেন গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। তাঁর প্রশ্ন, মহারাষ্ট্রের কোনও রাজনৈতিক দল ওই মাঠে সভা করলে কি একই তীব্রতায় প্রতিবাদ জানাবেন তাঁরা? নাগরিক অসুবিধার যুক্তি সব সমাবেশের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই সামনে আনলেন তিনি।

এক্সে দেওয়া পোস্টে জাভেদ ব্যঙ্গের সুরে জানান, শিবাজি পার্কের কিছু বাসিন্দা শব্দদূষণ নিয়ে সচেতন হয়ে সিজেপির কর্মসূচি বাতিলের দাবি করছেন দেখে তিনি খুশি। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলের জমায়েতের ক্ষেত্রেও তাঁদের আপত্তির তীব্রতা একই থাকবে, সম্ভব হলে আরও বাড়বে। আপাত প্রশংসার আড়ালে প্রতিবাদ বেছে নেওয়ার প্রবণতাকেই বিঁধেছেন তিনি।

এই তুলনার নির্দিষ্ট পটভূমি রয়েছে। দাদরের শিবাজি পার্কে শিবসেনার বার্ষিক দশেরা সমাবেশ হয়। রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনাও সেখানে একাধিক সভা করেছে। ফলে রাজনৈতিক জমায়েতের জন্য পরিচিত এই মাঠে একটি বিক্ষোভের বিরোধিতা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।

ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ডাকে এ দিনের আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে ওঠা অভিযোগকে সামনে রেখে পথে নেমেছে সংগঠনটি। মুম্বইয়ে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় পতাকা নিয়ে জড়ো হন। তাঁদের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটারদের অধিকার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা।

এ দিনের কর্মসূচিতে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং সুরকার-গায়ক বিশাল দাদলানিও যোগ দেন। ফলে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে এই প্রতিবাদে বিনোদন জগতের পরিচিত মুখের উপস্থিতিও নজর কাড়ে। জাভেদের মন্তব্য আসে এই বিক্ষোভ ও তাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই।

কর্মসূচির আগে শিবাজি পার্কে নিরাপত্তা বাড়ায় মুম্বই পুলিশ। মাঠের প্রধান ফটক বন্ধ করে ব্যারিকেড বসানো হয়। আশপাশের এলাকা ঘিরে নজরদারি চালানো হয়। প্রস্তুত রাখা হয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী, কুইক রেসপন্স টিম এবং ডগ স্কোয়াড। পুলিশের বক্তব্য ছিল, প্রস্তাবিত কর্মসূচির অনুমতি নেই। বড় জমায়েতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতিও ছিল।

আন্দোলনের সাম্প্রতিক পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতভেদ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদতদন্ত। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী দশ মাসে অন্তত চোদ্দোবার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর, নাম তোলা ও বাদ দেওয়া এবং নির্বাচনী তথ্যভান্ডার পরিচালনার মতো বিষয় সেই বিতর্কের অন্তর্ভুক্ত।

তবে নির্বাচন কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। কমিশনের বক্তব্য, কোনও বিষয়ে সদস্যদের আলাদা মতামত, পর্যবেক্ষণ বা পরামর্শ থাকা আলোচনার স্বাভাবিক অংশ। এসআইআর-সহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি। ফলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ এবং কমিশনের ব্যাখ্যার মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

এই বৃহত্তর বিতর্কের মধ্যে জাভেদের মন্তব্য একটি নির্দিষ্ট নাগরিক প্রশ্ন তুলেছে। জনসমাবেশে শব্দ, ভিড় কিংবা যাতায়াতের অসুবিধা নিয়ে আপত্তি ওঠা অস্বাভাবিক নয়। বাসিন্দাদের উদ্বেগও বিবেচনার দাবি রাখে। কিন্তু সেই উদ্বেগের ভিত্তিতে কোনও কর্মসূচির বিরোধিতা করা হলে, একই ধরনের অন্য কর্মসূচিতেও একই মানদণ্ড প্রত্যাশিত। আয়োজকের পরিচয় অনুযায়ী আপত্তির মাত্রা বদলালে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

জাভেদের পোস্ট থেকে অবশ্য বাসিন্দাদের অতীতের প্রতিটি রাজনৈতিক সভা সম্পর্কে অবস্থান জানা যায় না। তাঁরা আগে কখনও প্রতিবাদ করেননি, এমন সিদ্ধান্তও ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে টানা যায় না। তাঁর কটাক্ষের লক্ষ্য মূলত ভবিষ্যতের আচরণে ধারাবাহিকতার পরীক্ষা: সিজেপির ক্ষেত্রে যে সংবেদনশীলতা দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলের সভার সময়ও তা দেখা যাবে কি না। শব্দদূষণের বিতর্ককে সেই সমান মাপকাঠির প্রশ্নেই নিয়ে এসেছেন তিনি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles