আইএমকে-যোগের অভিযোগে তিন রাজ্যে এনআইএ অভিযান, বাংলার চারজন-সহ গ্রেফতার ১৩

যা জানা জরুরি
- নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-র শাখা ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ (আইএমকে)-র সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন রাজ্য থেকে ১৩ জনকে গ্রেফতার করল…
- মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলমে একযোগে অভিযান চালানো হয়।
- ধৃতদের মধ্যে আটজন অসমের, চারজন পশ্চিমবঙ্গের এবং একজন কেরলমের।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-র শাখা ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ (আইএমকে)-র সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন রাজ্য থেকে ১৩ জনকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলমে একযোগে অভিযান চালানো হয়। ধৃতদের মধ্যে আটজন অসমের, চারজন পশ্চিমবঙ্গের এবং একজন কেরলমের। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে সংগঠনটির প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরেই এই তদন্ত চলছে।
তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন রাজ্যের মোট ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। অভিযানে মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ ও মেমরি কার্ড-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। এনআইএ-র দাবি, ধৃতদের কার্যকলাপের সঙ্গে অনলাইনে উগ্রপন্থায় প্ররোচনা দেওয়ার একটি চক্রের যোগ রয়েছে। এই মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চার্জশিটও পেশ করা হয়েছে।
মামলার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বরে। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর অসম পুলিশ অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলা থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করে। ৩০ ডিসেম্বর মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। অসম পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছিল। অভিযোগ, বাংলাদেশে থাকা আইএমকে-র পরিচালকেরা ‘পূর্ব আকাশ’ নামে একটি টেলিগ্রাম গোষ্ঠীর মাধ্যমে উগ্রপন্থার প্রচার চালাচ্ছিলেন। ধৃত ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ২৫ জুন চার্জশিট দেওয়া হয়। তাঁরা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৯ সালের মে মাসে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় জেএমবি এবং তার সমস্ত শাখা সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় এনআইএ। গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় আগে ধৃতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সংস্থার বক্তব্য, জেএমবি-র প্রবীণ সদস্য ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠনটির কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে আইএমকে তৈরি করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংগঠনের মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণদের উগ্রপন্থায় আকৃষ্ট করা ও সদস্যসংখ্যা বাড়ানো ছিল এই তৎপরতার উদ্দেশ্য। তদন্তকারীরা এই কার্যকলাপকে বৃহত্তর সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে বর্ণনা করেছেন।
এনআইএ-র অভিযোগ, গোপন বৈঠক, ধর্মীয় শিক্ষাদানের আড়ালে উগ্রপন্থায় দীক্ষা, চরমপন্থী প্রচারসামগ্রী বিতরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছিল। পাশাপাশি আইএমকে ও জেএমবি-র নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য তৈরির চেষ্টা চলছিল বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তের এই বিবরণে সরাসরি বৈঠকের পাশাপাশি অনলাইন যোগাযোগের ভূমিকাও উঠে এসেছে।
অসমে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন বরপেটা জেলার বাসিন্দা বলে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে সরভোগের ফারুক আবদুল্লা, জাকির হুসেন ও চাঁদবর আলি, বরপেটা রোডের মুস্তাফিজুর রহমান, নিশুকার ইয়াকুব আলি এবং হাউলির যশিহাটিপাড়ার রকিবুল ইসলাম রয়েছেন। এই মামলায় আরও দশজন অভিযুক্ত পলাতক বলে এনআইএ জানিয়েছে; তাঁদের নয়জন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক।
পশ্চিমবঙ্গে অভিযানের সূত্রে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের একটি মসজিদের ইমাম পিয়ার মহম্মদের গ্রেফতারের খবর পাওয়া গিয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বাংলাদেশ সফর এবং যোগাযোগের তথ্য তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। তাঁর ঘর থেকে পাওয়া একটি ডায়েরিতে বাংলাদেশের কয়েকজনের ফোন নম্বর থাকার কথাও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে পিয়ার মহম্মদের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের বক্তব্য, তিনি নির্দোষ। তাঁর আইনজীবীর দাবি, টেলিগ্রাম অ্যাপে বার্তালাপের ভিত্তিতে তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে তাঁর তাবলিগ জামাতের কাজে বৈধভাবে বাংলাদেশ যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিদেশ সফর ও যোগাযোগের তথ্যের সঙ্গে অপরাধের অভিযোগের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা তদন্তের বিষয়।
গ্রেফতার এবং তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগকে অপরাধ প্রমাণের সমার্থক হিসেবে দেখা যায় না। কার কী ভূমিকা ছিল, বাজেয়াপ্ত সামগ্রী অভিযোগকে কতটা সমর্থন করে এবং অভিযুক্তদের ব্যাখ্যা কী—বিচারপ্রক্রিয়ায় সেই বিষয়গুলিই গুরুত্বপূর্ণ হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



