ট্র্যাকে সোনার দৌড়, ফোনের পর্দায় ঝড়: তারকা হয়ে উঠলেন ভিথ্যা

যা জানা জরুরি
- নয়াদিল্লি: “ফোনে যত বার আঙুল বোলাচ্ছি, তত বারই তোমার মুখ দেখতে পাচ্ছি।” বাবা-মায়ের এই কথাতেই নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলে দেখেছিলেন ভিথ্যা রামরাজ।
- ট্র্যাকে তাঁর দুরন্ত দৌড়ের চেয়েও যেন দ্রুত ছুটেছে খ্যাতি।
- আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ৪×৪০০ মিটার রিলের শেষ পর্বে ভারতকে সোনা এনে দেওয়া অ্যাথলিট এখন সমাজমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নয়াদিল্লি: “ফোনে যত বার আঙুল বোলাচ্ছি, তত বারই তোমার মুখ দেখতে পাচ্ছি।” বাবা-মায়ের এই কথাতেই নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলে দেখেছিলেন ভিথ্যা রামরাজ। তার পর বিস্ময়। ট্র্যাকে তাঁর দুরন্ত দৌড়ের চেয়েও যেন দ্রুত ছুটেছে খ্যাতি। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ৪×৪০০ মিটার রিলের শেষ পর্বে ভারতকে সোনা এনে দেওয়া অ্যাথলিট এখন সমাজমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে।
কিছু দিন আগেও ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার। সেটাই বেড়ে হয়েছে ৬৫ হাজার। সংখ্যাটি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে। অর্থাৎ, অনুগামী বেড়েছে প্রায় তেরো গুণ। নিজের এই আকস্মিক তারকাখ্যাতিতে হাসি আর বাঁধ মানছে না ভিথ্যার। যে দৌড় তাঁকে পদকের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে, তার দৃশ্য এখন ফোনের পর্দায় পর্দায়। বাবা-মায়ের মন্তব্য তাই নিছক পারিবারিক উচ্ছ্বাস নয়, মেয়ের বদলে যাওয়া পরিচিতিরও আভাস।
এবারের গেমসে ভিথ্যার সাফল্য অবশ্য একটি দৌড়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মেয়েদের ৪×৪০০ মিটার রিলেতে সোনার সঙ্গে মিক্সড রিলেতে রুপো এবং ৪০০ মিটার হার্ডলসে ব্রোঞ্জ জিতেছেন তিনি। একই প্রতিযোগিতায় তিন রঙের পদক জয় করেছেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। ব্যক্তিগত ইভেন্ট এবং দলগত লড়াই, দুই ক্ষেত্রেই নিজের সামর্থ্যের ছাপ রেখেছেন। ফলে তাঁকে ঘিরে আগ্রহের পেছনে রয়েছে গোটা প্রতিযোগিতা জুড়ে ধারাবাহিক সাফল্য।
তবু সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকছে মেয়েদের রিলের শেষ পর্বটি। অ্যাঙ্কর লেগে দৌড়েছিলেন ভিথ্যা। রিলের এই পর্বে আগের তিন সতীর্থের পরিশ্রমকে শেষ রেখা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব থাকে শেষ দৌড়বিদের কাঁধে। গতি ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া এবং দলের অবস্থান বুঝে নিজের দৌড় সাজানো, সব মিলিয়ে চাপও যথেষ্ট। সেই দায়িত্ব সামলেই ভারতের সোনাজয়ী অভিযানে স্মরণীয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
এই পদকের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ আইচি-নাগোয়ার এশিয়ান গেমসে অ্যাথলেটিক্স থেকে ভারতের একমাত্র সোনা এসেছে মেয়েদের এই রিলে থেকেই। তাই ভিথ্যার শেষ পর্বের দৌড় শুধু ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত হয়ে থাকেনি। দেশের অ্যাথলেটিক্স অভিযানের অন্যতম প্রধান ছবিও হয়ে উঠেছে। দলগত সাফল্যের সেই মুহূর্তে তাঁর গতি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই দর্শকদের নজর কেড়েছে; সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে আরও বড় পরিসরে।
হার্ডলসের ব্রোঞ্জটিরও আলাদা ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। এই পদক জেতার পথেই পি টি ঊষার ৪২ বছরের পুরনো জাতীয় রেকর্ড ভেঙেছেন ভিথ্যা। ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে ঊষার নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘস্থায়ী একটি মানদণ্ড অতিক্রম করা তাঁর এবারের অভিযানের বড় প্রাপ্তি। সোনার ঝলক এবং সমাজমাধ্যমের উন্মাদনার আড়ালে এই কৃতিত্বটিও সমান মনোযোগ দাবি করে। কারণ, এখানে তাঁর সাফল্যের পরিমাপ হচ্ছে দেশের দীর্ঘদিনের সেরা পারফরম্যান্সের নিরিখে।
সেই লক্ষ্যের দিকে এগোনোর একটি উল্লেখযোগ্য ধাপ এসেছিল ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে। সেখানে ঊষার রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন ভিথ্যা। এবার সেই সীমা পেরোলেন। আগের সাফল্যকে অতিক্রম করার এই যাত্রা তাঁর তিন পদকের কাহিনিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। রিলের শেষ পর্বে যে অ্যাথলিটকে দেখে দর্শক মুগ্ধ, হার্ডলসেও সেই অ্যাথলিট দেশের রেকর্ড নতুন করে লিখেছেন। একই আসরে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জে তাঁর এই উপস্থিতিই নজরকাড়া। তাঁর এবারের পদকতালিকায় তাই নিছক সংখ্যার বৈচিত্র্য নেই; আছে ব্যক্তিগত উৎকর্ষ এবং সতীর্থদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়ার কৃতিত্ব।
রিল আর সোয়াইপের যুগে কোনও খেলোয়াড়ের একটি অসাধারণ মুহূর্ত খুব দ্রুত অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ভিথ্যার ক্ষেত্রেও সেই গতি স্পষ্ট। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওর পিছনে রয়েছে তিনটি পদক, একটি জাতীয় রেকর্ড এবং দলের হয়ে কঠিন দায়িত্ব পালনের সাফল্য। অনুগামীর সংখ্যা তাঁর নতুন জনপ্রিয়তার হিসাব দিচ্ছে; ট্র্যাকের ফলাফল জানাচ্ছে সেই জনপ্রিয়তার কারণ। বাবা-মা ফোনের পর্দায় মেয়েকে বারবার আবিষ্কার করছেন, আর ভিথ্যা আবিষ্কার করছেন নিজের দৌড় কত দূর পৌঁছেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



