International

মার্কিন ভিসায় বাড়ল সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই, নতুন নিয়মে কারা পড়ছেন?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • আমেরিকার ভিসা পাওয়ার পথে এ বার আরও কয়েক শ্রেণির আবেদনকারীর অনলাইন পরিচয় খতিয়ে দেখবে মার্কিন প্রশাসন।
  • ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, নির্দিষ্ট পেশাজীবী এবং তাঁদের নির্ভরশীলদের আরও বিস্তৃত অনলাইন যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
  • মার্কিন বিদেশ দফতরের ১৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, I, TN এবং TD শ্রেণির নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের গোপনীয়তা সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করতে…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

আমেরিকার ভিসা পাওয়ার পথে এ বার আরও কয়েক শ্রেণির আবেদনকারীর অনলাইন পরিচয় খতিয়ে দেখবে মার্কিন প্রশাসন। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, নির্দিষ্ট পেশাজীবী এবং তাঁদের নির্ভরশীলদের আরও বিস্তৃত অনলাইন যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন বিদেশ দফতরের ১৮ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, I, TN এবং TD শ্রেণির নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের গোপনীয়তা সেটিং ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করতে হবে।

কারা পড়ছেন?

I ভিসা মূলত বিদেশি সংবাদমাধ্যম, প্রেস ও রেডিয়োর প্রতিনিধিদের জন্য। ফলে আমেরিকায় পেশাগত কাজে যাওয়া ভারতীয় সাংবাদিকদের একটি অংশও এই নিয়মের আওতায় পড়বেন। TN ভিসা আমেরিকা-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্যচুক্তি, অর্থাৎ USMCA-র অধীনে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কানাডীয় ও মেক্সিকান পেশাজীবীদের জন্য। তাঁদের যোগ্য নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে TD শ্রেণি।

তবে TN-এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কানাডীয় নাগরিকদের সাধারণত TN মর্যাদায় আমেরিকায় প্রবেশের জন্য কনস্যুলেট থেকে TN ভিসা নিতে হয় না। ফলে নতুন নির্দেশটি প্রত্যেক কানাডীয় TN পেশাজীবীর ক্ষেত্রে একই ভাবে প্রযোজ্য হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মূল নির্দেশিকাটি অবশ্য I, TN ও TD ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের কথা বলেছে।

প্রোফাইল খুলুন

নতুন নিয়মে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের privacy settings ‘public’ বা ‘open’ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে ভিসা যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর অনলাইন কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে পারবেন।

এখানে ‘সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য জমা দেওয়া’ এবং ‘প্রোফাইল সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া’—দু’টি বিষয় আলাদা। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণির ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শর্তটিও স্পষ্ট ভাবে যুক্ত হয়েছে।

নিয়মটা নতুন নয়

আমেরিকার ভিসা ব্যবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই অবশ্য একেবারে নতুন পদক্ষেপ নয়। আগে থেকেই বেশ কিছু ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মার্কিন বিদেশ দফতরের মার্চের ঘোষণায় F, M ও J শিক্ষার্থী এবং বিনিময় কর্মসূচির আবেদনকারীদের পাশাপাশি H-1B ও H-4-সহ আরও একাধিক শ্রেণিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছিল।

এরও আগে, ২০১৯ সাল থেকে অধিকাংশ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসা আবেদনকারীর কাছে সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিতি বা ব্যবহারকারীর নাম চাওয়া শুরু হয়েছিল। তবে সেই তথ্য দেওয়ার সঙ্গে নিজের প্রোফাইল সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার শর্ত এক নয়। নতুন সম্প্রসারণে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য এই ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করার নির্দেশটিই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

কী খুঁজবে এআই নয়, কর্মকর্তা

ওয়াশিংটনের বক্তব্য, ভিসা যাচাইয়ের সময় পাওয়া সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহার করে এমন আবেদনকারীকে শনাক্ত করা হয়, যিনি আমেরিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন বা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্য কি না এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার প্রকৃত অভিপ্রায় রয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের অংশ।

তবে অনলাইনে ঠিক কোন ধরনের পোস্ট, ছবি, মন্তব্য বা তথ্য কী মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হবে, ১৮ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় তার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি। ফলে শুধু ‘প্রোফাইল পাবলিক’ হলেই কী ভাবে সেই তথ্য বিচার করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না।

ভারতীয়দের কী?

ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হল নিজের ভিসার শ্রেণি চিহ্নিত করা। এই নতুন ঘোষণায় সাধারণ পর্যটক বা ব্যবসায়িক সফরের প্রত্যেক আবেদনকারীকে নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়নি। অন্য দিকে, ভারতীয় শিক্ষার্থী, কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই আগেই কার্যকর রয়েছে।

আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার—এই নতুন নির্দেশ ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই যাঁদের পেশাগত সফরের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সময় হাতে রাখা বাস্তবিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে যাচাইয়ের কারণে প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা পেতে কতটা অতিরিক্ত সময় লাগবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা মার্কিন বিদেশ দফতর ঘোষণা করেনি।

অনলাইনে আরও এক জানালা

মার্কিন ভিসা ব্যবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই ধীরে ধীরে আরও বেশি ভিসা শ্রেণিতে ছড়াচ্ছে। ১ অক্টোবরের সম্প্রসারণে I, TN এবং TD যুক্ত হওয়ায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং USMCA-র আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের অনলাইন উপস্থিতিও এখন এই যাচাইয়ের অংশ।

ফলে ভিসা আবেদন আর শুধু ফর্ম, নথি এবং সাক্ষাৎকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আবেদনকারীর প্রকাশ্য অনলাইন উপস্থিতিও হয়ে উঠছে যাচাইয়ের আর একটি উৎস। আর নতুন নিয়মের ক্ষেত্রে সেই ‘অনলাইন জানালা’টিই খুলে রাখতে বলা হচ্ছে আবেদনকারীদের।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles